প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] অবশেষে নিজের বাসায় পিতাকে নিয়ে গেলেন সেই পুত্র বিপ্লব

স্বপন দেব: [২] মৌলভীবাজারের গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকা সেই বৃদ্ধ বাবাকে শেষ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে নিজ বাসায় নিয়ে গেছেন তার বড় ছেলে। বৃদ্ধের অসুস্থতা ও রাস্তায় পড়ে থাকার খবর পেয়েও ছেলেমেয়েরা এগিয়ে না আসায় মৌলভীবাজার সদর থানা পুলিশ এই বৃদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলো।

[৩] এবিষয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশের পর পুলিশ প্রশাসনের কঠোর তৎপরতায় পিতাকে ঘরে তুলে নিলেন তার স্বর্ণ ব্যবসায়ী বড় ছেলে। সোমবারই তাকে হাসপাতালে দেখতে যান মেয়ে রিতা দেব ও তার স্বামী।

[৪] মঙ্গলবার বিকালে মৌলভীবাজার শহরের সৈয়ারপুর এলাকার বোনের বাসা থেকে সিলেটে নিজের বাসায় নিয়ে যান ছেলে বিপ্লব দেব।
সোমবার মৌলভীবাজার সদর হাসপাতাল থেকে স্বামীকে সাথে নিয়ে নিজের বাসায় (শহরের সৈয়ারপুর এলাকায়) বাবাকে নিয়ে আসেন মেয়ে। এসময় উপস্থিত স্থানীয়দের কাছে বাবার সঠিক চিকিৎসা এবং ভরণ পোষণের প্রত্যয় ব্যক্ত করে ছেলে বিপ্লব দেব জানান, আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি।

[৫] মৌলভীবাজার শহরের পুরাতন হাসপাতাল রোডের শাহ মোস্তফা মঞ্জিলে বাস করতেন ম্যানেজার ষ্টলের প্রাক্তন ময়রা (মিষ্টির কারিগর) অরুণ দেব (৭৫)। দুই ছেলে এবং এক মেয়ে তার। একমাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন শহরের সৈয়ারপুর এলাকায়, মেয়ে জামাই শহরের একটি জুয়েলার্সের ম্যানেজার। বড় ছেলে বিপ্লব দেব সুনামগঞ্জে ব্যবসা করেন। তার বাসা সিলেটে। গত রোববার অসুস্থ হয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে থাকার খবর শুনেও এগিয়ে আসেননি কোনো সন্তান। স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মী অজয় রায় ৯৯৯ খবর দেন। এই খবর পেয়ে মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মো. জাকারিয়া এর নির্দেশে পুলিশ এসে বৃদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি করায়। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

[৬] অবশেষে স্থানীয় জনগণ ও পুলিশের উদ্যোগে মেয়ে এবং মেয়ের জামাতা বাবাকে দেখতে হাসপাতালে যান এবং পুলিশের অনুরোধে বাসায় নিয়ে আসেন। এরপর মঙ্গলবার বিকালে বোন রিতার বাসা থেকে বাবাকে নিজের সিলেটের বাসায় নিয়ে যান বড় ছেলে।

[৭] ঘটনায় শুরু থেকে বিশেষ ভুমিকা রাখা মৌলভীবাজার মডেল থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) গোলাম মুর্তজা জানান, আমাদের অনুরোধে ছেলে তার ভুল বুঝতে পেরে বাবাকে সিলেটের বাসায় নিয়ে গেছে।

[৮] গোলাম মুর্তজা আরও বলেন,আমি প্রথম থেকেই বিপ্লব দেব এর সাথে যোগযোগ রেখে বুঝানোর চেষ্টা করি যাতে সে তার বাবার দায়িত্ব নেয়। আমি বলেছি যেকোন সাহায্য সহযোগিতার প্রয়োজন হলে আমরা তার পাশে থাকবো। সম্পাদনা: হ্যাপি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত