প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] করোনার মহামারিতে কাজের সুযোগ কমছে, বাড়ছে মানুষের ক্ষুধা

শাহীন খন্দকার: [২] যতোই দিন যাচ্ছে শ্রমজীবি মানুষেরা দরিদ্র থেকে দরিদ্র সীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। এটাই এখন বাস্তবতা করোনা সংক্রমণ রোধে দেশে ‘কঠোর লকডাউন’ চলায় ঢাকাসহ সারাদেশেই শ্রমজীবি মানুষের শ্রম বন্ধ। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন শ্রমজীবি মানুষেরা ।

[৩] তাদেরও জীবন-সংসার সন্তান আছে। আছে শ্রম দেওয়ার সামর্থ্য। কিন্তু শ্রম বিক্রির সুযোগ ক্রমশ সংকুচিত হয়ে পড়ছে করোনা অতিমহামারীতে। তবুও তারা বেঁচে আছেন, বেঁচে থাকবেন। শ্রমজীবী মানুষেরা এখন বেঁচে থাকার যুদ্ধ করছেন। করোনার কারণে দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা আজ হুমকির মুখে।[৪] চলমান লকডাউনে বিধিনিষেধের কারণে রিকশাচালক, গাড়িচালক,দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, দোকানদার, ফুটপাতের ছোট ব্যবসায়ী এমন খেটে খাওয়া কর্মজীবীরা বিপাকে পড়েছেন। তারা এখন রাস্তায় নেমে এসেছেন, যদি কেউ নির্মান কাজে ডাকে ।

[৫] মোহম্মদপুর জাপান সিটি গার্ডেনের সামনে কথা হয় আয়শা, জরিনা, রাহেলাদের সঙ্গে। রাহেলা জানালেন গত বছরের লকডাউনে সাহায্য সহযোগীতা পেয়েছি । এবারের লকডাউনে মানুষ হেঁটে যায় ফিরেও তাকায় না। যে শ্রমজীবী মানুষের রক্ত ঘামে রচিত হয় সভ্যতার নগরী, তারা আজও সমাজ রাষ্ট্রে উপেক্ষিত, অবহেলিত ও সুবিধা বঞ্চিত জরিনা বলেন, জীবনের চাকা যদি থেমে যায় রাষ্ট্রের উন্নয়ণে অবদান রাখবে কে ?

৬] তিনি বলেন,কর্ম হারিয়ে দিনের পর দিন না খেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকতে প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হচ্ছে। দিনমজুর ও দিন এনে দিন খাওয়া শ্রমিকদের খাদ্য চাহিদা পূরণে এবার এগিয়ে আসেন নি সমাজের ধনাঢ্যরা এমন কি তাদেও অভিযোগ সরকারের পক্ষ থেকেও দেওয়া হয়নি সাহায্য। কর্মহীন মানুষের প্রত্যাশা সরকারসহ সামর্থ্যবানরা শ্রমজীবী মানুষের দাঁড়াবে।

[৭]এক প্রশ্নে জবাবে এসব শ্রমজীবি মানুষেরা জানান, সারা বছর বস্তিতে থেকে নির্মাণ শ্রমিক কেউবা বাসা বাড়িতে মার্কেটে ধোয়ামোছার কাজ করে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে থাকেন। সেই সঙ্গে কিছু সঞ্চয় করে ঈদ উৎসবে বাড়ি যান। গত দুই বছর যাবত তাদের বাড়ী যাওয়া হচ্ছে না করোনা মহামারীর কারণে।

[৮] রাহেলা জানালেন, সুদের ওপর টাকা নিয়ে বস্তিভাড়া মিটাতে গিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন, করোনার কারণে মানুষ কাজে নিচ্ছে না। কাজ না থাকলে কি করে সুদের টাকা যোগার করবেন এটাই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। বাড়ী চলে যাবেন সেই পথও খোলা নেই, গাড়ী চলাচল বন্ধ। খাদ্যের সন্ধান নেই,  দুই ছেলে মেয়ে নিয়ে অনিশ্চিত অন্ধকার পথে বসে আছেন বলে জানালেন রাহেলা।

[৯] রাহেলা বলেন, আমরা সরকারের গতবারের লকডাউনেও অনুদান পাইনি । তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি সরাসরি কোন অনুদান দেন তাহলে আমরা পাবো। আর নেতাদের মাধ্যমে দিলে সেই দান আমাগোর কপালে জুটবো না!

সর্বাধিক পঠিত