প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

অধ্যাপক ডা. মো. তাজুল ইসলাম: সাইকিয়াট্রিস্টের জার্নাল : নবাগতরা যেভাবে মেডিটেশন করবেন

অধ্যাপক ডা. মো. তাজুল ইসলাম: [১] প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন: ওজন কমাতে যারা হাঁটেন, ব্যয়াম করেন তারা কি রাতারাতি কাক্সিক্ষত ফল পান? মেডিটেশনেও ফল পেতে সময় লাগবে। তাই রাগ করে, বিরক্ত হয়ে চেষ্টা বাদ দেবেন না। বরং প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন যে নিয়মিত প্র্যাকটিস করবেন।

[২] শ্লথগতিতে অগ্রসর হন: আমরা যেমন প্রথমে ১৫ মিনিট, পরে ৩০ মিনিট এভাবে হাঁটার সময় বাড়াই, মেডিটেশনেও তেমনি প্রথমে স্বল্প সময় দিয়ে শুরু করুন। যখন আয়ত্বে আসবে ও স্বস্তি অনুভব করতে শুরু করবেন তখন ক্রমশ সময় বাড়িয়ে নেবেন।

[৩]  মেডিটেশনের ওপর বই পড়ুন ও  গাইডেড সিডি কিনুন।

[৪] বিভিন্ন ‘পজিশন’ পরীক্ষা করে দেখুন কোনটি আপনার জন্য আরামদায়ক: ইয়োগাতে সাধারনত ‘পদ্মাসন’ করা হয়। আপনি পদ্মাসন করতে পারেন, পায়ের ওপর পা তুলে দিয়ে এক পা এর পাতা অন্য পা এর রানে রাখতে পারেন; চেয়ারে বসতে পারেন, দুহাত জোড় করে প্রার্থনার মতন করে মুখের সামনে রাখতে পারেন, শুয়ে করতে পারেন। এককথায় যেভাবে খুশি করতে পারেন। যখন মেডিটেশন আয়ত্বে চলে আসবে নিজেই বুঝবেন কোন পজিশন আপনার জন্য আরামদায়ক।

[৫] মেডিটেশনেরর বিভিন্ন পদ্ধতি : মেডিটেশনের কোনো সঠিক বা বেঠিক পদ্ধতি নেই। যেটি আপনার জন্য কার্যকর সেটিই আপনার জন্য সঠিক পদ্ধতি। মন থেকে সব চিন্তা দূর করে মনকে ‘স্বচ্চ, পরিচ্ছন্ন’ রাখা সহজ কোনো কাজ নয়। অতিন্দ্রিয় কোনো সত্ত্বার সঙ্গে যোগাযোগ হবে এমন অতি আশাবাদ না থাকা ভালো। তবে একসময় হয়তো আপনি এমন স্তরে পৌঁছতে পারবেন যে আপনি নিজের উচ্চতর সত্বার সঙ্গে নিজকে কানেক্ট করতে  পারবেন। তবে নবাগতদের এতো প্রত্যশা না থাকা ভালো। বারবার চিন্তার জট এমনভাবে আপনাকে জড়িয়ে ফেলবে যে আপনি  ভাবেন মনকে তো কিছুতেই পরিষ্কার রাখতে পারছি না, চিন্তা জালে বারবার আটকে যাচ্ছি, আমি বোধহয় পারবো না। তাই প্রত্যশা কমিয়ে স্রেফ প্রাকটিস করে যান।  মেডিটেশনের বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে ট্রাই করে দেখুন কোনটি আপনার জন্য সুবিধেজনক। কয়েকটি পদ্ধতির বিবরণ দিচ্ছি :

এখানে দুটি ভিন্ন ধরনের সাউন্ড একত্রিত হয়ে সম্মোহনী সুর তৈরি করে। এটি অনেকের কাছে আনন্দদায়ক ও সহজ মনে হবে। এগুলোnice chill music। শুয়ে থাকুন ও সুরেলা মিউজিকের সম্মোহনী আবেশে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যাবেন। এখানে এমন সুর তৈরি করা হয় যা কেবল মন- মস্তিষ্ক  শুনতে পারে। ফলে মন হয় প্রশান্ত, শিথিল ও ধ্যানমগ্ন। বলা হয় অন্য মেডিটেশন  একঘণ্টা করার চেয়ে এখানে ১২ মিনিটে সে ফল পাবেন। যদি অন্য প্রকার মেডিটেশনে মনকে সহজে বশে আনতে না পারেন, সহজে মনকে শান্ত করতে না পারেন, (যেমন আমি) তাহলে এ মেডিটেশন আপনার জন্য  উপযুক্ত। এটি নিয়মিত চর্চা করলে আপনি শীঘ্র উচ্চতর স্তরে যেতে পারবেন।গবেষনায় দেখা গেছে এই ‘বিটস’  মনকে স্বচ্চ করতে, (clarity), এলোমেলো চিন্তা থেকে লক্ষাভিমুখী চিন্তায় মনোযোগ দিতে, প্রাণ শক্তি বাড়াতে, সৃজনশীলতাকে বৃদ্ধি করতে এবং আরও অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সাহায্য করে। যা আপনার মনে স্বস্তি, শান্তি ও সুখ আনবে। বলা হয় মাদক যে পর্যায়ের আনন্দ, প্রশান্তি দেয়, এ মেডিটেশনে আপনি তেমন প্রশান্তি, আনন্দ পাবেন। এ জন্য একে ‘digital drugs’ বলা হয়। কিছু বিটস কিনতে হয়, কিছু ইউটিউবে ফ্রি পাওয়া যায়। লেখক : মনোবিদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত