শিরোনাম
◈ রাজধানীতে গ্যাস লিকেজে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, দগ্ধ ১০ জন ◈ পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলা‌দেশ ওয়ানডে দলে লিটন ও আফিফ ◈ মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় প্যানিক, সন্ধ্যা থেকেই তেল নেই অনেক পাম্পে ◈ পুনরায় চালু হচ্ছে বন্ধ থাকা ৭টি পাটকল ◈ মাঝ আকাশে নিখোঁজ ভারতের অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান ◈ এয়ারপোর্ট ও বুর্জ খলিফা টাওয়ার ধ্বংসের ভিডিও নিয়ে যা জানা গেল ◈ জয়ের ফাঁস করা তালিকায় শীর্ষ চাহিদাসম্পন্ন ১৫ নায়িকা ◈ চলছে তালিকা তৈরির কাজ, চাঁদাবাজ-সন্ত্রাসীদের ধরতে যৌথ অভিযান ◈ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন: থামাতে দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই বিশ্ব শক্তির ◈ খামেনির ছেলেকে পছন্দ নয়, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে চান ট্রাম্প

প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল, ২০২১, ০৬:১৪ বিকাল
আপডেট : ২৪ এপ্রিল, ২০২১, ০৬:১৪ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] নবজাতককে ফুটপাত থেকে কুড়িয়ে চমেক হাসপাতালে ভর্তি করালেন ওসি

রাজু চৌধুরী : [২] চট্টগ্রাম চকবাজার থানার ওসি হিসেবে যোগ দিতে না দিতেই মোহাম্মদ আলমগীর উদ্ধার করলেন এক নবজাতক শিশুকে। সেই নবজাতককে ফুটপাত থেকে কুড়িয়ে পরম মমতায় ভর্তি করান চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সদ্য জন্ম নেওয়া মেয়ে শিশুটি।

[৩] পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব বিভাগের কর্মকর্তা আল আমিনের বাসা নগরের জিইসি প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস লাগোয়া।

[৪] শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে বাসার নিচে হইচই শুনে তিনি বের হন। নিচে এসে দেখেন প্রিমিয়ারের সামনের ফুটপাতে সদ্য জন্ম নেওয়া একটা ফুটফুটে বাচ্চা। তিনি তাৎক্ষণিক ফোন দেন জাতীয় জরুরী সেবার হটলাইন ৯৯৯—এ।

[৫] সেখান থেকে সিএমপির চকবাজার থানার ওসি মোহাম্মদ আলমগীরকে ফোনকারী আল আমিনের সাথে সংযুক্ত করা হয়। এর মিনিট দশেকের মধ্যেই ওসি তার ফোর্স নিয়ে হাজির হন। সঙ্গে ছিলেন এসআই দীপন পালও। সেখান থেকে সদ্য জন্ম নেওয়া শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান ওসি।

[৬] এ প্রসঙ্গে আল আমিন বলেন, ‘আমি বাচ্চাটিকে দেখে ৯৯৯—এ ফোন দিলে পুলিশ খুব দ্রুত রেসপন্স করেছে। তারা মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত দেখিয়েছে। এই ব্যাপারে চাইলে চকবাজার থানার নবাগত ওসি মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘কমিশনার স্যারের নেতৃত্বে এ লকডাউনে পুরো সিএমপি পরিবার মানবিক পুলিশিং করছে। তারই ধাবাহিকতায় আমরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।

[৭] রাত দেড়টার দিকে ৯৯৯ এ ফোন পেয়ে আমরা প্রিমিয়ারের সামনে এসে সদ্য নবজাতককে উদ্ধার করে হাসপাতালে আনি। সে এখন ৩২ নম্বর শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন আছে। তার অবস্থা আগের থেকে মোটামোটি ভালো। আমরা তার কাপড়-চিকিৎসা ওষুধ যা প্রয়োজন তার ব্যবস্থা করছি। আমি নিজেও এখন মেডিকেলে উপস্থিত ছিলাম।’

[৮] আইনগত বিষয়ে ওসি বলেন, ‘আমরা আগে চিন্তা করছি শিশুটির প্রাণ বাঁচানো। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে সিসিটিভির ফুটেজ দেখাসহ নানা পদ্ধতি অবলম্বন করে তার মা-বাবাকে এবং কোথাও থেকে ফুটপাতে এসেছে তা বের করব।’

[৯] এরআগেও আকবর শাহ থানার ওসি থাকাকালীন ২০১৭ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টায় চট্টগ্রাম নগরের কর্নেলহাট এলাকার একটি ডাস্টবিনে পাওয়া যায় একটি শিশু। তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রেখে চিকিৎসা দেয় পুলিশ। একুশের প্রথম প্রহরের কিছুক্ষণ আগে শিশুটিকে উদ্ধার করার কারণে তার নাম রাখা হয় ‘একুশ’।

[১০] উদ্ধার থেকে শুরু করে চিকিৎসাসহ সব কাজেই সামনে থেকে ছিলেন মোহাম্মদ আলমগীর। পরে শিশুটি তিনমাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর যখন সুস্থ হয় তখন শিশুটিকে পেতে আদালতে ১৬ জন আবেদন করেছিলেন।

[১১] এর মধ্যে ১২ জন আবেদনকারীর উপস্থিতিতে যাচাই-বাছাই ও শুনানি শেষে আদালত শর্ত সাপেক্ষে ‘একুশ’কে শাকিলা-জাকের দম্পতির জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ দেন।

[১২] একই বছরের ৬ এপ্রিল প্রথম অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ (শিশু আদালতের দায়িত্বপ্রাপ্ত) জান্নাতুল ফেরদৌসের আদালতে শিশুটিকে শাকিলার কোলে তুলে দেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবজাতক ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্ট্রার দেবাশীষ কুমার রায়। এ সময় শাকিলার স্বামী চিকিৎসক জাকের ইসলাম পাশে ছিলেন। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়