প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দীপক চৌধুরী: পাসপোর্টে ‘একসেপ্ট ইসরাইল’ শব্দ পুনর্বহাল নিয়ে মাঠ গরমের চেষ্টা কী উদ্দেশ্যে!

দীপক চৌধুরী: মনের ময়লা আর উগ্রধর্মীয় রাজনীতির ময়লা পরিষ্কার করা যে জরুরি তা আমরা মোটেই বুঝতে চাই না। কারণ, তথাকথিত রাজনীতির দুটি উপাদানই সম্ভবত এখানে রয়েছে। আর, এদেশের কিছু মানুষ সবসময়ই এই দুটি বিষয়কে অস্ত্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহার করে আসছে। এদেশের ধর্মকে নিজেদের দলের বা সংগঠনের স্বার্থে ব্যবহারকারীর সংখ্যাই তো অনেক বেশি। যেমন আমাদের পাসপোর্টে ‘একসেপ্ট ইসরায়েল’ লেখাকে কেন্দ্র করে তুলকালামকাণ্ড ঘটে গেলো। এবার একটি নতুন পদ্ধতি নেওয়ায় রাজনৈতিক ইস্যু বানানোর চেষ্টা হয়। আমি তো বলি, দীর্ঘবছর অর্থাৎ যুগের পর যুগ কীভাবে বাংলাদেশ পাসপোর্টে লেখা থাকলো ‘দিস পাসপোর্ট ইজ ভ্যালিড ফর অল কান্ট্রিজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড একসেপ্ট ইসরাইল’!

আবার ‘একসেপ্ট ইসরায়েল’ লেখা নিয়ে মাঠ গরম করার চেষ্টা চলছে। সস্তা ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট ব্যবহারের কৌশল কি না তা গোয়েন্দাদের দেখা দরকার। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বলেছে, বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে ‘এক্সসেপ্ট ইসরাইল’ শব্দ বাদ দিয়ে সারা বিশ্বের মুসলিমদের কলিজায় আঘাত করেছে সরকার। দলটি গতকাল শনিবার বায়তুল মোকাররমের গেটে সমাবেশ এবং বিজয়নগর এলাকায় মিছিল করে। তারা অনতিবিলম্বে পাসপোর্টে ‘এক্সসেপ্ট ইসরাইল’ শব্দ দুটির পুনর্বহাল চায়। সংগঠনটি আরো বলেছে, ‘অনতিবিলম্বে বাংলাদেশের পাসপোর্টে ‘এক্সসেপ্ট ইসরাইল’ শব্দ পুনর্বহাল করতে হবে।’

আমরা জানি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে নিন্দা জানিয়েছেন ইসরাইলের এহেন কর্মকাণ্ডের। সেজন্য সারাবিশ্বের মুসলমান তাঁকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যেখানে একবিন্দু ছাড়ও দিচ্ছেন না এ ব্যাপারে- সেখানে কেনো এমন কৌশল? কার স্বার্থে, কী উদ্দেশে তা অতিদ্রুত বের করা প্রয়োজন। বিলম্ব করা মোটেই উচিত হবে না। এটা তো সত্য, একসেপ্ট ইসরায়েল’ লেখা মানে ইসরায়েল নামে একটি রাষ্ট্রকে স্বীকার করে নেওয়া। এই সেদিনও কিছু মানুষ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা করে মিছিল বিক্ষোভ করে দেশে একটি অরাজকতা সৃষ্টি করেছিল। সেখানেও ধর্মীয় সেন্টিমেন্ট আনা হয়। হেফাজত সারাদেশে তুলকালামকাণ্ড ঘটায়। সুতরাং সেই অভিজ্ঞতা থেকে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ জরুরি।

আমাদের সরকার (‘দিস পাসপোর্ট ইজ ভ্যালিড ফর অল কান্ট্রিজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড একসেপ্ট ইসরাইল’! ) এই লেখা থেকে ‘একসেপ্ট ইসরাইল’ বাদ দেওয়া হয়েছে ই-পাসপোর্টে। পাসপোর্টে সংশোধন আনা হয়েছে। আমরা সবাই জানি, পাসপোর্ট মূলত একটি পরিচয়পত্র। এটি বিশ্বের অন্য দেশের পাসপোর্টের সমান মানসম্পন্ন হতে হয়। সরকার তাই এখন এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শোনা যায়, সিদ্ধান্ত হঠাৎ নেওয়া হয়নি। ছয় মাস আগে ই-পাসপোর্ট প্রবর্তনের সময় নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘নতুন পাসপোর্টে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ না লেখার অর্থ এই না যে বাংলাদেশ তার অবস্থান পরিবর্তন করেছে। বাংলাদেশ এখনো ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি।’ বাংলাদেশ ইসরায়েলের ব্যাপারে নীতির পরিবর্তন করেনি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকেও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, বাংলাদেশি ই-পাসপোর্টের আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ কথাটি বাদ দেওয়া হলেও এতে মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে বাংলাদেশে পররাষ্ট্রনীতির কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীদের ইসরায়েল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা অপরিবর্তিত থাকবে। ইসরায়েল সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকার তার অবস্থান থেকে বিচ্যুত হয়নি এবং বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে তার দীর্ঘস্থায়ী অবস্থানে অটুট আছে বলেও জানানো হয়েছে। শুধু কী ই-পাসপোর্টের কারণেই ‘একসেপ্ট ইসরায়েল’ তোলা হয়েছে! এদিকে বাংলাদেশের পাসপোর্ট থেকে ‘একসেপ্ট ইসরাইল’ বাদ দেওয়ায় ইসরাইল খুশি হয়েছে। সেটা তাদের বিষয়। কিন্তু এটা তো সত্য যে, পৃথিবীর কোনো দেশের পাসপোর্টে ‘একসেপ্ট ইসরাইল’ শব্দ লেখা নেই। অবশ্যই আমরা জানি, বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ইসরাইল ভ্রমণে আগের মতোই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অথনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত