প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দ্য সুপ্রীম কোর্ট অব ফেইসবুকের ১/২০২১ নং রেফরেন্সের রায়: ট্রাম্পের পোষ্ট ডিলিট বৈধ, আইডি ডিলিট অবৈধ

সাব্বির এ মুকীম : প্রতিষ্ঠানটার নাম আসলে ওভারসাইট বোর্ড। এটি ফেইসবুকের সুপ্রীম কোর্ট হিসেবে আখ্যা লাভ করেছে। খুব সম্ভবত এই আদালতই হতে যাচ্ছে নেক্সট জেনারেশন কোর্ট। এই আদালতের সবচে বড়ো বৈশিষ্ট হচেছ- রাষ্ট্র বা রাষ্ট্রীয় ঐক্যমত উপাদানটা এখানে নাই, রাষ্ট্রের ম্যান্ডেটের কোনো দরকার পড়ে নাই। আলাদা কোনো রাষ্ট্র নাই, রাষ্ট্রের নাম একটাই- এতে বর্তমানে ২০০ কোটি লোক বসবাস করে- সবাই ফেইসবুক নিবাসী। সর্বোচ্চ সাজা একটাই- সেই পুরোনো সাজা- রাজ্য হতে বের করে দেয়া, রাজ্য ছাড়া করা।

এতোদিন ফেইসবুক নিজেই আইন বানাতো, নিজেই বিচার করতো, নিজেই আইন প্রয়োগ, আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করতো, নিজেই সাজা কার্যকর করতো। কিন্তু ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির প্রয়োগ করে ২০২০ সালে ওভার সাইট বোর্ড নামে সুপ্রীমকোর্ট অব ফেইসবুক কাজ শুরু করে, যার আদেশ ফেইসবুক নিজেও মানতে বাধ্য।

এই আদালতের মূল আইন ২টি- ওভারসাইট বোর্ড চার্টার ২০১৯ এবং ওভারসাইট বোর্ড বাই ল’জ যা ২০২১ সালের জানুয়ারীতে সংস্করণে বলবৎ আছে। প্রথমটা সাবস্টেনটিভ আইন, পরের টা প্রসিডিউরাল আইন। এছাড়াও প্রতিবছর বোর্ড মামলা বাছাই সংক্রান্ত নীতি নবায়ন করে। এ আইনে মূল মোট্টো হিসেবে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পূর্ণ-বাক-স্বাধীনতা (Balanced Total Freedom of Speech) কে বেছে নেয়া হয়েছে। এই আদালতের কাজই হলো ফেইসবুকে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পূর্ণ বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। এই চার্টারে অন্য কোনো প্রচলিত বৈশ্বিক বা রাষ্ট্রিয় আইন কে স্বীকার ও করা হয় নাই আবার অস্বীকার ও করা হয় নাই। তার মানে অন্যান্য প্রচলিত আইনগুলো ইচ্ছে করলে বোর্ড প্রয়োগ করতে পারবে কিন্তু তার কোনোটা দিয়েই বোর্ড বাধ্য নয়। এই যে গোষ্ঠীগত আইন, ধর্মীয় আইন, জাতীয় আইন, আন্তর্জাতিক আইন সবরকম আইনকে পাশ কাটিয়ে একেবারে ভিন্ন আইন-আদালত ব্যবস্থা তৈরী করা হলো, সেজন্যই একে নেক্সট জেনারেশন কোর্ট বলা হলো। গত হাজার বছর ধরে মানুষের ইতিহাসে গড়ে ওঠা আইনের সামষ্টিক সৌধ কে ফেইসবুক স্বীকার করে কিন্তু ফেইসবুকের কোনোভাবেই সেসব দ্বারা সাবস্টেনটিভ, প্রসিডিউরাল কিংবা নীতিগত কোনোভাবেই বাধ্য নয়।
আইন মতে এ আদালতে সংক্ষুব্ধ ব্যাক্তিও যেতে পারেন আবার ফেইসবুক নিজেও কোনো ব্যাক্তির বিরুদ্ধে যেতে পারে। এছাড়া ফেইসবুক নিজে তার কোনো বিষয়ে মতামত চাওয়ার জন্য ও এই আদালতে যেতে পারে- অনেকটা বাংলাদেশ সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের এখতিয়ার।
এই আলাপের আলোচ্য সিদ্বান্তটি এই আদালতের প্রথম রেফারেন্স। এ আদালতের এখন পর্যন্ত দেয়া মোট দশটি রায়ের আগের নয়টিই ছিলো ফেইসবুকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা। দশটি রায়ের মধ্যে তিনটি রায় ফেইসবুকের পক্ষে গেছে, ৬টি রায় ফেইসবুকের বিপক্ষে গেছে আর প্রথম মামলাটি এবেইট হয়ে গেছে কারন সংক্ষুব্ধ ব্যাক্তি মামলা দায়ের করে নালিশী পোষ্ট নিজেই ডিলিট করে ফেলে আদালতে গড়হাজির ছিলেন। প্রথম মামলার এমন অনাকাংখিত পরিস্থিতির ফলে মামলার এডমিশন হিয়ারিং করার নীতি বোর্ডে জোরালোভাবে কার্যকর হয়েছে। এখন আদালত আগে মামলা বাছে, কোনটা শুনবে , আর কোনটা শুনবে না।
দুনিয়ার প্রতিনিধিত্বশীল ৬টি জোন থেকে মোট ২০জন বিচারক বাছাই করা হয়েছে। আদালতের নাম কোর্ট রাখা হয় নাই, কোর্ট শব্দের আরেক অর্থ রাজদরবার ও বটে। রাজা-রাজড়া-জমিদারী কনসেপ্টগুলোর প্রচলিত অতীত ভার্সনগুলো প্রকাশ্যে ফেইসবুক স্বীকার করে না। একইভাবে বিচারকদের বিচারক বলা হয়নি, বলা হয়েছে বোর্ড মেম্বার। এই ২০ জনের মধ্যে ১০ জন পুরুষ বিচারক, ১০ জন নারী বিচারক।

প্রচলিত আছে যে, যুদ্ধ এতো স্বস্তা বিষয় নয় যে যুদ্ধ কেবল যুদ্ধশিক্ষায় শিক্ষিত জেনারেলদের হাতে ছেড়ে দেয়া যাবে। ঠিক তেমনি ফেইসবুক এই আদালত গঠনে দেখিয়ে দিয়েছে যে, ২০০ কোটি মানুষের সমাজের জন্য ন্যায় বিচার করা এতো ছোটো, এতো স্বস্তা বিষয় নয় যে, ন্যায় বিচার কে কেবল আইন শিক্ষায় শিক্ষিত আইন পেশাজীবীদের হাতে ছেড়ে দেয়া যাবে। এই ২০ জন বিচারক এর মধ্যে তাই উকিল কেবল ৪জন, আইনের শিক্ষক আছেন ৭জন, ২জন সাংবাদিক, এছাড়াও আছেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশারদ, মানবাধিকার কর্মী, কর্পোরেট ব্যাক্তি, সাহিত্য অঙ্গনের প্রতিনিধিও একজন আছেন। বেশীরভাগেরই আইনে ডিগ্রী থাকলেও, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সাংবাদিকতা, তথ্যপ্রযুক্তি বিজ্ঞানে ডিগ্রিধারীরাও আছেন। এক জন বিচারক ভারতের ও আছেন, একজন বিচারক পাকিস্তানের ও আছেন। দক্ষিণ এশিয়া জোনের থেকে বিচারক হওয়ার পাইপ লাইনে এরপর ই যারা আছেন, তাঁরা শ্রীলঙ্কার, নেপালের এরপর আবার ভারত পাকিস্থানের। বাংলাদেশ থেকে কাউকে ফেইসবুক বিচারকের পাইপ লাইনেও রাখার জন্য খুঁজে পায়নি। এই আদালতের বিচারক হওয়ার দোষগুণ অনুভব করা যায় ২০ জন বিচারকের ১জন ইয়েমেন এর সাবেক আইনমন্ত্রীর কন্যা নোবেল জয়ী বেগম তাওয়াক্কুল কারমান কে যাচাই করে দেখলে-যিনি একজন সাংবাদিক।
আলোচ্য রেফারেন্স ছিলো ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত ৬ জানুয়ারী আমেরিকার ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্প সমর্থকদের হামলার সময় ট্রাম্পের করা দুটি স্ট্যাটাস নিয়ে। স্ট্যাটাস দুটি ফেইসবুক ডিলিট করে দেয়- কারণ ফেইসবুক মনে করে স্ট্যাটাস দুটি ফেইসবুকের ডেঞ্জারাস ইনডিভিজুয়ালস এন্ড অর্গানাইজেশনস সংক্রান্ত কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড ভঙ্গ করে। এবং এরপর ৭ জানুয়ারি ফেইসবুক সিদ্বান্ত নেয়, ট্রাম্পের ফেইসবুক একাউন্ট চিরতরে মুছে দেয়ার এবং তা মুছে দেয়া হয়। এরপর ফেইসবুক ওভারসাইট বোর্ডের কাছে চার্টারের ২নম্বর অনুচেছেদের ১নং ধারায় আলোচ্য রেফারেন্স দায়ের করে। ওভার সাইট বোর্ড আলোচ্য রায়ে নীচের দুটি প্রশ্ন আকারে ফেইসবুকের এই রেফারেন্সের রায়ের বিচার্য্য বিষয় বা ইস্যু গঠন করে, যথা:-
(১) ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৬ জানুয়ারির দুটি পোস্ট ডিলিট করা ফেইসবুকের আইন মোতাবেক হয়েছে কিনা?
(২) ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিরতরে ফেইসবুক থেকে বের করে দেয়া ন্যায় সম্মত কিনা?
এর বাইরে ফেইসবুকের চাহিদা মোতাবেক,
(৩) রাজনৈতিক নেতার পোস্ট, কমেন্ট, একাউন্ট ডিলিটের ক্ষেত্রে কি নীতিমালা গ্রহন করে মেনে চলা যেতে পারে?

মামলার শুনানীতে আদালত ফেইসবুকের লিখিত বক্তব্য নেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য নেন, একই সাথে ৯৬৬৬ জন ফেইসবুক একাউন্ট হোল্ডার ব্যাক্তির বক্তব্য গ্রহন করেন। এই পাবলিক জুরিদের মধ্যে ৯৩৮৮ জন মতামত দাতা যুক্তরাষ্ট্রের বসবাসকারী মধ্য থেকে আসেন, বাকী মতগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাসকারী ফেইসবুক একাউন্ট হোল্ডার থেকে এসেছে। আমাদের এই উপমহাদেশ থেকে গেছে ৭জনের মতামত। বাংলাদেশের কেউ মতামত প্রদান করেননি।
বিজ্ঞ আদালত গত ০৫ই এপ্রিল, ২০২১ তারিখে প্রদান করা রায়ে ১ম বিচার্য বিষয় ফেইসবুকের পক্ষে এবং ২য় বিচার্য্য বিষয়ে ফেইসবুকের বিপক্ষে রায় দেন এবং রাজনৈতিক ব্যাক্তির পোষ্ট, কমেন্ট, একাউন্ট ডিলিট সংক্রান্তে ৯টি নির্দেশনা দিয়ে দিয়ে একটি পলিসি ফর্দ প্রদান করেন। একই সাথে আগামী ৬মাসের মধ্যে কেনো ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তার ফেইসবুক একাউন্ট চালু করতে আদেশ দেয়া হবে না সে বিষয়ে জবাব দিতে বলেন।

আলোচ্য রায় লিখতে গিয়ে বিজ্ঞ আদালত তিন টি নজীরের দোহাই দেন। সেসব নজীর কোনো জাতীয় বা আন্তর্জাতিক বা গোষ্ঠীগত আদালতে তৈরী হওয়া পূর্বনজীর নয়- বরং এই ওভারসাইট বোর্ডের ই ২০২০ সালে প্রদান করা ৩/২০২০, ৫/২০২০ এবং ৬/২০২০ মামলাগুলোর রায়। বিজ্ঞ আদালত জাতিসংঘের ব্যবসা ও মানবাধিকার সংক্রান্ত নীতি ২০১১, সিভিলি ও পলিটিক্যাল রাইটস কভেনেন্ট, কভেনেন্ট অন এলিমেনেশন অব অল ফর্মস অব রেসিয়াল ডিসক্রিমিনেশন সহ আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক আইনের ফ্লেভার ব্যবহার করেছেন, যেহেতু সেসব আইন ফেইসবুক তার নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

বিজ্ঞ আদালত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ৬ তারিখের পোস্ট কে জাতিসংঘের রাবাত প্ল্যান অব একশন এ দেয়া কাঠামোর নিক্তিতে মেপে দেখান যে পোষ্ট দুটি আসলেই মানবাধিকারের লংঘন। কারণ হিসেবে বিজ্ঞ আদালত লিখেন,
(১) পোষ্ট দুটির কনটেক্সট ছিলো প্রচন্ড রকম উত্তপ্ত রাজনৈতিক সময়।
(২) পোষ্ট দাতা রাজনৈতিকভাবে প্রচন্ড ক্ষমতাধর ব্যাক্তি।
(৩) পোষ্ট দুটিতে সন্ত্রাসের ইংগিত স্পষ্ট।
(৪) পোষ্টের কনটেন্ট এবং ফর্ম্যাটে সন্ত্রাসীদের পরিষ্কারভাবে উস্কে দেয়া হয়েছে।
(৫) পোষ্টদাতার ফলোয়ার সংখ্যা সাড়ে ৩ কোটি- পোষ্টদাতার বিশাল একটি অডিয়েন্স আছে।
(৬) রাজনৈতিকভাবে এক অনিশ্চিত সময়ে এমনভাবে পোষ্ট দুটি দেয়া হয়, যাতে মানুষের জীবন, নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা, রাজনীতে মানুষের সহজে অংশ নেয়া ভয়ানক হুমকীতে পড়ে।
এর ফলে ফেইসবুকের মানবাধিকার সংক্রান্ত নীতিমালা প্রচন্ডভাবে লংঘিত হয়েছে মনে করে বিজ্ঞ আদালত ডোনাল্ড ট্রাম্পের সে পোষ্ট দুটি রাষ্ট্র পক্ষ তথা ফেইসবুক কতৃক ডিলিট করা ফেইসবুকনীতি সম্মত মর্মে ঘোষণা করেন।
এরপর ২য় বিচার্য বিষয়ে বিজ্ঞ আদালত লিখেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফেইসবুক একাউন্ট চিরতরে মুছে দেয়া, অনভ্রিপ্রেত কারণ:-
(১) ফেইসবুক কোনো একাউন্ট কখন চিরতরে মুছে দেয়া হবে, সে সংক্রান্ত কোনো নীতি মালা করে নাই।
(২) ডোনাল্ড ট্রাম্প এর একাউন্ট মুছতে গিয়ে ফেইসবুক কোনো স্বচ্ছ এবং প্রকাশ্য নীতি প্রয়োগ করে নাই।
(৩) ফেইসবুকের দেয়া সাজা প্রপোশনেট মানে আনুপাতিক হারের সাজা তথা অপরাধ অনুপাতে সাজা হয় নাই।
(৪) কোনো রকম নীতিমালা ছাড়াই একটা একাউন্ট চিরতরে মুছে দিয়ে এরপর সেই মুছে দেয়া নিয়ে এই আদালতে মতামত চেয়ে ফেইসবুক আসলে দায়িত্ব এড়াতে চেয়েছে। আদালতের ঘাঁড়ে বন্দুক রেখে ফেইসবুক গুলি করতে চাচ্ছে।
(৫) চিরতরে একাউন্ট মোছার সাজার নীতিমালা করার দায়িত্ব ফেইসবুকের, এই আদালতের নয়।
এসমস্ত যুক্তিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফেইসবুক একাউন্ট মুছে দেয়া কে বিজ্ঞ আদালত অবৈধ ঘোষণা করে ফেইসবুক কে নির্দেশ দেন:-
(১) ৬মাসের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের একাউন্ট চিরতরে মোছার সিদ্ধান্ত আবার বিবেচনা করে সঠিক সাজা নির্ধারন করতে হবে।
(২) নতুন সাজা নির্ধারণে –(ক) অপরাধের গভীরতা এবং (খ) ভবিষ্যতের ক্ষতি হবার আশংকা অবশ্যই আমলে নিতে হবে।
(৩) সাজা নির্ধারণে ফেইসবুকের নীতিমালাই মূল বিবেচ্য বিষয় হিসেবে নিয়ে অপরাধ অনুপাতে সাজা দিতে হবে।

এরপর বিজ্ঞ আদালত ৩নং বিচার্য্য বিষয় নিয়ে বলেন, যে ফেইসবুক রাজনৈতিক ব্যাক্তিত্ব তথা পলিটিক্যাল লিডার বলতে আসলে কি বুঝিয়েছে তা স্পষ্ট করে নাই। এ সংক্রান্ত বক্তব্যে বিজ্ঞ আদালত বোঝাতে চেয়েছেন যে, ১জন রাজনৈতিক ব্যাক্তি অরাজনৈতিক পদে থাকতে পারেন আবার ড: ইউনুসের মতো একজন অরাজনৈতিক ব্যাক্তি রাজনৈতিক পোষ্টে থাকতে পারেন, যেমন আমাদের দেশে ফখরুদ্দিন এর মতো অরাজনৈতিক ব্যাক্তি দেশের প্রধানমন্ত্রীর সমান পদে ছিলেন। তাছাড়া অরাজনৈতিক ব্যাক্তির অরাজনৈতিক পদে থেকে দেয়া বক্তব্যও ভয়ংকর বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে যা ডোনাল্ড ট্রাম্পের ডেকে আনা বিপর্যয় হতে কোনো অংশেই কম নয়। সেজন্য ধ্বংস করার শক্তি বিবেচনায় রাজনৈতিক- অরাজনৈতিক ফারাক করা বিজ্ঞ আদালত অযৌক্তিক মনে করেছেন। সেসব বিবেচনায় ৩নং বিচার্য্য বিষয়ে ফেইসবুককে আদালত লিখেছেন:-
(১) ধ্বংস এড়াতে জরুরী ব্যবস্থা নেয়ার ক্ষেত্রে ফেইসবুক অবশ্যই কোনো পোষ্টের সংবাদমূল্য অবজ্ঞা করবে।
(২) জনপ্রিয় ব্যাক্তিদের একাউন্টকে সাজা দেয়ার সময় অনুসরণ করা নীতিগুলো ফেইসবুক অবশ্যই জনগনের সামনে প্রকাশ করবে।
(৩) রাষ্ট্রপ্রধানদের একাউন্ট, পোষ্ট, কমেন্ট সাসপেন্ড বা ডিলিট করার জন্য অভিযুক্ত নিয়মিত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার এর নিয়মিত লংঘনের অভ্যাসের প্রমান ই যথেষ্ট।
এছাড়াও ফেইসবুককে আদালত ৯টি নির্দেশনা দেন।

বাক-স্বাধীনতার জুরিসপ্রুডেন্সে ফেইসবুক সুপ্রীম কোর্টের এই রায় খুব সম্ভবত নতুন যুগের বার্তা বহন করে, সে যুগ ইতিযুগ না নেতিযুগ তা যুগটা আসলেই প্রমান হবে। আমরা বরং ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিযুক্ত দুটি পোষ্টের একটি আবার পড়ি-
” আমি জানি আপনাদের বেদনা, আমি জানি আপনারা কষ্ট পেয়েছেন। আমাদের একটি নির্বাচন হয়েছিল যা আমাদের কাছ থেকে চুরি করা হয়েছে। আমরা ভূমিধস বিজয় পেয়েছিলাম সকলেই এটি জানেন। সবচেয়ে ভালো জানে প্রতিপক্ষ। তবে আপনাদের এখন বাড়ি চলে যেতে হবে। আমাদের শান্তি বজায় রাখতে হবে। আমাদের আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে হবে। আইন-শৃঙ্খলায় আমাদের মহান জনগণের সম্মান রক্ষা করতে হবে। আমরা কারও ক্ষতি করতে চাই না। খুব কঠিন সময় যাচ্ছে। এর আগে কখনও এ ধরণের ঘটনা ঘটেনি। আমাদের বিজয় কে আমাদের কাছ থেকে, আমার কাছ থেকে, আপনাদের কাছ থেকে, আমাদের দেশ থেকে ওরা ছিনতাই করেছে, যা আগে কখনও ঘটেনি। এটি একটি জালিয়াতিপূর্ণ নির্বাচন ছিল, তবুও আমরা শত্রুদের হাতের পুতুল হতে পারি না। আমাদের শান্তি বজায় রাখতে হবে। তাই বাড়ি যান। আমি আপনাদের কে ভালোবাসি। আপনারা আমার খুব বিশেষ জন। কি ঘটেছে আপনারা সবই দেখেছেন। যা হয়েছ তা খুব খারাপ, খুব খারাপ। আমি জানি আপনারা কেমন অনুভব করছেন। তবুও বাড়িতে যান, শান্তিমত বাড়ি যান।”
ভারতীয় বর্ণবাদী চিত্রনায়িকা কংগনা রাণৌত কেবল হুমকী দিয়েছেন , ডোনাল্ড ট্রাম্প ফেইসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম গয়রহঃ সোশ্যাল নেটওয়ার্কগুলোর বিকল্প ই তৈরী করে দেখিয়েছেন- নাম “ফ্রম দ্য ডেস্ক অব ডোনাল্ড জে ট্রাম্প।” এতে একাউন্ট খোলা যায়, তবে পোষ্ট দেয়া, কমেন্ট করা কেবল মাত্র ট্রাম্প পারবেন আর কেউ না। ফেইসবুকের মতো ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়া কোন জুরিসপ্রুডেন্স তৈরী করে কিনা তা দেখার জন্যও অপেক্ষা করতে হবে।

সাব্বির এ মুকীম
এডভোকেট, কুমিল্লা জজ কোর্ট
(https://www.facebook.com/samukim1/)
([email protected])

সর্বাধিক পঠিত