প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোগীর সেবা মহানবীর আদর্শ

ডেস্ক নিউজ: রোগীর সেবাযত্ন করা, খোঁজ-খবর নেওয়া ও তাকে সান্ত¡নার বাণী শোনানো নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) যখনই কোনো অসুস্থকে দেখতে যেতেন, তিনি তার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করতেন এবং তাকে সুসংবাদ দিতেন। হাদিসে রোগীর সেবাযত্নকে সর্বোৎকৃষ্ট নেক আমল ও ইবাদত ঘোষণা করা হয়েছে। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, সাহাবি হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) বর্ণনা করেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘তোমরা রোগী দেখতে যাও এবং জানাজায় অংশগ্রহণ করো, কেননা তা তোমাদের পরকালের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে।’ মুসনাদে আহমদ : ৩/৪৮

হাদিসে নবী করিম (সা.) আরও বলেছেন, ক্ষুধার্তকে খাবার দাও, অসুস্থ ব্যক্তির সেবা করো এবং বন্দিকে মুক্ত করো। নবী করিম (সা.) মুসলমানদের পাশাপাশি অমুসলিমেরও সেবা করেছেন। আবু দাউদে বর্ণিত আছে, রাসুল (সা.) এক ইহুদি অসুস্থ যুবককে দেখতে গিয়েছিলেন। আর রাসুল (সা.)-এর চলার পথে কাঁটা বিছানো বুড়িকে অসুস্থ অবস্থায় দেখতে যাওয়ার ঘটনা তো ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়েই আছে।

এক মহিলা সাহাবি (রা.) বলেছেন, একদা আমি অসুস্থ হলে রাসুল (সা.) আমায় দেখতে এসে বলেন, হে উম্মু আলা! তুমি সুসংবাদ গ্রহণ করো। কেননা, মুসলমানদের অসুখের কারণে আল্লাহতায়ালা তাদের গোনাহসমূহ এমনভাবে দূর করে দেন, যেমনি আগুন সোনা-রূপার মধ্যেকার ভেজাল দূর করে দেয়। আবু দাউদ : ৩০৭৯

কোনো অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে সান্ত¡নার বাণী শোনালে, খোঁজ-খবর নিলে, একটু সেবাযত্ন করলে তার দুশ্চিন্তা লাঘব হয়। সে অন্তরে প্রশান্তি অনুভব করে। তাই মানবিক বিচারে রোগীর খোঁজ-খবর নেওয়া ও তাদের সেবাযত্ন করা উচিত। এটা মানুষের হকও বটে। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, এক মুসলমানের ওপর অপর মুসলমানের পাঁচটি হক রয়েছে। এক. সালামের জবাব দেওয়া, দুই. হাঁচির উত্তর দেওয়া, তিন. দাওয়াত কবুল করা, চার. অসুস্থ হলে তাকে দেখতে যাওয়া ও পাঁচ. জানাজায় অংশগ্রহণ করা। সহিহ বোখারি : ১২৪০

হাদিসে কুদসিতে বলা হয়েছে, ‘কিয়ামতের দিন আল্লাহ বলবেন, হে আদম সন্তান! আমি অসুস্থ হয়েছিলাম, কিন্তু তুমি আমাকে দেখতে যাওনি। বান্দা বলবে, আপনি তো বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আমি আপনাকে কীভাবে দেখতে যেতে পারি? আল্লাহ বলবেন, আমার অমুক বান্দা অসুস্থ হয়েছিল। তুমি তাকে দেখতে গেলে সেখানে আমাকে পেতে । সহিহ মুসলিম : ২১৬২

এছাড়া রোগী দেখার অসংখ্য ফজিলতের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। হজরত আলী (রা.) বর্ণনা করেন, আমি রাসুল (সা.) কে বলতে শোনেছি, যে ব্যক্তি সকালবেলা কোনো অসুস্থ মুসলমানকে দেখতে যায়, সত্তর হাজার ফেরেশতা বিকেল পর্যন্ত তার জন্য দোয়া করতে থাকে। আর বিকেলে রোগী দেখতে গেলে সকাল পর্যন্ত সত্তর হাজার ফেরেশতা দোয়া করে। সুনানে তিরমিজি : ৯৬৭

তবে রোগী দেখার কিছু নিয়ম ও আদব রয়েছে। যেমন, অজু অবস্থায় কোনো রোগী দেখতে যাওয়া। রোগীর অবস্থা বুঝে শরীরে হাত রেখে রোগের কথা জিজ্ঞাসা করা। রোগীর সামনে এমন কথা বলা, যাতে সে সান্ত¡না লাভ করে। রোগীর সামনে উচ্চ আওয়াজে কথা না বলা। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, সুন্নত হলো রোগীর পাশে কম সময় বসা এবং উঁচু আওয়াজে কথা না বলা। রোগীর কাছে বেশি সময় ক্ষেপণ না করা। রোগী কিছু খেতে চাইলে এবং তা তার জন্য ক্ষতিকর না হলে খেতে দেওয়া।

রোগীর জন্য দোয়া করা। বিভিন্ন দোয়া হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, কোনো রোগীর কাছে গিয়ে নিম্নের দোয়াটি সাতবার পাঠ করলে মৃত্যুরোগ ছাড়া সব রোগ থেকে সে সুস্থ হয়ে ওঠবে- ইনশাআল্লাহ। দোয়াটি হলো আসআলুল্লাহাল আজিম, রাব্বাল আরশিল আজিম, আই ইয়াশফিয়াকা। আবু দাউদ : ৩১০৬ সূত্র: দেশ রুপান্তর

সর্বাধিক পঠিত