শিরোনাম
◈ আজ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ◈ বিশ্বকাপে খেল‌তে না পারার হতাশা কাটিয়ে উঠছে ক্রিকেটাররা, বল‌লেন কোচ সিমন্স ◈ বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ায় নতুন কৌশল নিচ্ছে বাংলাদেশের পোশাক শিল্প ◈ মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে তেল অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু, বিশ্ব অর্থনীতিতে শঙ্কা ◈ অর্থ সংকট থাকলে সরকার বন্ড দিতে পারে: বিআইপিপিএ ◈ সরবরাহ সংকট কাটেনি, তেল নেই অনেক পাম্পেই ◈ যুদ্ধের ছায়া প্রবাসজীবনে, দেশে উদ্বেগে পরিবার ◈ বেসরকারি ৪ ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ ◈ ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ: হাইকোর্টে আরও পাঁচ প্রার্থীর আবেদন গ্রহণ ◈ মিরপুরের পিচের প্রশংসা কর‌লেন পাকিস্তানি কোচ মাইক হেসন 

প্রকাশিত : ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৫, ০৬:৫৫ বিকাল
আপডেট : ০৯ মার্চ, ২০২৬, ০৮:০০ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

চীনা যুদ্ধবিমানের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এখন পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে এ সপ্তাহে জমা দেওয়া পেন্টাগনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, চীনা যুদ্ধবিমান ক্রয়ের ক্ষেত্রে পাকিস্তান এখন শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। বৈশ্বিক অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে বেইজিংয়ের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চীন বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে রয়ে গেছে, যেখানে রপ্তানিতে চীনের এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন (এভিআইসি) এবং নরিঙ্কোর মতো রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলির আধিপত্য বিস্তার করেছে। 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চীনের বিমান রপ্তানিতে পাকিস্তানের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে চীন আন্তর্জাতিক বাজারে তিন ধরনের স্থির-পাখার যুদ্ধবিমান সরবরাহের প্রস্তাব দিচ্ছে: পঞ্চম প্রজন্মের এফসি-৩১ স্টিল্থ ফাইটার, চতুর্থ প্রজন্মের জে-১০সি মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান এবং জেএফ-১৭ থান্ডার, যা চীন ও পাকিস্তানের যৌথভাবে উন্নয়ন ও উৎপাদিত।

সাশ্রয়ী মূল্য, নমনীয় অর্থায়ন ও রাজনৈতিক শর্তহীন ব্যবস্থা উন্নয়নশীল দেশগুলির কাছে চীনের অস্ত্রকে বিশেষভাবে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

পেন্টাগনের মূল্যায়ন অনুসারে, পাকিস্তানই একমাত্র দেশ যাদেরকে জে-১০সি যুদ্ধবিমান সরবরাহ করা হয়েছে। ২০২০ সালের পর থেকে ২০২৫ সালের মে পর্যন্ত পাকিস্তান বিমান বাহিনী ২০টি বিমান গ্রহণ করেছে, যার মোট নিশ্চিত ক্রয় ফরমাশের সংখ্যা ৩৬টি। যদিও মিসর, উজবেকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ইরান ও বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ আগ্রহ দেখিয়েছে, পাকিস্তান ছাড়া অন্য কোনো দেশে এই বিমান রপ্তানি হয়নি।

মার্কিন প্রতিবেদনটি জেএফ-১৭ কর্মসূচিকে দুই দেশের মধ্যে সফল প্রতিরক্ষা সহযোগিতার উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত আজারবাইজান, মিয়ানমার ও নাইজেরিয়ার বিমান বাহিনীতে এই বিমান ব্যবহৃত হচ্ছিল, আর ইরাকের সঙ্গে আলোচনা চলছিল।

পাকিস্তানের জন্য জেএফ-১৭ তার বিমান বাহিনীর একটি কেন্দ্রীয় উপাদান এবং গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি প্ল্যাটফর্ম। চীন পাকিস্তানকে কাইহং ও উইং লুং সিরিজের সশস্ত্র মানববিহীন আকাশযানও সরবরাহ করেছে, যা বৈশ্বিক ড্রোন বাজারে বেইজিংয়ের প্রভাব বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।বিমান খাতের বাইরে, চীন স্থল, আকাশ প্রতিরক্ষা ও নৌ খাতে সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানি করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে চীনা নৌ শিল্পের ক্রেতা এবং ২০১৭ ও ২০১৮ সালে চারটি ফ্রিগেট ক্রয় করেছে। ভবিষ্যতে চীনের নৌ রপ্তানি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনায় পাকিস্তানকে অন্যতম প্রধান অংশীদার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পেন্টাগনের উপসংহারে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক কেবল ক্রয়-বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি যৌথ উন্নয়ন, উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত সহযোগিতায় বিস্তৃত।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়