প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

হামাসের রকেটের মূল্য ৩’শ থেকে ৮’শ ডলার

রাশিদ রিয়াজ : হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান যুদ্ধে কোন পক্ষ অন্য পক্ষকে ছাপিয়ে যেতে পারে এবং কে আগে যুদ্ধবিরতির জন্য আরও মরিয়া বলে মনে হবে, তার মূল বিষয়টি নির্ভর করছে এ যুদ্ধের খরচের ওপর। হামাসের রকেটের চেয়ে ইসরায়েলের আয়রন ডোম অনেক ব্যয়বহুল। কিন্তু ইসরায়েলি কর্মকর্তারা নিশ্চিত হয়েছেন যে হামাসের রকেটগুলো যদি আয়রন ডোম ব্যবহার করে অকেজো করে দেওয়া না হত তাহলে প্রাণহানির সংখ্যা আরো বেশি হত। সম্পদেরও ক্ষতি হত আরো বেশি। রকেট তৈরিতে হামাসের আসল ব্যয় কী এবং তা তেল আবিব ও মধ্য ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে কিভাবে আঘাত হানতে পারে তা নিয়ে বিশ্লেষণ করছেন ইসরায়েলি কর্মকর্তারা।

গত সপ্তাহে গাজা থেকে ইসরায়েলে ২ সহস্রাধিক রকেট ছোড়া হয়েছে। এরমধ্যে খুব কম সংখ্যকই দূরপাল্লার। ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ উজি রুবিন ও তাল ইনবার মনে করেন দামের পার্থক্য হামাসকে এধরনের রকেট ছোড়া থেকে বিরত থাকতে কোনো সাহায্য করবে না। তারা বলেন এটা সত্যি কিছু রকেট লাঞ্চার রয়েছে যেগুলো থেকে একাধিক রকেট নিক্ষেপ করা যায় এবং এক সঙ্গে চার থেকে নয়টি পর্যন্ত রকেট ছোড়া সম্ভব। ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষায় রুবিন হচ্ছেন অন্যতম শীর্ষ বিশেষজ্ঞ। তিনি মনে করেন হামাসের রকেটগুলো তুলনামূলকভাবে সহজ ও সস্তায় তৈরি এবং তা দূরপাল্লার ক্ষমতা সম্পন্ন নয়। রুবিন বলেন বরং লেবাননে হিজবুল্লাহর তৈরি রকেটগুলো হামাসের তৈরি রকেটের চেয়ে অধিক মূল্যবান ও দূরপাল্লায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রায় ঘায়েল করতে সক্ষম। ইসরায়েলি বিশেষজ্ঞদের হিসেবে হামাসের কাসেম ধরনের রকেটগুলোর প্রতিটির মূল্য ৩শ থেকে ৮’শ ডলারের মধ্যে। তবে হামাসের দূরপাল্লার রকেট যেমন, আর-১৬০, এম-৩০২ডি, এম৩০২-বি, জে-৮০, এম-৭৫, ফজর থ্রি, ফজর ফাইভ ও এম-৭৫ রকেটগুলোর মূল্য সম্পর্কে খুব একটা জানা যায়নি। জেরুজালেম পোস্ট

ইসরায়েলের গবেষণা কেন্দ্র ফিশার ইন্সটিটিউটের সাবেক প্রধান তাল ইনবার মনে করেন হামাসের রকেটের মূল্য হাজার ডলারের নিচে এবং স্বল্প মাত্রার রকেটের চেয়ে ২ থেকে ৩ গুণ বেশি দাম হবে দূরপাল্লার রকেটগুলোর। অথচ প্রতিটি আয়রন ডোমের মূল্য ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ ডলারের মধ্যে। ইনবার বলেন সিনাই, সুদান ও অন্যান্য স্থান থেকে চোরাচালানে সংগ্রহ করা উপকরণ দিয়ে খুবই কম খরচে হামাস এসব রকেট তৈরি করে। হিজবুল্লাহর মত হামাসের উত্তর কোরিয়া বা অন্য কোনো স্থান থেকে ইলেকট্রোনিক পদ্ধতিতে অর্থ সংগ্রহ করার মত সাইবার দক্ষতা নেই। তবে রুবিন ও ইনবার দুজনেই মনে করেন ইরান এসব রকেট বা তা তৈরির জন্যে অর্থ সরবরাহ করে থাকে। যে কারণে হামাসের রকেট তৈরিতে প্রকৃত কোনো ব্যয় নেই।

হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসারাল্লাহর উক্তি উদ্ধৃতি দিয়ে ইনবার বলেন গত বছর ডিসেম্বরে হিজবুল্লাহ নেতা স্বীকার করেন ফিলিস্তিনিদের অস্ত্র, রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্র সহায়তা দিচ্ছে ইরানের কুদস বাহিনী। সুদানে এধরনের রকেট তৈরিতে একটি কারখানা স্থাপনে কূটনীতিক সফলতা পেয়েছে কুদস বাহিনী। এই দুই ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ বলেন ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা এসব ব্যাপারে অনেক কিছুই জানেন না। রুবিন হামাস প্রধান ইসমাইল হানিয়ে’র উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ইরানের আর্থিক, সামরিক ও প্রযুক্তিগতভাবে ইসরায়েলের মোকাবেলায় হামাসের প্রতিরোধ যুদ্ধকে সমর্থন এবং অর্থায়ন ব্যর্থ হয় নি। এটি প্রজাতন্ত্রের কৌশলটির একটি উদাহরণ যা ইমাম খোমেনি প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। ইসরায়েলি বিশেষজ্ঞরা বলেন হামাস ইতিমধ্যে দূরপাল্লার রকেট ছুড়তে সমর্থ হয়েছে যা তেল আবিব অতিক্রম করে হাইফায় আঘাত হেনেছে। এমনকি তা মধ্য ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে আঘাত করতে সমর্থ হয়েছে।

রুবিন বলেন ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর কোনো ধারণা ছিল না যতক্ষণ না এইলাত শহরে হামাসের রকেট যেয়ে আঘাত হানে। এখন দেখা যাচ্ছে হামাস ইচ্ছে করলে ইসরায়েলের যে কোনো শহরে রকেট হামলা করতে সমর্থ হচ্ছে। পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে এই দুই ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র বিশেষজ্ঞ বলেন হামাস এখন তেল আবিব ও মধ্য ইসরায়েলে নিয়মিতভাবে রকেট হামলা চালিয়ে যাবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত