প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ​য‌শো‌রে ভিটা‌মিন এ প্লাস ক‌্যা‌ম্পেইন এর ঈর্ষনীয় সাফল‌্য

র‌হিদুল খান:[২] যশোরেও জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন ১৯ জুন শেষ করার পরিকল্পনা থাকলেও সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীনের নেতৃত্বে দু’দিন আগেই অর্জিত হয়েছে লক্ষ্যমাত্রা। ‘ভিটামিন-এ খাওয়ান, শিশু মৃত্যুর ঝুঁকি কমান’ এ স্লোগান গত ৫ জুন শনিবার থেকে সারাদেশের মতো যশোরেও জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন হয়।

[৩] প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়েছে।করোনা মহামারির মধ্যেও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্যাম্পেইনটি সফলভাবে উদযাপন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিল জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। ক্যাম্পেইন ১৯ জুন শেষ করার টার্গেট নেয়া হয়েছিল। সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীনের নেতৃত্বে দু’দিন আগে অর্থাৎ ১৭ জুন সফলভাবে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে।

[৪] এটি অর্জন করতে প্রতিদিন সিভিল সার্জন জেলা থেকে উপজেলা, ইউনিয়ন এমনকী গ্রামে গ্রামে গিয়ে শিশুদের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো নিশ্চিত করেছেন। যা যশোরের ইতিহাসে বিরল। করোনা মহামারির আতংকে যাতে কোনো অভিবাভক সন্তানকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোতে অবহেলা না করেন সেজন্য মাঠ পর্যায়ে গিয়ে তদারকি করেছেন সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন। এতে তিনি সফল হয়েছেন।

[৫] ১৭ জুন দুপুর দেড়টার দিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে হাজির হন উপশহরের ৭ নম্বর সেক্টরে স্বাস্থ্যকর্মী সালমা খাতুনের বাড়িতে ‘ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের সমাপ্ত দিনে। সেখানে তিনি ক্যাম্পেইনের তদারকি করেন।এ সময় তার সাথে উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন অফিসের মেডিকেল অফিসার রেহনেওয়াজ রনি, স্যানেটারি ইন্সপেক্টর শিশির কান্তি পাল, প্রশাসনিক কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান প্রমুখ।

[৬] সিভিল সার্জন বলেন, শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর পাশাপাশি শিশুদের খাদ্যর উপর বিশেষ নজর দিতে হবে। আধা সেদ্ধ ডিম, সবজির স্যুপ বা ছোট মুরগির স্যুপ শিশুদের জন্য ভালো। বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানমিশ্রিত খাবার বাইরে থেকে কিনে আনার চেয়ে ঘরেই বিভিন্ন পুষ্টিকর উপাদান দিয়ে সুস্বাদু খাবার তৈরি করে দিতে হবে। এক বছরের বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে মায়ের দুধের পরিমাণটা ধীরে ধীরে কমিয়ে দিয়ে সুষম খাবার দিতে হবে।

[৭] উল্লেখ্য, যশোর পৌরসভাসহ জেলার আট উপজেলার ৯২টি ইউনিয়নে মোট ৩ লাখ ২৪ হাজার ৯শ’ ১৬ শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী ৩৭ হাজার ৩শ’ ৯৪ শিশুকে নীল রঙের এবং ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ লাখ ৮৭ হাজার ৫শ’ ২২ শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। কর্মসূচি সফল করতে ৪ হাজার ৫শ’ ৭৬ জন কর্মী কাজ করেছেন।

[৮] ৫ জুন থেকে শুরু হয়ে ১৭ জুন পর্যন্ত চলমান ক্যাম্পেইনে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুকে ভিটামিন এ ক্যাপসূল খাওয়ানো হয়েছে ৩৭ হাজার ৪শ’ ৩৬ শিশুকে। যা শতকরা হার, ১০০.১১ শতাংশ।অপরদিকে, ১২ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮শ’ ১৪ শিশুকে ক্যাপসুলটি খাওয়ানো হয়েছে। যা শতকরা হার ৯৮.৭১ শতাংশ।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত