প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] করোনাকালে হুমকির মুখে পাবনার তাঁত শিল্প

কালাম আজাদ : [২] বহুকাল আগ থেকেই পবিত্র ঈদুল ফিতরের ঈদের আগেই গোটা রমজান মাস চরম ব্যস্ত সময় পার করেন পাবনার তাঁত শিল্পের সাথে জড়িত হাজার হাজার শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। সারাদিন সারারাত শ্রমিকেরা শাড়ি লুঙ্গি তৈরিতে ব্যস্ত থাকতেন এবং মালিকেরা পাইকারদের কাছে এসব বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করতেন। কিন্তু পরপর গত দুবছর মহামারি করোনার কারনে তাদের সেই ব্যস্ততা আর নেই।

[৩] কাঙ্খিত ব্যবসা না থাকায় মালিক বন্ধ করেছেন তাদের মিল আর সেই সাথে বেকার হয়ে পড়েছেন তাঁত শিল্পের সাথে জড়িত হাজার হাজার শ্রমিক। অনেকেই বেকার জীবনে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাঁত শিল্প ও তাঁত শ্রমিকদের বাঁচাতে তাই সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন অনেকেই।

[৪] দেশের মধ্যে সর্ববৃহত তাঁত অঞ্চল হিসেবে খ্যাত পাবনা ও সিরাজগঞ্জ জেলা। এদুটো জেলায় প্রায় ৬ লাখ তাঁত রয়েছে। পাবনা জেলার জালালপুর, বাগছিপাড়া, জোতগড়ি জালালপুর, গোপালপুর, চাচকিয়া, শিবপুর, বগদী, গুরুবাসি, ইদিলপুর,ইসলামপুর, জাফরাবাদ, একদন্ত, চাচকিয়া, ধানুয়াঘাটা, লক্ষীপুর তাঁত সমৃদ্ধ এলাকা। এসব এলাকায় রমজান মাস এলেই সারাদিন রাত চলে তাঁতের খটখট শব্দ।

[৫] পাবনার তাঁতের তৈরি শাড়ি, লুঙ্গি সারা দেশে ব্যাপক চাহিদা থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পাইকার ব্যবসায়ীরা মাল কিনতে এখানে আসেন। মালের চাহিদা মেটাতেই মালিক শ্রমিকরা দিনরাত পরিশ্রম করতেন। কিন্তু পরপর গত দুবছর ঈদের ব্যবসা শুরুর আগেই মহামারি করোনার থাবায় তা প্রায় নশ্যাত হয়ে গেছে। কারখানার প্রায় তাঁতই বন্ধ রয়েছে। যার ২০ খানা তাঁত আছে সেখানে চলছে মাত্র ৫ থেকে ৭টা।

[৬] যানবাহন চলাচল না করায় এবং সরকারী নানা বিধি নিষেধ থাকায় দূরদুরান্ত থেকে পাইকাররা হাটে আসতে না পারায় বাজারে মাল বিক্রি হচ্ছে না। ফলে কারখানার মালিকদের ঘরে শাড়ি লুঙ্গি মজুদ হয়ে পড়েছে। এঅবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছেন স্বল্প আয়ের দিনমজুর তাঁত শ্রমিকেরা। কাজ না থাকায় তাদের সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকেই বাপ দাদার এ পেশা ছাড়ারও চিন্তা করছেন।

[৭] এসব এলাকার তাঁত শ্রমিক মিজান হুজুর, আয়েজ, হবিবর, আলিম, শহিদ তালেবান, তাজু প্রাং জানান, রমজানের মাস আসলেই তারা ওভারটাইম করে ঈদের কাপড় তৈরি করে অন্য এগারো মাসের ক্ষতি পুষিয়ে নেন। কিন্তু করোনার কারনে তাদের সেই আশা শেষ হয়ে গেছে। তাঁত চালাতে না পেরে পরিবার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।

[৮] পাবনার গোপালপুর এলাকার তাঁত কারখানার মালিক কামাল সরকার জানান, করোনার কারনে তাদের এই সেক্টরে অনাকাঙ্খিত ক্ষতি হয়ে গেল। যা পুষিয়ে তোলা কঠিন। বেচাকেনা না থাকায় অনেক তাঁত মালিক পুঁিজ ভেঙে চলতে চলতে পুঁজিই শেষ করে ফেলেছে। তাই এই শিল্পকে বাঁচাতে হলে সরকারের সহযোগিতা দরকার।

[৯] এলাকার সচেতন মহল মনে করেন পাবনার এই তাঁত শিল্পের ঐতিহ্য ও তাঁত শিল্পকে রক্ষা করতে হলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে এবং তাঁত কারখানার মালিকদের স্বল্প সুদে ঋণ দিয়ে কারখানা চালুর ব্যবস্থা করতে হবে। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত