প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডিবিবিএলের এটিএম বুথের সার্ভার সংযোগ পরিবর্তন করে ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা আত্মসাৎ, গ্রেপ্তার চার

সুজন কৈরী : [২] ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এটিএমের ইলেক্ট্রিক জার্নাল পরিবর্তন করে ২ কোটি ৫৭ লাখ ১ হাজার টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা সাইবার এন্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- সায়মা আক্তার, আল-আমিন বাবু, মেহেদী হাসান ওরফে মামুন ও আসাদুজ্জামান আসাদ। তাদের কাছ থেকে ৪টি মোবাইল ফোনসেট উদ্ধার করা হয়েছে।

[৩] মঙ্গলবার দুপুর থেকৈ ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে সোশ্যাল মিডিয়া ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম।

[৪] পুলিশ বলছে, এই ঘটনার মূল পরিকল্পাকারী ডাচ বাংলা ব্যাংকের এডিসি ডিভিশনের (ঢাকা) সিনিয়র অফিসার মীর মো. শাহারুজ্জামান রনি পলাতক রয়েছেন। তিন বছরে আড়াই কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করেছেন তিনি। বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাত করে রনি দেশ ছেড়েছেন। গ্রেপ্তার চারজনকে ব্যবহার করেই মূলত টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন রনি। এর জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ৬৩৭টি অ্যাকাউন্ট।

[৫] রনি দীর্ঘদিন ধরে তার স্ত্রীসহ অন্য সহযোগীদের দিয়ে এটিএম বুথে লেনদেন করাতেন। এরপর এটিএমের ইলেক্ট্রনিক জার্নাল এমনভাবে পরিবর্তন করে দিতেন যে টাকা তুলেও তথ্য সংরক্ষণ হতো এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন ব্যর্থ হয়েছে।

[৬] পুলিশ জানায়, এটিএম মনিটরিং রোস্টার টিমে কর্মরত অবস্থায় রনি নিজে উপস্থিত থেকে এবং কৌশলে বিভিন্ন এটিএমের ইলেক্ট্রনিক জার্নাল পরিবর্তন করে ১ হাজার ৩৬৩টি লেনদেনের মাধ্যমে ২ কোটি ৫৭ লাখ ১ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে দেশ ত্যাগ করেন। তদন্তে রনির স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ অর্থের সন্ধান পাওয়া গেছে।

[৭] বুধবার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এ কে এম হাফিজ আক্তার বলেন, কয়েকটি ধাপে এই টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসাদুজ্জামান বিসমিল্লাহ বিডি এন্টারপ্রাইজ নামে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্টশিপ নেন। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের বহুল শ্রমিক সম্বলিত প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের স্যালারি একাউন্ট করার কথা বলে তাদের বিভিন্ন ডকুমেন্ট সংগ্রহ করেন। ডিবিবিএল এজেন্টের আবেদন করা একাউন্ট ও এটিএম কার্ডগুলো তৈরি হওয়ার পর গ্রাহকের কাছে পাঠানোর উদ্দেশ্যে স্ব-স্ব এজেন্টের কাছে হস্তান্তর করে।

[৮] কিন্তু গ্রেপ্তার আসাদ কার্ডগুলো তাদের অজান্তে গ্রেপ্তার আল আমিনের কাছে টাকার বিনিময়ে হস্তান্তর করেন। আল আমিন কার্ডগুলোতে ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা করে ক্রেডিট করেন। ওই টাকা এটিএম থেকে ডেবিট করার সময় ডাচ বাংলা ব্যাংকের আইটি অফিসার চক্রের মূল হোতা মীর মো. শাহারুজ্জামানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। টাকা উত্তোলনের সময় এটিএম বুথ কর্তৃক একাউন্টের বিপরীতে যে জার্নাল সৃষ্টি হয় তা সংরক্ষণ সার্ভারে যাওয়ার আগে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের আইটি অফিসার সেটি পরিবর্তন করে দেন।

[৯] ডিবিবিএলের কর্মকর্তা অভিযুক্ত শাহারুজ্জামান টাকা উত্তোলনের আগ মূহুর্তে জার্নাল সংরক্ষণ সার্ভারের সাথে ইএসকিউ এটিএম মনিটরিং সফটওয়ারের মাধ্যমে যে এটিএম বুথগুলো পরিচালিত হয় সেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। সফটওয়ারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারনে এটিএম বুথের টাকা উত্তোলনের সময় যে জার্নাল সৃষ্টি হয় তা সার্ভারে জমা হয় না।

[১০] এরই ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত শাহারুজ্জামান সাকসেসফুল মেসেজকে আনসাকসেসফুল মেসেজে রূপান্তরিত করার ফলে ওই মেসেজ পরবর্তীতে জার্নাল সার্ভারে গেলেও তা আর সাকসেসফুল মেসেজ হিসেবে গণ্য হয় না। অর্থাৎ বুথ থেকে টাকা উত্তোলিত হওয়ার পরও মেসেজ আনসাকসেসফুল দেখায়।

[১১] গ্রেপ্তার আল আমিন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের হটলাইনে ফোন করে অভিযোগ করেন, তিনি এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলনের সময় তার ব্যালেন্স কেটে নিয়েছে কিন্তু টাকা হাতে পাননি। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের দায়িত্বরত অফিসার অভিযোগের সত্যতা যাচাই করেন। ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অফিসার যখন দেখেন, টাকা উত্তোলনের জন্য কার্ডটি এটিএম বুথে প্রবেশ করানো হয়েছিল কিন্তু জার্নালটি আনসাকসেসফুল তখন ওই কর্মকর্তা অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই একাউন্টে ব্যালেন্স সমন্বয় করে দেন। এর মধ্যে দিয়েই অ্যাকাউন্টগুলোতে টাকা চলে আসে।

[১২] হাফিজ আক্তার বলেন, শাহারুজ্জামান রনি ২০১৮ সাল থেকে অভিনব এই প্রতারণার কাজটি করছিলেন। এক পর্যায়ে ব্যালেন্সে অসামঞ্জস্যতার বিষয়টি অডিট টিমের নজরে আসে। তারা কয়েকজনকে সন্দেহের তালিকায় রেখে মামলা করেন। কিন্তু রনি ততদিনে ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি দেশের বাইরে আছেন।

 

সর্বাধিক পঠিত