প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টিকা নেওয়ার পরও করোনা পজিটিভ হওয়ার কারণ জানালেন চিকিৎসক

ডেস্ক রিপোর্ট : টিকা নেওয়ার পরও কেন করোনা আক্রান্ত? করোনা রোগীর জন্য গরমজলের ভাপ কতটা ক্ষতিকর বা উপকারী? হোমিও ওষুধ কি সত্যি ইউমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করে? টিকার দ্বিতীয় ডোজ না নিলে কী হবে? আলাপকালে এমন সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন ঢাকার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের ইনচার্জ (সহকারী পরিচালক) ডা. আয়শা আক্তার।

সাক্ষাতকারের চুম্বক অংশ আমাদেরসময়ডট কমের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো:

প্রশ্ন : টিকা নেওয়ার পর হাত বা শরীর ব্যথা, যে কারণে জ্বর, মাঝে মাঝে কাঁপুনি দিয়ে জ্বর। সেটা থাকছে দুই/তিন দিন। এ ক্ষেত্রে করণীয় কী?

আয়শা আক্তার: দেখা গিয়েছে যারা ভ্যাকসিন নিয়েছেন তাদের মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক মানুষের টিকা নেওয়ার পরে হাতে বা শরীরে ব্যথা, জ্বর এগুলো থাকছে। যে কোনো ওষুধের কিছু না কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রিঅ্যাকশন দেখা যায়। তাই যাদের হাতে ব্যথা, জ্বর থাকবে, তারা প্যারাসিটামল ভরা পেটে তিন বেলা খাবেন। এটা ১ থেকে ২ দিনের মধ্যে ভালো হয়ে যায়। যাদের জ্বর, মাথাব্যথা, র‍্যাশ ওঠা দু-তিন দিন পরও থাকছে, তখন তারা অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন। আসলে টিকা নিয়ে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। অবশ্যই টিকা দেবেন। যদি অন্য কোনো সমস্যা থাকে, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক টিকা নেবেন।

প্রশ্ন : করোনা হলে বাসায় গরমজলের ভাপ নেওয়া হয়। এটার উপকারিতা আদৌ আছে কি? কেউ কেউ বলেন, এতে ফুসফুসের ক্ষতি হতে পারে। আপনি কী মনে করেন?

আয়শা আক্তার: আমাদের শ্বাসনালীর দুটো ভাগ। একটি উপরের শ্বাসতন্ত্র (রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট), অন্যটি নিচের শ্বাসতন্ত্র (রেসপিরেটরি ট্র্যাক্ট)। গরম জলের বাষ্প উপরের শ্বাসতন্ত্রের বেশি কাজ করে। মানুষের শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসেই সীমাবদ্ধ থাকে। ভাইরাসকে পরাজিত করতে প্রয়োজন ৭০ ডিগ্রি তাপমাত্রা। এই তাপমাত্রা মানবশরীর কোনো অবস্থাতেই সহ্য করতে পারবে না। তাই গরম পানির বাষ্পের উপকারিতা আছে। কিন্তু করোনাভাইরাস নির্মুলে এর সরাসরি কোনো কার্যকারিতা নেই। তবে, গরম পানির ভাপ নিলে আমাদের শ্বাসতন্ত্রের পথটা পরিষ্কার থাকে। তাই সবারই উচিত গরম পানির ভাবটা রেগুলার নেওয়া। গরম পানির ভাপ নেওয়ার সময় সাবধান থাকা উচিত, কারণ এ সময়ে গরম পানিতে অনেক দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সেজন্য সতর্ক হয়ে নেওয়া উচিত। চাইলে অনেকে হালকা কুসুম গরম পানি খেতে পারেন।

প্রশ্ন : করোনা পজিটিভ হলে বাসায় কী কী নিয়ম মেনে চলতে হবে?

আয়শা আক্তার: করোনা পজিটিভ হলে বাসায় অবস্থান করছেন যারা, তারা অবশ্যই নিজেদের আইসোলেশনে রাখবেন। মাস্ক পরে থাকবেন। ডাক্তারের পরামর্শ মতো ওষুধ খাবেন। সংক্রমণের তিনটি পর্যায় আছে। ১.মৃদু সংক্রমণ, ২.মাঝারি সংক্রমণ, ৩. মারাত্মক সংক্রমণ। হালকা জ্বর মাথা ব্যথা হলে তারা প্যারাসিটামল খাবেন ভরা পেটে। কাশির জন্য এন্টিহিস্টামিন খাবেন। এসব ব্যাপারে আমাদের ন্যাশনাল গাইডলাইন আছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে। সেটা দেখে নেবেন। এছাড়াও অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক যাবে ওষুধ খাবেন। যাদের কাশি আছে, পালস অক্সিমিটার দিয়ে অক্সিজেন স্যাচুরেশন প্রতিদিন মেপে দেখবেন। যদি অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৫ শতাংশের উপরে থাকে, যদি তার জ্বর অন্যান্য উপসর্গ যদি কম থাকে তাহলে বাসায় অবস্থান করবেন। যদি তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে যায়। এবং অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯৫ শতাংশের নিচে নেমে আসে তাহলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাবেন।

প্রশ্ন : অনেক করোনা রোগী ইমিউনিটি বাড়ানো বা করোনা থেকে মুক্তি পেতে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সেবন করছেন। এটা আসলে কতটা কার্যকরী?

আয়শা আক্তার: যাদের রোগ-প্রতিরোধক্ষমতা (ইমিউনিটি পাওয়ার) ভালো, তারা যুদ্ধ করে জয়ী হয়ে যায়। যাদের ইমিউনিটি পাওয়ার কম থাকে, অনেকের প্রেসার থাকে, আগে থেকে শ্বাসকষ্ট থাকলে, ডায়াবেটিস কিডনি সমস্যা, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এমনিতেই কম থাকে। তাদেরকে আইসিইউ’তে (আইসিইউ) নেওয়ার প্রয়োজন পড়ে অনেক ক্ষেত্রে। এক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক পথিক ওষুধ তেমন কোনো কাজে লাগছে না। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সবারই উচিত হালকা ব্যায়াম করা, সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া, পানি বেশি করে খাওয়া, ফলমূল খাওয়া।

প্রশ্ন : করোনা রোগী কী কী খেতে পারবে, কী খেতে পারবে না?

আয়শা আক্তার: করোনা হলে খাওয়া-দাওয়ার তেমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যার যার প্রয়োজন মতো পুষ্টিকর খাবার খাবেন। ফলমূল ডাবের পানি খাবেন। যেহেতু অনেকের করোনা পজিটিভ হলে জ্বর থাকে, শরীরে জলীয় বাষ্পের ঘাটতি হয়, তাই বেশি করে পানি খাবেন। করোনা পজিটিভ যারা হচ্ছেন তাদের যদি উচ্চ রক্তচাপ থাকে, তাহলে ডাক্তারের পরামর্শ মতো খাবার খাবেন। যাদের ডায়াবেটিস থাকে তারা চিনিযুক্ত খাবার কম খাবেন। কিডনি সমস্যা রয়েছে তাদের পানি কম খেতে হয়। তাই অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মোতাবেক চলবেন। আমাদের স্বাস্থ্য বাতায়ন আছে ১৬২৬৩। এই নাম্বারে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে চলবেন।

প্রশ্ন : শ্বাসকষ্ট না থাকলে বাসায় করোনা রোগীর চিকিৎসা কী?

আয়শা আক্তার: যদি শ্বাসকষ্ট না থাকে এবং অন্য কোনো উপসর্গ যদি না থাকে তাহলে রোগী করোনা পজিটিভ যারা আছেন, তারা ১৪ দিন নিজেদের আইসোলেশনে রাখবেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্য থেকে দূরে থাকবেন।

প্রশ্ন : শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এমন কী ধরনের খাবার খাবে করোনা রোগী?

আয়শা আক্তার: ভিটামিন ডি পাওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হল সূর্যালোক। এছাড়া ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খাবেন। মাছ, ডিম বিপাক বাড়ানোর পাশাপাশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান ও নেশার অভ্যাস বাদ দেওয়া, মানসিক চাপ কমানো ও পর্যাপ্ত পানি পান করা উচিত। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রদাহনাশক খাবার খাওয়া। যেমন- হলুদ, টমেটো, জলপাইয়ের তেল, আদা, মাছের তেল, ইত্যাদি ওমেগা-থ্রি সমৃদ্ধ খাবার রোগ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। সামুদ্রিক মাছ খাওয়া শরীরের জন্য ভালো। ওজন অবশ্য নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। খেতে হবে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারও।

প্রশ্ন : অনেকেই একাধিক বার করোনা পজিটিভ হচ্ছেন, এটা কেন হচ্ছে?

আয়শা আক্তার: টিকা নেওয়ার পরও অনেকে করোনা পজিটিভ হচ্ছেন। কারণ এই টিকা আমাদেরকে সুরক্ষা দিচ্ছে ৭০ থেকে ৮৫ শতাংশ। বাকিটা আমরা অরক্ষিত অবস্থায় থাকছি। তাই অবশ্যই আমাদের সবাইকে মাস্ক পরতেই হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতেই হবে। ভ্যাকসিন নেওয়ার ১৪ থেকে ২১ দিন পর অ্যান্টিবডি তৈরি হয়।

প্রশ্ন : প্রথমবার নেগেটিভ হওয়ার পর তার মধ্যে কত শতাংশ ইমিউনিটি গ্রো করে? টিকার কার্যকারিতা কতদিনের মধ্যে শুরু হয়?

আয়শা আক্তার: যারা প্রথম টিকা নিয়েছেন তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ৭০ থেকে ৮৫ শতাংশ বেড়েছে। দ্বিতীয় টিকা ইমিউনিটিকে বুস্ট করবে। টিকার কার্যকারিতা ১৪ থেকে ২১ দিন পর শুরু হয়।

প্রশ্ন : যারা প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছে, দ্বিতীয় ডোজ নেয়নি। তাদের কি কোনো ক্ষতি হবে?

আয়শা আক্তার: যারা প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছে। তারা দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার পরে এই সুরক্ষাটা আরও বাড়িয়ে দেয় ইমিউনিটি বুস্ট করে। দ্বিতীয় ডোজের টিকা না নিলে তাদের সুরক্ষার হার কমে যাবে। এ ব্যাপারে সরকার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সবাইকে টিকা দেওয়ার জন্য, যারা প্রথম ডোজ নিয়েছে তারা সবাই যাতে দ্বিতীয় ডোজ পায়।

প্রশ্ন : অনেক সময় দিলেন, এ জন্য ধন্যবাদ।

আয়শা আক্তার: আপনাকেও ধন্যবাদ। সূত্র: সময় নিউজ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত