প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পর্যটন শূন্য জাফলং, বিপাকে পর্যটন ব্যবসায়ীরা

শাহ আলম: [২] সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার প্রকৃতিকন্যা জাফলং। সারা বছরই এই এলাকায় পর্যটকদের আনাগোনা থাকত চোখে পড়ার মতো। ঈদ মৌসুম থেকে শুরু করে বিশেষ কোনো দিনে এখানে হাজারো পর্যটকে মুখর থাকত। প্রকৃতির অকৃপণ রূপ–লাবণ্যে ঘেরা গোয়াইনঘাটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো। বর্ষায় আর বৃষ্টিতে পাহাড়-টিলা, নদী, চা-বাগানে সবুজের হাতছানি। নয়নাভিরাম এসব সৌন্দর্য দেখতে ঈদ–পরবর্তী সময়ে পর্যটকেরা ছুটে আসতেন প্রকৃতিকন্যা জাফলং এ। দেশের একমাত্র মিঠা পানির জলারবন সোয়াম্প ফরেস্ট রাতারগুল, প্রকৃতির অপ্সরাখ্যাত বিছনাকান্দি, অপার সৌন্দর্যমন্ডিত গ্রাম পান্তুমাই, জাফলংয়ের মায়াবী ঝরনাধারায়। যেখানে পর্যটকেরা মুগ্ধ হন, প্রেমে পড়েন শীতল প্রকৃতির এই লীলাভূমির।

[৩] এখানকার নৈসর্গিক প্রাকৃতিক শোভা অতি সহজে মুগ্ধ করে যে কাউকে। বিশেষ করে ঈদ পরবর্তী সময়ে কয়েক লক্ষাধিক পর্যটকের পদচারণে মুখর হয়ে ওঠে এসব পর্যটনকেন্দ্র। কিন্তু ঈদের ৬ষ্ঠ দিন জাফলং ঘুরে সেই প্রাণ চাঞ্চল্যের কোনো চিহ্নই চোখে পড়েনি। দু’চারজন স্থানীয় লোককে ঘুরতে দেখা গেলেও সেখানে অনুপস্থিত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের ঢল ও উচ্ছ্বাস। মাঝিরা ছোট-বড় নৌকা নিয়ে জাফলংয়ের জিরো পয়েন্ট, মায়াবী ঝরনা, চা-বাগানে পর্যটকেরা নৌকা নিয়ে ঘুরে বেড়াতেন। আর জাফলংয়ে বেড়াতে আসা পর্যটকদের গাইড, চলার বাহন নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন কয়েক’শ লোক। বর্ষা এলে পর্যটনকে ঘিরে জেগে উঠত জাফলংয়ের অর্থনীতি। তবে বর্তমানে করোনার এই সময়ে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে সুনসান নীরবতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখানকার পর্যটন বন্ধ থাকায় পর্যটন সংশ্লিষ্ঠ ব্যবসায়ীরাও রয়েছেন বিপাকে। আয়-রোজগার না থাকায় তাঁরা এখন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

[৪] জাফলংয়ের বিভিন্ন বিপণিবিতান, ট্যুরিস্ট গাইড, খাবার হোটেল, আলোচিত্রীসহ কর্মসংস্থান হয় উপজেলার কয়েক হাজার মানুষের। তবে এবার করোনাভাইরাসের কারণে সবকিছুই যেন থমকে গেছে। স্থানীয় ব্যক্তিরা পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় করে নৌকা তৈরি করলেও পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় ঈদ মৌসুমে পর্যটকশূন্য রয়েছে প্রকৃতিকন্যা জাফলং। অন্য পর্যটনকেন্দ্রের পাশাপাশি জাফলংয়েও পর্যটকদের আগমনে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। এর ফলে পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে।

[৫] এখানকার কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, দেশের চলমান পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘদিন থেকে ব্যবসা বন্ধ। দীর্ঘদিন লকডাউন থাকার পর আমরা বিপাকে পরে যাই। লকডাউন সিমিত করার পর ব্যাংক এবং বিভিন্ন এনজিওর লোন পরিশোধ না করতেই আবারও নতুন করে লকডাউন দেয়াতে আমাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। এখন আমাদের পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবার জোগার করতে কষ্ট হচ্ছে। তাই আমাদের একটাই দাবি সিমিত করে জাফলংয়ের পর্যটন স্পট গুলো খোলে দেয়া হয়।

[৬] জাফলং ট্যুরিস্ট গাইড ও ফটোগ্রাফার সমবায় সমিতির সভাপতি সুহেল আহমেদ জানান, জাফলংয়ে পর্যটকদের আনাগোনাকে কেন্দ্র করে কয়েক শতাধিক ফটোগ্রাফার রুজি-রোজগারের সন্ধানে বের হয়। কিন্তু এবার করোনা পরিস্থিতিতে পর্যটকদের আনাগোনা নিষিদ্ধ হওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন এসব ফটোগ্রাফার পেশায় যুক্ত লোকজন।

[৭] নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় এখন সকল পর্যটন ব্যবসা বন্ধ রয়েছে। এই ব্যবসায়ীদের আয় রোজগারের একমাত্র পর্যটন ব্যবসা। কিন্তু পর্যটকের আগমন নিষেধাজ্ঞার কারণে এখন বেকার হয়ে পড়েছে । আমাদের দবি জাফলং পর্যনট এলাকায় সিমিত পরিশরে পর্যটকদের জন্য খোলে দেয়া হয়।

সর্বাধিক পঠিত