প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে চাকরি দেয়ার কথা বলে ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ!

সুজন কৈরী : [২] ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পরিচ্ছন্নতা কর্মী (সুইপার) নিয়োগের ভুয়া নিয়োগপত্র দেখিয়ে পাঁচজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ২১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ইয়াসিন বাপ্পী (৪৩) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

[৩] বুধবার রাজধানীর বংশাল এলাকা থেকে সিআইডি’র ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের একটি টিম তাকে গ্রেপ্তার করে।

[৪] এর আগে প্রতারণার শিকার পাবেল দাস (২১) মঙ্গলবার ইয়াসিনকে অভিযুক্ত করে বংশাল থানায় মামলা করেন।

[৫] বৃহস্পতিবার সিআইডির সিনিয়র এএসপি (মিডিয়া) জিসানুল হক বলেন, গ্রেপ্তার একটি প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়ে টাকা আত্মসাৎ করাই তার পেশা। মামলার বাদি তার পূর্ব পরিচিত মানিক লাল নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে ইয়াসিনের সঙ্গে পরিচিত হন। এক পর্যায়ে ইয়াসিন মামলার বাদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে সুইপার বা পরিচ্ছন্নতা কর্মী পদে চাকরি দিতে পারবেন বলে জানায়।

[৬] পরে ইয়াসিন মামলার বাদিকে জানান, তার সঙ্গে ডিএসসিসি’র সচিব থেকে শুরু করে প্রশাসনের সব কর্মকর্তার সুসম্পর্ক রয়েছে। চাকরি পেতে হলে তাকে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা দিতে হবে। ইয়াসিনের কথা বিশ্বাস করে তাকে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেয় পাবেল দাস। এভাবে পাবেলসহ আরও চার ভুক্তভোগীর কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে মোট ২১ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন ইয়াসিন।

[৭] ভুক্তভোগী পাবেল মামলার এজাহারে অভিযোগ করেন, ২০১৯ সালের ২৬ নভেম্বর ইয়াসিন বাপ্পীর বাসায় গিয়ে তিনি ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা সুইপারের চাকরির জন্য দেন। পরে ইয়াসিন বাপ্পী তাকে ডিএসসিসি’র সচিবের সিলসহ স্বাক্ষর করা একটি নিয়োগপত্র দেন। নিয়োগপত্র অনুযায়ী ২০২০ সালের ২৬ জুন তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অফিসে সুইপার পদে কাজে যোগ দিতে গিয়ে দেখেন ইয়াসিন আসেননি। তার মতো আরও চার ভুক্তভোগী ইয়াসিন বাপ্পীর অপেক্ষায় বসে রয়েছেন।

[৮] পরে ইয়াসিন না আসায় পাবেল ও বাকি আরও চার ভুক্তভোগী সিটি করপোরেশনের অফিসে গিয়ে নিয়োগপত্র দেখালে তারা বুঝতে পারেন এটি ভুয়া। জাল সিল ও জাল স্বাক্ষর দিয়ে ইয়াসিন তাদের ভুয়া নিয়োগপত্র দিয়েছেন। পরে পাবেল ইয়াসিনের কাছে তার টাকা ফেরত চান। তখন ইয়াসিন তাকে ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকার ডাচ-বাংলা ব্যাংকের একটি চেক দেন। পরে চেক নিয়ে ব্যাংকের বংশাল শাখায় যোগাযোগ করলে ভুক্তভোগীকে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা নেই বলে জানায়। পরে আবারও ইয়াসিনের কাছে টাকা দাবি করেন ইয়াসিন। কিন্তু ইয়াসিন টাকা না দিয়ে পাবেলকে উল্টো মেরে ফেলার হুমকি দেন।

 

সর্বাধিক পঠিত