শিরোনাম
◈ অবশেষে শৃঙ্খলায় ফিরছে ১০২২ লাইটার জাহাজ, বিডব্লিউটিসিসির বিশেষ সফটওয়্যার চালু ◈ অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে চালু হচ্ছে না থার্ড টার্মিনাল, সিদ্ধান্ত নেবে পরবর্তী সরকার ◈ ইউরোপে কে আসবে সিদ্ধান্ত নেবে ইউরোপই: অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর ইইউ ◈ নারী প্রশ্ন, ভোটার মাইগ্রেশন ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে নির্বাচনি রাজনীতিতে উত্তাপ ◈ চট্টগ্রাম বন্দরে শ্রমিক কর্মবিরতির পর কড়া ব্যবস্থা, সরাসরি বুকিং ও সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ, বিএনপিপন্থী চার নেতা বদলি ◈ বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে উপমার লাশ, হিসাব মিলছে না কারও ◈ অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করলো পাকিস্তান ◈ তুরস্ক ভিসা এখন ঢাকায়: কোথায়, কখন, কত ফি—সব তথ্য এক নজরে ◈ জুলাই সনদে গণভোট: ‘হ্যাঁ’ জিতলে সংস্কার, ‘না’ জিতলে কী হবে? ◈ যুক্তরাষ্ট্র থেকে মোংলা বন্দরে এলো ৫৭ হাজার টন গম

প্রকাশিত : ১৪ মে, ২০২১, ০৪:০৫ সকাল
আপডেট : ১৪ মে, ২০২১, ০৪:০৫ সকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

মহানবীর বিদায়ী ভাষণ এবং ঈদের প্রার্থনা

ডেস্ক রিপোর্ট : মদিনায় সেদিন প্রখর সূর্যতাপ। হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা) মহানবী (সাঃ) এর কাছ থেকে বিদায় নিতে এসেছেন। একটু পরই তিনি ইয়েমেনের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য রওনা দেবেন।
দুজনে নামাজ শেষে বের হলেন। হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা) এর হাতে উঠের রশি, এটায় চড়েই তিনি ইয়েমেন যাবেন।
তাঁরা হাঁটছেন আর কথা বলছেন।
রাসুল (সাঃ) হাঁটতে হাঁটতে বললেন,প্রিয় মুয়াজ, আমি তোমাকে ইয়েমেনে শুধু গভর্ণর হিসেবে পাঠাচ্ছি না, আমি তোমাকে সেখানে পাঠাচ্ছি শিক্ষক হিসেবে। তোমার কাজ হবে মানুষকে ন্যায় শিক্ষা দেওয়া।
'আমি অবশ্যই আপনার নির্দেশ পালন করবো ইয়া রাসুলুল্লাহ।'
তারপর হাঁটতে হাঁটতে তাঁরা শহরের শেষ প্রান্তে পৌঁছালেন, এ জায়গাটিকেই আমরা এখন 'গেইট অব মদিনা' বলে জানি।
এবার বিদায়ের পালা।
নবীজী তাঁর অতি প্রিয় সাহাবীর কাঁধে হাত রেখে বললেন, ওহ! প্রিয় মুয়াজ, আমার মনে হয় পরের বছর আমাদের আর দেখা হবে না।
হজরত মুয়াজ উঠের পিঠে উঠতে গিয়ে থমকে দাঁড়ালেন।
'এটা আপনি কী বলছেন ইয়া রাসুলুল্লাহ!'
প্রিয় নবী মৃদু কণ্ঠে বললেন, মুয়াজ পরের বছর এখানে ফিরে এলে তুমি আমাকে দেখবে না, কেবল দেখবে মসজিদ এবং তার পাশে আমার কবর।'
হজরত মুয়াজ (রাঃ) হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ, এটাই কি আপনার সাথে আমার শেষ দেখা? আমি আর আপনাকে দেখবো না!
নবীজীর কোনো জবাব দিলেন না। তিনি নীরবে কাঁদছেন।
এরপর মহানবী (সাঃ) দশম হিজরির জিলহজ মাসের নবম দিবসে আরাফার ময়দানে মসজিদে নামিরাত ও জাবালে রহমতের ওপরে দাঁড়িয়ে অবিস্মরণীয় এক ভাষণ দিলেন।
পরদিন তিনি ঈদুল আজহার দিনেও মিনাতে একই ভাষণ দিলেন।
এটিই বিদায় হজ্জের ভাষণ।
দুনিয়ার সেরা ভাষণ।
(সিরাতুন নবী (সা.), ইবনে হিশাম (র.), খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ২৭৩-২৭৭)।
ভাষণের এক পর্যায়ে তিনি বললেন -
"হে মানবজাতি, ধর্মের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করবে না। কেননা অতীতের অনেক জাতি এ বাড়াবাড়ির কারণে ধ্বংস হয়েছে। উপস্থিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব হবে আমার এ কথাগুলো অনুপস্থিত লোকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।"
তারপর তাঁর পবিত্র কন্ঠ আবেগে রুদ্ধ হয়ে এলো। তিনি শাহাদাত আঙুল আকাশের দিকে উত্তোলন করে লোকদের দিকে ঝুঁকিয়ে তিনবার বলেন, হে রব, আপনি সাক্ষী থাকুন, আপনি সাক্ষী থাকুন, আপনি সাক্ষী থাকুন।(সহিহ মুসলিম)।
প্রশ্ন হচ্ছে, প্রিয় নবীজী আল্লাহকে সাক্ষী রেখে যা করতে নিষেধ করেছিলেন তা আমরা করছি কিনা?
মহান আল্লাহতালা পবিত্র কোরান ও তাঁর রাসুলের শিক্ষা আমাদের অনুধাবনের শক্তি দিন। ইসলাম সবাইকে ভালোবাসার যে মহান শিক্ষা আমাদের দিয়েছে তা যেন আমরা ধারণ করতে পারি।
আমিন।

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়