শিরোনাম

প্রকাশিত : ০৫ জুন, ২০২১, ০৩:৫০ দুপুর
আপডেট : ০৫ জুন, ২০২১, ০৩:৫০ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

কামরুল হাসান মামুন: শিক্ষায় এই বছর বরাদ্দ কমানো হয়েছে !

কামরুল হাসান মামুন: শিক্ষায় গত বছর বাজেট বরাদ্দ ছিল জিডিপির ২.১৪ শতাংশ। এই বছর তা হয়েছে জিডিপির ২.০৮ শতাংশ। তার মানে শিক্ষায় এই বছর বরাদ্দ কমানো হয়েছে।

যখন করোনার কারণে শিক্ষাই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তখন আশা করা হচ্ছিল শিক্ষায় গতবারের চেয়ে দ্বিগুনেরও বেশি বরাদ্দ দিয়ে ক্ষতি পুষানোর চেষ্টা করা হবে। আর হলো ঠিক উল্টো। সরকার এইদিকে আমাদেরকে সংখ্যা বৃদ্ধি দেখিয়ে বরাদ্দ বৃদ্ধির গান শোনাচ্ছে। সংখ্যার যতটুকু বৃদ্ধি হয়েছে সেটাতো খেয়ে ফেলবে মুদ্রাস্ফীতিই। তাছাড়া নতুন নতুন স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় খোলার কারণে অতিরিক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন খেয়ে ফেলবে আরেকটি অংশ। এতে প্রমাণিত হয়ে এই সরকার চায় না শিক্ষায় যে ক্ষতি হয়েছে তা পূরণ হউক। বরং আরো কিভাবে বেশি ক্ষতি করা যায় সেই কাজ করে যাচ্ছে অনবরত।

পৃথিবী জ্ঞান বিজ্ঞানে যেইভাবে এগুচ্ছে তাতে শিক্ষাই কেবল টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারে। আর ইউনেস্কো বলে আসছে শিক্ষায় যেন প্রতিটি দেশ জিডিপির অন্তত ৬ শতাংশ বরাদ্দ দেয়। এমন কোন দেশ নাই যেই দেশ শিক্ষায় জিডিপির ৪% এর কম বরাদ্দ দিয়ে উন্নত হয়েছে। শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ কমানো সত্বেও কোথাও কোন প্রতিবাদ দেখছি না। অথচ এই দেশের প্রতিটি ঘরে স্কুল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থী আছে। সন্তান জন্মের পর সবার সবচেয়ে বড় কনসার্ন থাকে শিক্ষা নিয়ে। শিক্ষাই দুজন মানুষের মধ্যে আসল পার্থক্য গড়ে তুলে।

সিপিডির বাজেট পরবর্তী বাজেট নিয়ে তাদের লাইভ আলোচনা শুনেছি এবং শুনে বড়ই আহত হয়েছি। তাদের আলোচনায় শিক্ষা নিয়ে তেমন কোন পর্যালোচনাই ছিল যা খুবই দুঃখজনক। দেশের এত এত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, শিক্ষক সমিতি, শিক্ষাবিদ আছেন কারো কাছ থেকে তেমন কোন প্রতিবাদ দেখলাম না। কয়েকজন একটু মৃদু স্বরে মিন মিন করে একটু বলেছেন বটে তবে খেয়াল রেখেছেন সরকার যেন আবার মাইন্ড না করে।
(লেখক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। ফেইসবুক পোস্ট থেকে সংগৃহিত)

  • সর্বশেষ