প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আসিফ আকবর: পুরনো সৃষ্টির বনরুটি ভাগাভাগি নিয়ে ব্যস্ত তথাকথিত সম্মানীয় সৃষ্টিশীলদের দল!

আসিফ আকবর: বেয়াদবির মৌসুম চালু রয়েছে আগে থেকেই। মুখ বুজে থাকা বেনিফিশিয়ারীরা নিজ স্বার্থ তথা অর্জিত সম্মান রক্ষার্থে ব্যস্ত সদাই। গতবছর করোনায় দেখলাম গীতিকার, সুরকার, শিল্পীদের ব্যাপক সাংগঠনিক কুচকাওয়াজ। পুরনো সৃষ্টির নতুন হজমি শক্তির সন্ধানে ব্যস্ত সঙ্গীতের রথী-মহারথীরা। নতুন সৃষ্টি শিকেয় তুলে পুরনো সৃষ্টির বনরুটি ভাগাভাগি নিয়ে ব্যস্ত তথাকথিত সম্মানীয় সৃষ্টিশীলদের দল। এ বছর আর তাদের কোনো দৌড়ঝাঁপ দেখা যাচ্ছে না। তাদের এসোসিয়েশনগুলোর চা-কফি নির্ভর আন্দোলন ফ্যাসিবাদীদের চামচামির লাইনে আছে। গতবছর কোনো এক মহিলা শিল্পী তার সাংবাদিক গীতিকার জামাইসহ এজেন্ডাবিহীন আন্দোলনে নেমেছিলো। তখনই বুঝেছি তাৎক্ষণিকভাবে চামচা জুটে যাওয়া ইন্ডাস্ট্রিটাই হচ্ছে বেসিক মিউজিক এরিনা। একটা বুনো… আস্ফালন করেই যাচ্ছে। স্বাধীন দেশের লিজেন্ডরা ভয়ে আছেন কখন তাদের নাম মুখে নিয়ে এলোমেলো কথা বলে…, অথচ লিজেন্ডদের ক্ষমতা নেই তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার। কথা আছে অনেক, পরে কোনো একদিন লাইভে এসে অবশ্যই বলবো। আমি তার চৌদ্দগোষ্ঠীর কাউকে চিনি না। আমার মূল প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সাউন্ডটেক কোনো না কোনোভাবে তার কথা ভেবেছে। এই গল্পের সঙ্গে আমি কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট না। পরবর্তী সময়ে ভালো কণ্ঠ নার্সিং করতে গিয়ে তাকে হালকা প্রশ্রয় দেওয়া, নিজে কখনোই ফোন করে দাওয়াত দিইনি।

এরকম বহু… ঘোৎ ঘোৎ সুরে আমার কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছে। একজন মোটামুটি সিনিয়র শিল্পী হিসেবে আমার দায়িত্ব অটো চলে আসে। সঙ্গীতের মুরুব্বিরা গোপনে গোপনে আলোচনা করতে ভালোবাসেন, কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা তার আজও অর্জন করতে পারেননি। তারা মিডিয়া আর জাতির চোখে পুত-পবিত্র থাকতে চায়। আমি সঙ্গীতের বাইরের লোক হয়েও তাদের সাথে চলার চেষ্টা করেছি, তাদের গিরগিটি রূপ দেখে প্রতিদিনই মুগ্ধ আর বিব্রত হই। সবাই যার যার ধান্দায় ব্যস্ত, ফাঁকে বিপ্লবী বানিয়ে দিয়েছে আমাকে। মামলা খাই আমি যাদের জন্য তারা নিজেরা নিজেরা দাওয়াত খাওয়াখাওয়িতে ব্যস্ত। আমার সরলতা কখনোই দুর্বলতা নয়। গানের জগতে আমি সরল থেকেছি সবসময়, অনেক সিনিয়রদের স্নেহ সান্নিধ্য পেয়েছি। ফাঁকে ফাঁকে অজাত-কুজাতও পয়দা হয়েছে। আমি আকস্মিক অহি পাওয়া সবজান্তা কোনো মানুষ নই। কারও চেহারা দেখে কিংবা সাময়িক চলাফেরা করে সব বোঝার ক্ষমতা আমার হয়নি, হবেও না।

তবে বিচার বিশ্লেষণ করে শাস্তি দেওয়ার ক্ষমতা রাখি আলহামদুলিল্লাহ। একটা পলায়নপর বর্ণচোরা স্বার্থপর গোষ্ঠী কখনোই আইকনিক কারেক্টার হতে পারে না, আমি এগুলো পাত্তাই দিই না। সিস্টেমে তৈরি বুনো… গায়ক, শিল্পী, সুরকার, গীতিকার কাউকেই ছেড়ে কথা বলেনি। অথচ তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার মতো যোগ্যতাই দেখাতে পারেনি এদেশের সম্মানিত ক্রিয়েটর গ্রুপ কিংবা তাহাদের সংশ্লিষ্ট কেউ। কিছু নেইম ফেইমধারী সিনিয়ররা এদেশে শুধু পত্রিকা টিভির লেকচারার হিসেবেই রয়ে গেলেন। সুরের লোকেরা অসুরের ভয়ে তঠস্থ হয়ে নিজেরাই একেকটা বাকহীন বিচার বুদ্ধিহীন দানবে পরিণত হয়েছেন। আমি এখনো শুধুই একজন পর্যবেক্ষক, এই স্বার্থপরতার মূল্য এখন সবাইকেই দিতে হচ্ছে। সামনে আসছে আরও কঠিন দিন। আগে দাঙ্গাবাজি ভালো লাগতো, এখন বয়স হয়েছে। আপাতত আইন পড়ছি, দেখছি কীভাবে এখনো ১৮৬০ আর ১৯২৩ সালের আইন হঠাৎ করে এই সময়ে ডিজিটাল হয়ে যাচ্ছে। এদেশের তথাকথিত গীতিকার, সুরকার, শিল্পী সমিতির অতি সম্মানিতদের (মানি বা না মানি) নিজেদের গোত্রের প্রতি নপুংসক অবস্থান উপভোগ করছি। আমাকে যারা ভালোবাসেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। ভালোবাসা অবিরাম…। লেখক : সংগীতশিল্পী। ঈষৎ সম্পাদিত। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত