প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] মিয়ানমারের স্থানীয় সশস্ত্র বাহিনীর কাছে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে সাধারণ গণতন্ত্রপন্থীরা

সুমাইয়া ঐশী: [২] চলতি বছরের ১ জানুয়ারি মিয়ানমারে সামরিক অভুত্থান হয়। এর ফলে দেশটিতে ক্ষমতা দখল করে জান্তা বাহিনী এবং গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের ওপর পাশবিক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়। ঐ সময় আরো সক্রিয় হয় দেশটির স্থানীয় সশস্ত্র বাহিনীগুলো। তারা ১৯৪৮ সাল থেকেই মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। আর এবারে সাধারণ গণতন্ত্রপন্থীদেরও জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে এসব বাহিনী। বিবিসি

[৩] মিয়ানমারে সবমিলিয়ে ১৩৫টি এমন স্থানীয় সশস্ত্র বাহিনী সক্রিয় আছে। এগুলো অঞ্চলভেদে বড় আটটি গ্রুপে ভাগ হয়ে কাজ করে। এসব সশস্ত্র বাহিনীর এক তৃতীয়াংশই বৌদ্ধ বামার হতে তৈরি। এছাড়া এসব সশস্ত্র গোষ্ঠী তৈরিতে ভূমিকা রয়েছে কাচিন, শান, চীন, রাখিন, কায়াহ, কায়িন এবং মোনোর।

[৫] ১৮২৮ থেকে ১৯৪৮ প্রায় ১২০ বছর ব্রিটিশ শাসনাধীন থাকা অবস্থায় অত্যাচারের জবাব দিতে এসব বাহিনী মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে থাকে। স্বাধীনতার পর একটি ক্ষণস্থায়ী গৃহযুদ্ধ শুরু হয় মিয়ানমারে। এর মধ্যে কিছু বাহিনী সরকারের হয়ে কাজ করতে চায় এবং অন্যরা নিজেদের আলাদা একটি রাষ্ট্র তৈরির জন্য এক হয়।

[৬] এরপর ১৯৬২ সালে গড়ে ওঠে জান্তা সামরিক বাহিনী, যাদের লক্ষ্য ছিলো একটি সংঘবদ্ধ বার্মা রাষ্ট্র নিশ্চিত করা। এরপর ১৯৮০ সালে একটি নাগরিকত্ব আইনের মাধ্যমে এসব সশস্ত্র বাহিনীকে সেই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

[৭] সেই থেকে জান্তার বিরুদ্ধে সক্রিয় হয়ে ওঠে এসব বাহিনী এবং তাদের নিজেদের একটি সশস্ত্র ও প্রশিক্ষিত গোষ্ঠী তৈরির প্রয়োজন পাড়ে।

[৮] ২০১৫ সালে অং সানের মেয়ে অং সান সুচি ক্ষমতায় আসেন। তিনি শান্তিচুক্তি এগিয়ে নিতে সচেষ্ট থাকলেও ফেব্রুয়ারির সামরিক অভ্যুত্থানের কারণে তা থমকে যায়। এরপর বিভিন্ন স্থানীয় সশস্ত্র বাহিনী জান্তার বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করে।

[৯] জান্তা বাহিনীর নৃশংতার কারণে মিয়ানমারের সাধারণ নাগরিক এক হয় এবং তারা এখন জান্তার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে সশস্ত্র এসব বাহিনীর কাছেই। বিশ্লেষকরা বলছেন, তেমন হলে জান্তার ওপর একটি চাপ সৃষ্টি হবে। তবে এর প্রভাব হতে পারে দীর্ঘমেয়াদী। সম্পাদনা : রাশিদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত