শিরোনাম
◈ শিক্ষার্থীদের প্রতি বছর নতুন করে ভর্তি ফি নেওয়ার প্রথা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রতিবাদ শুরু ◈ ঢাকায় পরিত্যক্ত মার্কেট থেকে ভেসে আসছিল দুর্গন্ধ, অতঃপর... ◈ উত্তরায় এলিট ফোর্স সদস্যের শটগান ছিনতাই ◈ অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ঢাকার ৪ থানায় অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৯ ◈ পুরস্কারের অর্থের কী হবে? ব্যাখ্যা দি‌লো নরওয়ের কমিটি ◈ ক্রিকেটার সূর্যকুমারকে নিয়ে মন্তব্য করে বিপদে খুশি মুখোপাধ্যায়, অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলা ◈ যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া ক্ষমতা দেখানোর প্রতিযোগিতায় নেমেছে ◈ ২১ দিন মা–মেয়ের লাশ নিজ ফ্ল্যাটে রেখেই পরিবার নিয়ে দিব্যি বসবাস করছিলেন হত্যাকারী! ◈ ‌বিশ্বকা‌পে বাংলাদেশের জন্য কলকাতা অত্যন্ত নিরাপদ : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মনোজ তিওয়ারি ◈ পাকিস্তানে ট্রাক খালে পড়ে একই পরিবারের ১৪ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত : ০৪ জুন, ২০২১, ০৪:২১ সকাল
আপডেট : ০৪ জুন, ২০২১, ০৪:২১ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ফিরোজ আহমেদ: চিকিৎসকদের সম্মিলিত একটা প্রতিবাদ আসুক

ফিরোজ আহমেদ: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরো সায়েন্স ও হাসপাতালের শুধু না, সারা দেশের হাসপাতালের চিকিৎসার কেনাকাটায় দুর্নীতিতে তো আপামর চিকিৎসকদের প্রায় কারো ভূমিকা নেই, হাসপাতালের পরিচালকরা কেউ কেউ থাকতেও পারেন। তাহলে চিকিৎসক সমাজের জোরালো প্রতিবাদ আসছে না কেন? সাধারণ মানুষ তো ভুলভাবে ভাববে এই দুর্নীতি তারা করেছেন, অথচ খুবই সম্ভব যে তারা আদৌ এ বিষয়ে জানেনই না। শুধু এই বদনামই তো না! এই নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে যারই যাবার অভিজ্ঞতা আছে, দেখেছেন মানুষের কী দুর্দশা। মনে হয় অনন্ত মানুষের সারি। আপনাদের কী মনে হয় না এই দুর্নীতি বন্ধ করা গেলে এই খানে বরং আরও দশ জন, প্রয়োজনে চল্লিশজন, কী একশজন বেশি চিকিৎসককে আনা যেতো, প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতো, সম্পদের অপ্রতুলতার প্রশ্নই আসতো না। কে জানে, প্রয়োজনে ৬ টা এমন বড় নিউরো হাসপাতাল হয়তো বানানো যেতো শুধু কোভিডকালীন দুর্নীতির পয়সা দিয়ে। ভুরুঙ্গামারী বা  বামনা উপজেলার রোগীটাকে ঢাকায় আসতে হতো না, বিভাগীয় সদরেই তারা চিকিৎসা পেতেন তখন। নিউরো হাসপাতালে কয়েকবার আমার যাবার সৌভাগ্য হয়েছে। প্রথমবার আমার আত্মীয়কে এক মিনিটে দেখে একটা ওষুধ দিয়ে বিদায় দেয়া হয়। আমার বন্ধু আরেকজন চিকিৎসক সেই বন্দোবস্ত নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তার হাসপাতালের অধ্যাপকের পরামর্শে একটা সিটি স্ক্যান করান এবং দেখা যায় অধ্যাপকের অনুমান ঠিক, তখনো রোগীর মাথায় রক্তক্ষরণ হচ্ছিলো। ফলে ওষুধ একদম বদলে দিয়ে নতুন ওষুধ দেয়া হয়। অধ্যাপক একটু অস্বস্তি নিয়ে বলেছিলেন, ‘রোগীর চাপ, সময় কম বলে খেয়াল করেনি’... চিকিৎসকদেরই সামলাতে হয় রোগীদেও এই চাপ।

রোগীদেও সঙ্গে চিকিৎসকদের সম্পর্ক নষ্টের একটা বড় কারণ হাসপাতালগুলো রোগীদের প্রয়োজনীয় রসদ দিতে পারছে না, ‘সম্পদের অভাবে’, পৃথিবীর দুর্নীতিগ্রস্ততম স্বাস্থ্যবিভাগের দেশে। রোগী ভাবেন চিকিৎসক কসাই, চিকিৎসক সময় দেয় না, ওষুধ বাইরে থাকে আনতে হয়। চিকিৎসক ভাবেন তিন ঘন্টায় হাজার রোগী সামলাই, ওষুধের সরবরাহ নেই। আপনারা দায় না নিন। ব্যক্তিগতভাবে আপনারা প্রতিরোধ করতে না পারুন, অন্তত পেশাগত প্রতিষ্ঠানকে চাপ দিন এই নিয়ে পরিষ্কার কথা বলবার জন্য। কারা কারা কীভাবে জড়িত, কীভাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয় বাধ্য করে কোন দামে কী কিনতে, সেগুলো খোলাসা হোক। চিকিৎসকদের কেউ যদি জড়িত থাকে, তাকে ছেঁটে ফেলুন, সকলের স্বার্থে একটা দুটো বদমাশকে বিতাড়ন করুন। শুধু মাস্কের কথিত দুর্নীতির অর্থ দিয়ে হয়তো ঢাকা শহরের এক বছরের চিকিৎসাসেবাকে আরও বহুগুণ উন্নত করা যেতো। টিকার টাকার দুর্নীতি নিয়ে হয়তো আরও বহুগুণ কিছু করা সম্ভব। পেশার মর্যাদা ও নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থেই জনগণের পাশে যতোটা সম্ভব দাঁড়ান। আমার বন্ধু তালিকার চিকিৎসদের কোনো প্রতিবাদ বা আগ্রহ বিষয়টা নিয়ে দেখিনি। এমন একটা জরুরি প্রশ্নকে আপনারা এড়িয়ে যাবেন না। বাংলাদেশের ভবিষ্যতের অনেকগুলো জটিল প্রশ্ন আজকে এক গ্রন্থিতে এসে মিলেছে। উপকূলের বাঁধে কিংবা স্বাস্থ্যে দুর্নীতি- গুণ্ডাতন্ত্র প্রত্যেকের জীবনকেই অসনহীয় করে তুলবে ক্রমাগত। লেখক : রাজনীতিবিদ। ফেসবুক থেকে

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়