প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ফরিদপুরে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আল্লাহর নাম

হারুন-অর-রশীদ : [২] শহরের বিভিন্ন গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আল্লাহর গুণবাচক নাম। এতে বিমোহিত হচ্ছে মানুষ। সাথে জানতে পাচ্ছে আল্লাহর গুণবাচক নামের অর্থও।

[৩] জেলা শহরের কমলাপুর সড়ক। ব্যস্ততম এ রাস্তার দুই পাঁশজুড়ে দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি গাছ। সবুজের সমারোহে ভরা এই সড়কে চলার পথের সড়কের দুই পাঁশের গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আল্লাহতায়ালার নাম সম্বলিত প্লাকার্ড। প্রায় দুই কিলোমিটার পর্যন্ত অন্তত সহস্রাধিক গাছে মহান সৃষ্টিকর্তার গুণবাচক নাম সম্বলিত প্লাকার্ড সাঁটানো রয়েছে। এরকম ফরিদপুর শহরের বিভিন্ন সড়কে আল্লাহর গুণবাচক নাম চোখে পড়ে।

[৪] ছোট নীল প্লাকার্ডে হলুদ কালিতে লেখা ‘আল্লাহর নাম’ সম্বলিত ছোট ছোট পোস্টার চোখে পড়বে সড়গুলোতে। গাছে পেরেক ঠুঁকে সাঁটানো রয়েছে- আস-সালাম, আল-ওয়াসি, আল-ওয়ারিস,আল-গফ্ফার,আল-হাকীম, আল-মুছউইর, আল-লাতীফ,আল-বাত্বিন, সুবহানাল্লাহ, আল্লাহু আকবার, আলহামদুলিল্লাহ ও ফিআমানিল্লাহসহ আল্লাহতায়ালার গুণবাচক একাধিক নাম। যা খুব সহজেই পাথচারীর নজর কাড়ে। এছাড়া আকর্ষণ বাড়িয়েছে পথচারীদেরও। আর ধর্মপ্রাণ মানুষজন খুশি এমন মহৎ ও ব্যতিক্রমি উদ্যোগের।

[৫] কমলাপুর-লালের মোড় সড়কে কথা হয় ফরহাদ হোসেন নামে এক ব্যক্তির সাথে। তিনি বলেন, ‘রাস্তার দুই পাঁশের গাছ-গাছালি আলো বাতাস প্রশান্তি দেয়। আর এখন গাছে লাগানো আল্লাহর নাম সম্বলিত ছোট ছোট পোস্টার আমাদেরকে সাহস জোগায়। এই লেখাগুলো লাগানোর পর থেকে এই সড়কে এক্সিডেন্ট আগের তুলনায় কমে গেছে । এটা আল্লাহতায়ালার রহমত বিশেষ।’

[৬] শহর হতে কুটিবাড়ী কমলাপুরের দিকে আসার পথে মোটরসাইকেল আরোহী এহসানুল হক মিয়ার সঙ্গে কথা হয়।

[৭] তিনি জানান, নিয়মিত এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। চলার পথে সৃষ্টিকর্তার নাম ও প্রশংসা সম্বলিত লেখাগুলো তাকে আনন্দ দেয়। চোখ পড়তেই লেখাগুলো পড়ি, এটা সওয়াবের (পূণ্যের) কাজ। যারা এগুলো গাছে সাঁটিয়েছে তারা তো সওয়াব পাচ্ছেন। আমরাও চলার পথে জিকির করে সওয়াব পাচ্ছি। এটা খুবই ভালো উদ্যোগ। তাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।

[৮] এ সময় ফারুক নামের অপর ব্যাক্তি বলেন, ‘বছরখানিক ধরে এই লেখাগুলো গাছে গাছে ঝুলছে। কে বা কারা এগুলো সাঁটিয়েছে, তা আমরা এলাকার কেউ জানি না। তবে আল্লাহতায়ালার জিকির লেখা পোস্টারগুলো মানুষের উপকারে আসছে। এখন আর আগের মতো এই সড়কে দুর্ঘটনা হয় না।’

[৯] জসিম নামের আরেক ব্যাক্তি বলেন, গাছের মধ্যে অনেক ফেস্টুন থাকে। অনেক সময় তাকাতে ইচ্ছা হয় না। কিন্তু আল্লাহর জিকির লেখা সম্বলিত ফেন্টুন গাছে সাঁটানো সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি তার এ কাজ কে সাধুবাদ জানাই।

[১০] হাফেজ মাহমুদুল হাসান (রহঃ) ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও তরুণ ইসলামী চিন্তাবিদ মুফতী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মুসলমান হিসেবে সবসময় আল্লাহর নাম স্মরণ রাখা দরকার। চলার পথে মানুষ যেন আল্লাহর নাম ভুলে না যায়, তাই হয়তো এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া নামগুলোর অনেক ফজিলত রয়েছে।

[১১] সরকারি সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর কাজী গোলাম মোস্তফা বলেন, সড়কের দুই পাঁশের গাছগুলো পরিবেশ বান্ধব। সেই সঙ্গে গাছে গাছে আল্লাহর জিকির লেখা দেখা মাত্র আল্লাহকে স্মরণ হয়। প্রতিদিন সকালে সড়কের পাশে হাঁটা হয়। তাই ফেস্টুন দেখলেই জিকির হয়ে যাবে। অনেকেরি জিকির অভ্যাসে পরিণত হবে। অবশ্যই এটা ভালো উদ্যোগ। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত