প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অজয় দাশগুপ্ত: জুলিও-কুরি শান্তি পদক এবং  ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু

অজয় দাশগুপ্ত: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কীর্তি ও আসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগেই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। যদি তা না হতো, তাহলে হয়তো নেলসন মান্ডেলা বা ইয়াসির আরাফাতের সমতুল্য মর্যাদায়  যেতেন তিনি। এমনিতেই তাকে তুলনা করা হয় তাদের সঙ্গে। বঙ্গবন্ধু এখন বহুল চর্চিত এক বিষয় । তাকে নিবে এতো বাড়াবাড়ি আর অতি কথনের কারণে সত্যিকারের ইমেজ বা তার প্রকৃত রূপ প্রায়ই ঢাকা পড়ে যায় । জীবদ্দশায় তিনি জুলিও কুরি শান্তি পদক লাভ করে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি আসছেন। বিশ্বমানের বহু পুরস্কারই তাকে পেয়ে তার কাছে গিয়ে ধন্য হতে পারতো।

মেরি কুরি ও পিয়েরে কুরি ছিলেন বিশ্ববিখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী। বিশ্ব শান্তির সংগ্রামে এই বিজ্ঞানী দম্পতির অবদান চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য বিশ্ব শান্তি পরিষদ ১৯৫০ সাল থেকে ফ্যাসিবাদবিরোধী, সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংগ্রামে ও মানবতার কল্যাণে শান্তির স্বপক্ষে বিশেষ অবদানের জন্য ব্যক্তি ও সংগঠনকে ‘জুলিও কুরি’ শান্তি পদক প্রদান করে থাকে।

পাকিস্তান রাষ্ট্রটি গঠন হওয়ার পর থেকে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে বৈষম্য, সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালিদের ওপর অন্যায়, নির্যাতন-নিপীড়ন বঙ্গবন্ধু প্রথম থেকেই মেনে নিতে পারেনি। প্রথম আঘাত যখন আসে ভাষার ওপর তখনই বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষার দাবিতে তিনি ১৯৪৮ সালেই পাকিস্তানি শাসকদের বিরুদ্ধে প্রথম রুখে দাঁড়ান। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ছেষট্টির ছয়-দফা, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, সত্তরের নির্বাচনে বিজয়।

এতোসব ঘটনা বা ন্যায় অন্যায় হয়তো বহু দেশেই ঘটে। কিন্তু একটি নিরস্ত্র জাতিও তার নেতা কীভাবে দেশ স্বাধীনের… বুকে নিয়ে তা করতে পারে সেটাই ছিলো মূল বিষয়। বঙ্গবন্ধু ছিলেন আজীবন সরব এক অকুতোভয় নেতা। সে সরব মানুষটি পুরো একাত্তরজুড়ে ছিলেন নীরব  উহ্য অথচ শৌর্য আর ভরসার প্রতীক। আর কোনো দেশের ইতিহাসে এমন আছে কিনা জানা নেই ।

তাকে এ পদক পরিয়ে দিয়েছিলেন কে? এ দিন বঙ্গবন্ধুকে পদক পরিয়ে দেন বিশ্বশান্তি পরিষদের সেক্রেটারি-জেনারেল রমেশ চন্দ্র। বাদ বাকি বাঙালির গৌরবের ইতিহাস। ব্যক্তিগতভাবে আমি তখন যৌবনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়ানো তরুণ। আমার মনে আছে, এই পদক পাওয়ার পরও বিরোধী দলের নামে ঘাপটি মারা স্বাধীনতাবিরোধীরা নানা কথা বলেছিলো। এই এক জাতি আমরা, যারা কোনো কিছুই সবাই মেনে নিতে শিখিনি।

আজকের বাংলাদেশ বহুগুণে ফিরে আসা বঙ্গবন্ধু যেন হন অবিতর্কিত। স্তাবক দালাল বা অহেতুক বিরোধিতার বাইরে তাকে জাতির জনকের প্রকৃত আসন দিলেই হবে। আজকের এইদিনে প্রয়াত বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করি। জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা। আমাদের স্বাধীনতা টিকবে কী টিকবে না- এ সন্দেহ মিথ্যা প্রমাণ করে তার কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে চলেছে। জুলিও কুরি ছিলো দেশ ও অগ্রযাত্রার প্রথম মাইল ফলক।  লেখক : কলামিস্ট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত