প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

করোনাকালেও টাঙ্গুয়ার হাওরে অবাধে মৎস্য নিধন, গাছ কর্তন: হুমকির মুখে জীববৈচিত্র্য

নিউজ ডেস্ক: করোনাকালে টাঙ্গুয়ার হাওরে অবাধে মত্স্য নিধনে হাওরের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নানা প্রজাতির গাছ-গাছালিও কেটে নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। পাশাপাশি হাওরে ঘুরতে আসা পর্যটকদের ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল, থালা, পলিথিন, চিপস-চানাচুরের প্যাকেটেও হাওরের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।

১৯৯৯ সালে প্রতিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা ও ২০০০ সালে রামসার সম্মেলনে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় টাঙ্গুয়ার হাওরকে। ২০০৩ সালে ইজারা প্রথা বিলুপ্ত করে জেলা প্রশাসন একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশ, আনসার সার্বক্ষণিক পাহারা বসায়। কিন্তু প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে অসাধু মানুষ মাছ, পাখি শিকার ও বনজঙ্গল কেটে উজাড় করছে। কেটে নেওয়া হচ্ছে নলখাগড়া, চাইল্যাবন, হিজল-করচগাছের ডালপালা। এতে উজাড় হচ্ছে ঘন সবুজ বন। নিষিদ্ধ জাল ব্যবহারের কারণে হাওরের নিচের জলজপ্রাণি এবং উদ্ভিদ নষ্ট হচ্ছে। দুর্বৃত্তরা অনেক সময় ধরা পড়লেও কিছুদিন পরই ছাড়া পেয়ে যায়।

টাঙ্গুয়ার হাওর রক্ষায় এখুনি জোরালো ব্যবস্থা নেওয়া দরকার বলে মনে করছেন হাওরসংশ্লিষ্ট পরিবেশবিদ ও মত্স্য বিশেষজ্ঞরা। হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাশমির রেজা বলেন, জীববৈচিত্র্যের অন্যতম নিদর্শনটি যথাযথ তদারকি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার অভাবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, টাঙ্গুয়ার হাওরের মাছ, পাখি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ২৪ জন আনসার সার্বক্ষণিক পাহারা দিচ্ছে। এই সম্পদ রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বাড়াতে হবে। পাখি, মাছ শিকার কিংবা গাছ কাটার খবর পাওয়া গেলে আনসারদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওখানে পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের চিন্তাভাবনা চলছে।

সূত্র মতে, টাঙ্গুয়ার হাওরে রয়েছে ২০৮ প্রজাতির পাখি, ১৫০ প্রজাতির জলজ উদ্ভিদ, ১৫০ প্রজাতির মাছ, ৩৪ প্রজাতির সরীসৃপ ও ১১ প্রজাতির উভচর প্রাণী রয়েছে, ছয় প্রজাতির কচ্ছপ, সাত প্রজাতির গিরগিটি এবং ২১ প্রজাতির সাপ। গত ফেব্রুয়ারিতে টাঙ্গুয়ার হাওরে মোট ৩৯ প্রজাতির পাখি দেখা গেছে, যার মধ্যে ২৭টি পরিযায়ী প্রজাতির। সবচেয়ে বেশি ১২ হাজার ৭৬০টি পিয়ং হাঁস দেখা গেছে। এরপর লালমাথা ভূতিহাঁস দেখা গেছে ৯ হাজার ৯০৩টি। কুটপাখি দেখা গেছে ৯ হাজার ৩৯৮টি। এবারের শুমারিতে পৃথিবী জুড়ে মহাবিপন্ন প্রজাতির পাখি বেয়ারের ভূতিহাঁস দেখা গেছে। বিরল প্রজাতির বৈকাল তিলিহাঁস, ফুলুরিহাঁস, কুঁড়াইগল, খয়রা কাস্তেচরা, উত্তরে টিটি ও কালোলেজ জোড়ালি পাখিও দেখা গেছে টাঙ্গুয়ায়।- ইত্তেফাক

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত