প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আনোয়ারায় জন্ম নিবন্ধন করতে অতিরিক্ত “ফি” আদায়ের অভিযোগ

এস,এম,সালাহ্উদ্দীন আনোয়ারা: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ চাওয়ার পর থেকেই আনোয়ারা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে অভিভাবক আর শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ্য করা যায়। কারো প্রয়োজন ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ আবার কারো প্রয়োজন সংশোধিত জন্ম নিবন্ধন সনদ। এসব সনদ নিতে কোন প্রকার রশিদ ছাড়া সরকারি নির্ধারিত ফি এর তুলনায় বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে উপজেলার প্রায় সবকটি ইউনিয়ন পরিষদের বিরুদ্ধে।

আর সনদ গ্রহীতাদের স্বাস্থ্য বিধি মানতে বা মানাতে দেখা যায়নি কাউকে। বাংলাদেশ সরকারের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন বিধিমালা ২০১৭ এর বিধি ২৩ এর উপবিধি ৭ এ বলা হয়েছে জন্ম বা মৃত্যুর ৪৫ দিনের মধ্যে জন্ম বা মৃত্যু সনদের জন্য কোনো “ফি” নেওয়া হবেনা, ৪৫ দিন থেকে ৫বছর পর্যন্ত যে কোনো ব্যক্তির জন্ম বা মৃত্যু সনদের ক্ষেত্রে ২৫ টাকা এবং ৫ বছর পর থেকে ৫০ টাকা করে ফি নির্ধারিত থাকলেও সরেজমিনে দেখা যায়,উপজেলার প্রায় সবকটি ইউনিয়নে নিজেদের ইচ্ছে মত “ফি” আদায় করতেছে।

উপজেলার ১০ নং হাইলধর ইউনিয়নে হুমড়ি দিয়ে আছে অনেক অভিভাবক আর শিক্ষার্থী। তাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ছোট হোক বড় হোক যে কারো জন্মনিবন্ধনের আবেদনের জন্য ১০০ টা ” “ফি” দিতে হয়। আর একজনের জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করতে গেলে তার পিতা-মাতার জন্ম নিবন্ধনসহ ৩টি জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করতে হয়। এবং প্রত্যেক জনের জন্ম নিবন্ধনের জন্য ১০০ টাকা করে ৩০০ টাকা দিতে হয়। আর এসব টাকার কোনো রসিদ ও দেওয়া হচ্ছে না।

উপজেলার ৬নং বারখাইন ইউনিয়নে স্থায়ী ইউনিয়ন পরিষদ না থাকায় জন্ম নিবন্ধন গ্রাহকদের ভোগান্তি মাত্রাটা দ্বিগুণ। উপজেলার সদরে প্রগতী কম্পিউটারে এসে সব ধরনের জন্ম নিবন্ধনের আবেদন করতে হয়। আর এই সুযোগে গ্রাহকদের থেকে ইচ্ছে মতো “ফি” আদায় করার অভিযোগও উঠেছে প্রগতী কম্পিউটারের মালিক রবিনের বিরুদ্ধে।

উপজেলার ৭নং সদর ইউনিয়নে দেখা যায়,নতুন জন্মনিবন্ধন করতে লাগছে নানা কাগজ পত্র । হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে ঝামেলা তো আছেই । এক সপ্তাহের মধ্যে জন্মনিবন্ধন সনদ দেওয়ার কথা বলে ২৫ দিনেও পাওয়া যায়না বলে অভিযোগ তুলেছেন অনেক ভুক্তভোগী। তারা অভিযোগ করে বলেন বযয়সভিত্তিক জন্মনিবন্ধন ফি হলেও ছোট বড় সবার দিতে হয় ৮০টাকা করে ।

উপজেলার ১নং বৈরাগ ইউনিয়নেও একটি জন্ম নিবন্ধনের জন্য ১০০/১৫০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এইভাবে উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে রশিদ বিহীন অতিরিক্ত “ফি” আদায়ের এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে। হাইলধর ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন করতে আসা একজন শিক্ষার্থী জানায়,স্কুল থেকে ডিজিটাল জন্ম সনদ চাওয়া পরে সব ডকুমেন্টস নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে আসলাম। এসে দেখি আমার জন্ম সনদ টা অনলাইন করার আগে না-কি আমার আব্বু-আম্মুর টা করতে হবে। তাই আমার আর আব্বু-আম্মুসহ তিন জনের জন্ম নিবন্ধনের জন্য ১০০ টাকা করে ৩০০ টাকা দিতে হয়েছে।

এই সব অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ জুবায়ের আহমেদ বলেন, যে সব ইউনিয়নে সরকারি নির্ধারিত ফি এর তুলনায় বাড়তি ফি আদায় করতেছে সেসব ইউনিয়নের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত