প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] সপ্তাহের ব্যবধানে বাজারে দাম বেড়েছে ডিম-সবজির

শাহীন খন্দকার: [২] সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিভিন্ন ধরনের পণ্যের দাম। শুক্রবার রাজধানীর বাজারগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, করোনা আর বৃষ্টির অজুহাতে অধিকাংশ সবজির দাম আবারও বেড়েছে। এছাড়াও দাম বেড়েছে সয়াবিন তেল, ডিম, মুরগি, আলু, আদা ও রসুনের। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের মধ্যে বাড়ছে পুষ্টি সংকট। ব্যবসায়িরা বলছেন, বাধ্য হয়েই তাদের বাড়তি দামে অধিকাংশ পণ্য বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, আয় কারো বাড়ছে না, ফলে বাধ্য হয়ে জমানো টাকা থেকে সংসার সামাল দিতে হচ্ছে। অথবা বাজারের তালিকা ছোট করতে হচ্ছে বা পরিমাণে কম কিনতে হচ্ছে প্রয়োজনীয় জিনিস। এ প্রসঙ্গে রাজধানীর মোহাম্মদপুর শেখের টেক এলাকার ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাওয়ায় সঞ্চয় ভেঙে দৈনন্দিন সাংসারিক কার্যক্রম চালাচ্ছি।

[৩] ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রায় এক মাস ধরে বাজারে ডিমের দাম বেড়েই চলেছে। এক মাস আগে ২৮ টাকা হালি ডিম এখন বিক্রি হচ্ছে ৩৭ টাকা হালি দরে। গত সপ্তাহে যে ডিমের দাম ছিল ৩৫ টাকা, আজ সেই ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩৭ টাকা হালি। টিসিবির হিসাবে গত এক মাসে ডিমের দাম বেড়েছে ২৪ শতাংশের বেশি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ডিমের দাম বেড়েছে। তবে প্রতিবছরই এ সময়ে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে যায়। এছাড়া অনেক খামার ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। আবার মুরগির খাবারের দাম বাড়তি। সবকিছু মিলে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে গেছে।

[৪] এদিকে দীর্ঘদিন ধরে ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আলুর দাম একলাফে ২৫ টাকা হয়েছে। আলুর দাম বাড়লেও সপ্তাহের ব্যবধানে অপরিবর্তিত রয়েছে পেঁয়াজের দাম। গত সপ্তাহের মতো পেঁয়াজের কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর নূরজাহান রোডের রাসেল মিঞা জানান, করোনার কারণে ও জীবনযাপনের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তার ব্যবসা এখন অনেকটাই ছোট করতে হয়েছে। ঢাকা থেকে অনেকেই চলে গেছেন, কিন্তু জিনিসপত্রের দাম কমছে না। এদিকে ঢাকার বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়েছে ২০ টাকা পর্যন্ত।

[৫] চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল-ডাল, আটা-ময়দাও। বৃষ্টির অজুহাতে করলা, উচ্ছে, টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজিতে। শসা, বেগুন, চিচিঙ্গা, ঝিঙা, ধুন্দল, বরবটি, কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৬০-৬৫ টাকা কেজিতে। এছাড়া কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ৬০-৭০ টাকা কেজিতে। পেঁপে, পটল, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আর ঢ্যাড়স বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা কেজিতে। জালি কুমড়া বিক্রি হচ্ছে ৫০-৫৫ টাকায়। লাউও বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। শাকের মধ্যে দশ টাকার কমে কোনো আঁটি বিক্রি হচ্ছে না। পুঁইশাক, লাউশাক, পাটশাক বিক্রি হচ্ছে ১০ টাকা আঁটিতে। তবে তিনটি নিলে বিক্রি হচ্ছে ৫ টাকা কমে ২৫ টাকায়। ডাটা বিক্রি হচ্ছে ১৫-২০ টাকা আঁটিতে।

[৬] মাছের মধ্যে বাজারে ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১৪শ থেকে ১৬শ টাকা দরে। ৮শ গ্রাম ওজনের ইলিশ মাছ বিক্রি হচ্ছে ১২শ টাকা দরে। বড় চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ৯শ টাকা কেজিতে। গলদা চিংড়ি ৭শ থেকে ৮শ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি রুই মাছ ২০০-২৫০ টাকায়, কাতল ২৮০-৩২০ টাকায়, পাঙাশ ১২০-১৭০ টাকা, পাবদা ৫০০-৫৫০ টাকা, ছোট তেলাপিয়া ১৪০-১৫০ টাকা এবং বড় তেলাপিয়া মাছ ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

[৭] এদিকে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫-৪৫ টাকা কেজিতে। এর মধ্যে বৃষ্টিতে ভেজা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৩৫ টাকা কেজিতে। এগুলোর বেশিরভাগই আমদানি করা। দেশি ভালো মানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০-৪৫ টাকা কেজিতে। রসুনের মধ্যে ছোট দানার দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা কেজিতে। আর ভারতীয় মোটা দানার রসুন বিক্রি হচ্ছে ১২০-১৩০ টাকা কেজিতে। ডালের মধ্যে ভালো মানের মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০-১২০ টাকা কেজিতে। আর ১০৫ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে মধ্যম মানের মসুর ডাল।

[৮] গত কয়েক মাস ধরে নতুন করে বেড়েছে সোয়াবিন তেলের দাম ক্রেতাদের নাগালের বাইরে গেছে, বর্তমানে বোতলজাত এক লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১৬০ টাকা। দুই দিন আগেও এই সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে ১৫০ টাকায়। সরকারি বিপণন সংস্থা টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, দুই দিনের ব্যবধানে এই সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৪ শতাংশ। এক মাসের ব্যবধানে ৭ শতাংশ। গত এক বছরের ব্যবধানে বেড়েছে ৪৩ শতাংশ। টিসিবির তথ্যানুযায়ী, খোলা পামওয়েলের দাম কেজিতে বেড়েছে ৬৬ শতাংশ। সুপার পামওয়েলের দাম বেড়েছে ৬০ শতাংশ। ৫ লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম বেড়েছে ৪৩ দশমিক ৩০ শতাংশ। আর খোলা সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৪৪ শতাংশ। সম্পাদনা: মেহেদী হাসান

সর্বাধিক পঠিত