প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] নীলফামারীতে নদী খনন ও বাঁধ সংস্কারে ভাঙন থেকে রক্ষা পাচ্ছে ফসলি জমি ও বসতবাড়ি

স্বপ্না আক্তার : [২] ১০টি নদী ও ১টি খাল খননের পাশাপাশি বাঁধ সংস্কারে পাল্টে গেছে নীলফামারী জেলার নদ -নদীর চিত্র।
তবে কাজের অগ্রগতি শতভাগ সম্পাদন হলে সুফল ভোগ করবে তীরবর্তী মানুষ। ধারাবাহিক ভাবে পলি সংস্কারে ম্যাইন্টেনেজ ড্রেইজিং করা হলে বহাল থাকবে পানির গতিপথ এমনটাই প্রত্যাশা পানি উন্নয়ন বোর্ডের।

[৩] এক সময়ের খরস্রোতা নদ- নদী বছরের পর বছর পলি জমে প্রায় ভরাট হয়ে গেছে।

[৪] দেওনাই-চাড়ালকাটা-যমুনেশ্বরী, বুড়িখোড়া, চারা, খড়খড়িয়া, ধুম, নাউতারা, ধাইজান, বামনডাঙ্গা, কলমদারসহ ১৯টি নদী আর ১০টি খাল। সামান্য বৃষ্টিপাতে দুকুল ছাপিয়ে প্লাবিত হয় বন্যায়।

[৫] তবে প্রথম পর্যায়ে ২০১৮সালের ডিসেম্বর থেকে ১০টি নদী আর ১টি খাল খননের কাজ শুরু করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীলফামারীর ৩টি ডিভিশন।

[৬] সরকারের অর্থায়নে ২৭১কোটি টাকা ব্যয়ে এসব নদীর ৩৪২কিলোমিটার এলাকায় পলি অপসারণ কাজ শুরু করা হয়। ইতোমধ্যে নদী খননের ৮০ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খননের ফলে বর্ষা মৌসুমে পানির প্রবাহ বৃদ্ধির পাশাপাশি নদীগুলো ফিরে পেয়েছে যৌবন ।

[৭] স্থানীয়রা বলছেন, নদী খননের ফলে সুরক্ষিত হয়েছে তীরবর্তী এলাকার মানুষের সম্পদ। এছাড়াও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সংস্কার বহাল রাখলে স্বাভাবিক থাকবে পানির স্তর।

[৮] বুড়ীখোড়া নদীর তীরবর্তী কচুকাটা ইউনিয়নের দুহুলী পাড়ার বাসিন্দা সানু আহমেদ বলেন, একসময়ে এই নদীতে আমরা মাছ ধরতাম। কিন্তুপলি জমে নদী ভরাট হয়ে ছিলো। একটু বৃষ্টিতে বন্যার পানি জমে মানুষের হাজার হাজার ফসল নষ্ট হয়ে যেতো। এখন এই নদী খননের ফলে বৃষ্টি হলে পানি সহজে বের হয়ে যায় আর পানি জমিতে জমে থাকে না। দুই/তিন বছর ধরে মানুষের ফসল অনেক ভালো হয়েছে।

[৯] চারালকাটা নদীর তীরবর্তী বাসিন্দা রাজা আহমেদ বলেন, বালু দিয়ে নদীর বাঁধ দেয়ায় দু’ধারের অনেক জমি ভেঙে গেছে। নদীর পলি অপসারণ একটা মহতি উদ্যোগ। তবে বাঁধ দেওয়ার পরে দু’ধারে গাছ ও ঘাস লাগিয়ে দিলে মনে হয় পাড় ভাঙতো না। আবারও পলি জমে প্রায় নদী ভরাট হওয়ার উপক্রম।

[১০] পানি উন্নয়ন বোর্ডের নীলফামারী ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ৬৪ জেলার অভ্যন্তর স্থল ছোট নদী ও খাল জলাশয় পুন.খনন প্রকল্প এবং বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনার আওতায় চলছে নদী খনন কাজের অগ্রগতি। আর এই খননের ফলে জীববৈচিত্রের উন্নতি ও বন্যায় কমেছে জলাবদ্ধতা।

[১১] নদীর দু’ধারে গাছ লাগিয়ে দেয়ার চিন্তা ভাবনা চলছে আর গাছ লাগিয়ে দিলে জীববৈচিত্রের উন্নতি হবে। বাঁধ টেকসই রাখার জন্য বিন্নার গাছ লাগিয়ে দিতেছি। আর নদীর তীরবর্তী এলাকায় বালু মাটি
হওয়ায় বিন্নার গাছ কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।

[১২] জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান বলেন, এসব জলাশয় খনন করার ফলে পানির স্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় বিলুপ্ত প্রায় দেশীয় মাছ প্রাকৃতিকভাবে প্রজনন উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভয়ারণ্য গড়ে দেওয়ার উদ্যোগ ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। সম্পাদনা : মুরাদ হাসান

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত