প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১]গণতন্ত্রের আবেগে জ্বলছে মিয়ানমার

লিহান লিমা: [২] গত ১ ফেব্রুয়ারি পর থেকে সোমবার পর্যন্ত মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের হাতে ৮০২জন প্রাণ হারিয়েছেন। জান্তা সরকার অধিকার কর্মী ও গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত রাজনীতিবিদদের গ্রেপ্তার করলেও স্বাস্থ্য, শিক্ষা, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিকখাতে কাজ করা কর্মীরা জান্তাবিরোধী প্রতিবাদ অব্যাহত রাখতে দলে দলে সিভিল ডিজঅবিডিয়েন্স মুভমেন্ট (সিডিএম) বা নাগরিক অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন।

[৩] রাজপথ, প্রাত্যহিক জীবন, স্কুল, শিল্প-প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ব্যাংক, ট্রেন ও সরকারী অফিসসহ সবখানেই চলছে নাগরিক আন্দোলন। জান্তা সরকার কাজে ফিরতে চাপ প্রয়োগ করলেও জনগণ হুমকি প্রত্যাখ্যান করেছেন। বেতন ও বাসস্থান হারিয়েও প্রায় ১ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি সিডিএম’ এ যোগ দিয়েছেন।

[৪] ইয়াঙ্গুনের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দম্পতি জানান, সিডিএম’এ যোগ দেয়ায় গত ৭ মে তাদের পদচ্যুত করা হয়েছে। তারা সরকারি বাসভবনও হারিয়েছেন।’ ওই দম্পতি বলেন, ‘আমরা এখন কোথায় থাকবো জানি না। তবে প্রতিদিন নিরীহ মানুষের ওপর গুলি চালানো জান্তা সরকারের অধীনে কাজ করবো না।’

[৫] জান্তা সরকার ৫ মে থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ পুনরায় খুলে শিক্ষকদের যোগদানের আহ্বান জানিয়েছিলো। কিন্তু শিক্ষকদের একটি বৃহত্তর অংশ তা করতে অস্বীকৃতি জানান। মিয়ানমার টিচার্স ফাউন্ডেশন জানায়, ২৪ হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকের মধ্যে ১১ হাজার ১০০জনকে পদচ্যুত করা হয়েছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীরাও ক্লাস বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন। যার ফলে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থা স্থবির হয়ে রয়েছে।

[৬] দেশটির রেলকর্মীরা এই আন্দোলনে যোগ দেয়ায় ইয়াঙ্গুনসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ স্থগিত হয়ে আছে।

[৭]নাগরিক আন্দোলনে যোগ দেয়া ডাক্তার ও নার্সদের গ্রেপ্তার করেছে জান্তা সরকার। ৯ মে মিয়ানমারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রায় ৫’শ কর্মীকে গ্রেপ্তারের জন্য পরোয়ানা জারি করে। তাদের বিরুদ্ধে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার অভিযোগ আনা হয়েছে, যার ফলে তাদের ৩ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

[৮]আন্দোলনে ব্যাংককর্মীদের অংশগ্রহণের ফলে মার্চ থেকে দেশটির ব্যবসা-বাণিজ্যিক কার্যক্রমের একটি বৃহত্তর অংশ স্থগিত হয়ে রয়েছে। মিয়ানমারের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর আস্থা হারিয়ে নাগরিকদের নিজেদের ডিপোজিট তুলতে ব্যাংকের সামনে লাইন ধরতে দেখা গিয়েছে। জান্তা সরকারের জন্য অর্থের সরবরাহ বন্ধে তারা অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলে তা কালো বাজারে ইউএস ডলারে রুপান্তর করে নিচ্ছেন বা অন্য স্থানে লুকিয়ে রাখছেন। সম্পাদনা : রাশিদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত