প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রপ্তানি আয় নিয়ে শঙ্কা: টার্গেট অর্জনে ব্যর্থ ৩৩ বৈদেশিক মিশন

ডেস্ক রিপোর্ট: করোনা মহামারীতে রপ্তানি আয় বাড়াতে বিশেষ কৌশল গ্রহণ করেছিল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশের মিশনগুলো সেই কৌশল কাজে লাগাতে পারেনি। মহামারীর কারণে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের ৬১টি মিশনের মধ্যে ৩৩টি মিশনই রপ্তানি টার্গেট অর্জন করতে পারেনি। বিভিন্ন দেশে অবস্থিত ১৯টি বাণিজ্যিক উইংয়ের মধ্যে ১৩টি লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-মার্চ প্রান্তিকে মিশনভিত্তিক রপ্তানি আয়ের এই চিত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী রপ্তানি টার্গেট পূরণে ব্যর্থ মিশনগুলোর মধ্যে ১০টির রপ্তানি আয় লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম হলেও গত অর্থবছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। তবে ২১টি মিশন টার্গেট এবং গত অর্থবছরের চেয়ে প্রবৃদ্ধি অর্জন উভয় দিক থেকেই পিছিয়ে আছে। টার্গেট অর্জনে ব্যর্থ মিশনগুলো হলো : লন্ডন, ব্রাসেলস, বেইজিং, মাদ্রিদ, জেনেভা, প্যারিস, তেহরান, নয়াদিল্লি, টোকিও, মানামা, ব্রাসিলিয়া, এথেন্স, হংকং, বৈরুত, মেক্সিকো সিটি, কাঠমান্ডু, লিসবন, রোম, ম্যানিলা, বাগদাদ, রিয়াদ, স্টকহোম, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন, অটোয়া, বার্লিন, সিউল, আলজিয়ার্স, কুয়েত, দোহা, মালে, দ্য হ্যাগ এবং হ্যানয়।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চলতি অর্থবছরে ৪১ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা প্রাক্কলন করেছে ইপিবি। এর মধ্যে জুলাই-মার্চ প্রান্তিকে ৯ মাসে কৌশলগত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৩০.২ বিলিয়ন ডলার প্রায়। আলোচ্য সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছে ২৮.৯ বিলিয়ন ডলার। এটি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ ছড়িয়ে পড়ায় ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ পুনরায় লকডাউন কার্যক্রম শুরু করেছে। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রধান গন্তব্য পশ্চিমা দেশগুলোর চাহিদাও কমেছে। এ অবস্থায় এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত পরবর্তী তিন মাসে রপ্তানি আয় বাড়াতে না পারলে চলতি অর্থবছরের টার্গেট পূরণ নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।

করোনায় রপ্তানি সম্প্রসারণের কৌশল ও বৈদেশিক মিশনের কমার্শিয়াল উইংগুলোর দায়িত্ব সম্পর্কে বাণিজ্য সচিব ড. মো. জাফর উদ্দিন সম্প্রতি বলেন, রপ্তানি আয়ে বৈচিত্র্য আনতে আমরা বেশকিছু কৌশল গ্রহণ করেছি। এসব উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে- তৈরি পোশাকের পাশাপাশি অপ্রচলিত পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো এবং নতুন বাজার অনুসন্ধান। এর মধ্যে বেশকিছু সম্ভাবনাময় পণ্য  বেছে নিয়ে ওসব খাতের রপ্তানি বাড়াতে প্রণোদনাসহ বিভিন্ন ধরনের নীতি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশীয় পণ্যের মানোন্নয়নে প্রকল্পও গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া নতুন দেশে নতুন পণ্য রপ্তানি বাড়াতে কমার্শিয়াল কাউন্সিলরদের বেশকিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, যাতে তারা সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের সামনে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় রপ্তানি পণ্যগুলো তুলে ধরে।

কর্মকর্তারা জানান, চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে ৬১টি মিশন থেকে মোট ২৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় হয়েছে। এটি জাতীয় রপ্তানি আয়ের ৯৮ দশমিক ৪৯ শতাংশ। এর মধ্যে ক্যানবেরা, কুয়ালালামপুর, ইয়াঙ্গুন, সিঙ্গাপুর, মস্কো, দুবাই, ভিয়েনা, কোপেনহেগেন, থিম্পু, কায়রো, আম্মান, নাইরোবি, তাসখন্দ, ওয়ারশ’, লুয়েজ, রাবাত, মাস্কট, ইসলামাবাদ, ব্যাংকক, আদ্দিস আবাবা, আবুজা, ভুখারেস্ট, জাকার্তা, প্রিটোরিয়া, দারুস সালাম, কলম্বো এবং আঙ্কারা এই ২৮টি মিশন রপ্তানি লক্ষ্য পূরণে সমর্থ হয়েছে। এর বাইরে ইউরোপ ও আমেরিকার বেশির ভাগ মিশন টার্গেট পূরণ করতে পারেনি। এমনকি দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ভারতের নয়াদিল্লি ও চীনের বেইজিং-এ অবস্থিত মিশনও রপ্তানি টার্গেট পূরণ করতে পারেনি।

ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান বলেন, করোনা মহামারীর কারণে বড় বড় বাজারগুলোতে কোনো ধরনের মুভমেন্ট করা যাচ্ছে না। আমাদের প্রমোশনাল কার্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কোনো ধরনের মেলার আয়োজন করা যাচ্ছে না। ভার্চুয়াল মাধ্যমে কিছু কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এসব কারণে রপ্তানি টার্গেট পূরণে বৈদেশিক মিশনগুলোও সঠিকভাবে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারছে না।

সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত