শিরোনাম
◈ এক বছরে নতুন করে দরিদ্র বেড়েছে প্রায় ২১ লাখ বাংলাদেশি, চাকরি হারাচ্ছেন নারীরা ◈ সরকারি কলেজের বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের বদলি-পদায়ন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত, জারি নতুন নির্দেশনা ◈ প্রতিটি শিশুর প্রতিভা বিকাশে খেলাধুলা ও সৃজনশীলতার সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ◈ রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকে জোর করে পদত্যাগে স্বাক্ষরের অভিযোগ ◈ ভিসা আবেদনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য না দিলে অযোগ্য হতে পারেন: মার্কিন দূতাবাস ◈ ভারতীয় ভিসা অ্যাপয়েন্টমেন্টে নতুন নির্দেশনা, জেনে নিন বুকিংয়ের নিয়ম ◈ খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ মেট্রোরেল লাইনে কুকুর ঢুকে বন্ধ ট্রেন চলাচল, পরে স্বাভাবিক ◈ ২০২৭ সাল থেকে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ৪ নতুন বিষয়: শিক্ষামন্ত্রী ◈ হঠাৎ দিল্লি গেছেন দীনেশ ত্রিবেদী

প্রকাশিত : ৩০ মে, ২০২১, ০৪:০৪ সকাল
আপডেট : ৩০ মে, ২০২১, ০৪:০৪ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চলমান ‘লকডাউন’ আরও ২ সপ্তাহ বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা

নিউজ ডেস্ক: করোনাভাইরাস সংক্রমণের গতি-প্রকৃতি এখনো দুর্বোধ্য। এ অবস্থায় চলমান সীমিত পর্যায়ের ‘লকডাউনের’ সময়সীমা আরো বাড়ানো হবে কি না তা নিয়ে দ্বিধায় সরকার। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, এখনই সব বিধি-নিষেধ তুলে দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও আরো অন্তত দুই সপ্তাহ চলমান বিধি-নিষেধ বহাল রাখার পক্ষে। কালের কণ্ঠ

সীমান্ত জেলাগুলোতে করোনা সংক্রমণের হার বেড়ে চলেছে। গত শুক্রবার রাজশাহীতে নমুনা পরীক্ষায় অর্ধেকেরও বেশি পজিটিভ শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে গত ২৫ মে থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় সাত দিনের বিশেষ লকডাউন চলছে। এ অবস্থায় সীমিত আকারে চলমান লকডাউন আরো বাড়ানোর বিষয়টিই গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে সরকার।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী চলমান সীমিত পর্যায়ের লকডাউন আজ রবিবার রাত ১২টায় শেষ হচ্ছে। তা আরো বাড়ানো হবে কি না সে বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি। একাধিক কর্মকর্তা মনে করছেন যে ঢিলেঢালা লকডাউন নিয়ে যত আলোচনা-সমালোচনাই হোক, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এটি ভালো কাজ করছে। তাই এটি আরো কিছুদিন চলা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক ডিজি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এম এ ফয়েজ গতকাল বলেন, ‘সংক্রমণ তুলনামূলক কম থাকলেও আমরা এখনো ঝুঁকিমুক্ত নই। পরিস্থিতি এখনো দ্বিতীয় ঢেউয়ের মধ্যেই রয়েছে। তাই এখনই বিধি-নিষেধ তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই। বরং সীমান্ত এলাকাসহ অন্যান্য বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো উচিত। সংক্রমণ ৫ শতাংশের নিচে নামলে মোটামুটি স্বাভাবিক হওয়ার চিন্তা করা যায়।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি দলের অনেক নেতাকর্মী ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে যুক্ত। তাঁরা সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে সরকারি অফিস খুলে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। সম্প্রতি নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েক নেতা লকডাউন না চালানোর বিষয়ে ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্যও দিয়েছেন।

করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয় গত মার্চে। ৫ এপ্রিল থেকে সীমিত আকারে লকডাউন দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন সময়সীমায় লকডাউন চলেছে। একাধিকবার নিয়ম পাল্টানোর মাধ্যমে আজ রবিবার ৫৬ দিনের লকডাউন পূর্ণ হতে যাচ্ছে। বর্তমানে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সরকারি অফিস, সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পর্যটনকেন্দ্র, মিছিল-মিটিং ও সমাবেশ বন্ধ রয়েছে। শপিং মল, দোকানপাট খোলা আছে। অর্ধেক আসন খালি রাখার শর্তে চলছে গণপরিবহন। এমন ঢিলেঢালা লকডাউন এখনো কিছুটা থাকা প্রয়োজন বলে মনে করেন সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের কেউ কেউ। তবে বিভিন্ন পর্যায় থেকে লকডাউন তুলে দেওয়ার জন্য যেসব দাবি জানানো হচ্ছে সেগুলোকেও ভেবে দেখতে হচ্ছে সরকারকে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার দাবি ব্যাপকভাবে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই দাবিতে মাঠে নেমেছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও ক্ষুব্ধ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ঢিলেঢালা লকডাউনের সঙ্গে কড়াকড়িভাবে অঞ্চলভিত্তিক লকডাউন কার্যকর করার চিন্তা করছে সরকার। সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায় থেকেও সব কিছু এখনই স্বাভাবিক হওয়ার সময় আসেনি বলে মনে করা হচ্ছে। সম্প্রতি স্কুল-কলেজ খোলার প্রস্তুতির কথা বলা হলেও সেটা কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের পক্ষেই বেশি সুপারিশ পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

  • সর্বশেষ