প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাক্রান: দুর্ভাগ্য ধুয়ে-মুছে যায় পানির উৎসবে…

আসাদুজ্জামান সম্রাট: গিয়েছিলাম মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে। পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে গায়িকা সংসদ সদস্য মমতাজ বেগমের কনসার্টে। ‘মমতাজ নাইট’ নামের এ অনুষ্ঠানটি ছিল চুনহুয়া স্টেডিয়ামে। সেখানে চারদিনের ভ্রমণ শেষে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সবচে’ বড়ো বিমানবন্দর কুয়ালালালাপুর ইন্টারন্যাশন্যাল এয়ারপোর্ট’ থেকে বাজেট এয়ারে ব্যাংককের ডনমেং ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে নামলাম। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে সুবর্নভুমি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টটি তৈরির আগে এটিই ছিল প্রধান বিমানবন্দর। বর্তমানে এ বিমানবন্দরটি ‘বাজেট এয়ারগুলো’ই বেশি অপারেট করে। আমরা এয়ার এশিয়ার একটি বিমানে দু’ঘণ্টায় পৌছে যাই ব্যাংককে। বিমানবন্দরে ‘সংক্রান ফেস্টিভ্যালে স্বাগতম’ লেখা অনেকগুলো প্ল্যাকার্ড ও সাইনবোর্ড দেখা গেলো। আমাদের উদ্দেশ্য ছিল এই উৎসবে অংশ নেয়া।

আমরা ব্যাংককে না গিয়ে প্রথমেই পর্যটন নগরী পাতায়া যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। এজন্য বিমানবন্দরের ফ্রি শাটল সার্ভিসে ডনমেং থেকে সুবর্নভুমি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে গেলাম। সেখান থেকে প্রতি ৩০মিনিটে পাতায়ার উদ্দেশ্যে বাস ছাড়ে। মাত্র ৯০ বাথ বা সে সময়ে বাংলাদেশী মুদ্রায় মাত্র ২শ’ টাকার টিকিট কেটে বাসে উঠলাম। জীবনে প্রথম কোনো বাসের সিটে সিটবেল্ট দেখলাম। সুবর্নভুমি থেকে পাতায়া পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়েতে দ্রুততার সঙ্গে ছোটে বাস। এই এক্সপ্রেসওয়েটি সম্ভবত ১২ লেনের। রাস্তার দু’পাশে ২০ ফুট উচু দেয়ালের সঙ্গে আরো ১০ ফিটের গ্রিলের ফ্রেঞ্চ। ফলে এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনই শুধু নয়, কোনো প্রাণী এমনকি ইদুর বেড়ালও আসার সুযোগ রাখা হয়নি। দু’ঘণ্টার কম সময়েই পৌছে যাই। পাতায়ার এই বাসস্টান্ডটি শুধুমাত্র বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী বাসের জন্য সংরক্ষিত।

ট্যাক্সির জন্য অপেক্ষা করতে করতেই একটি পিকআপে হাইভলিউমে মিউজিক বাজিয়ে কয়েকজন তরুণ-তরুণী ওয়াটার গান দিয়ে ভিজিয়ে দিয়ে গেলো। হতভম্ব হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা। দ্রুততার সঙ্গে উঠে পড়লাম পিক আপ ভ্যানের মতো যাত্রী পরিবহনের একটি ভ্যানে। উদ্দেশ্য সেকেন্ড রোডে যাওয়া। সেখানে বাঙালি রেষ্টুরেন্ট আর হোটেল খোঁজা। পাতায়া এভিনিউর কাছাকাছি যেতে আমাদের সবাইকে ভিজিয়ে দিয়ে গেলো নানা বয়সের নানা মানুষ। লাগেজগুলোও ভিজে গেছে। আমরা দ্রুতই ‘দাওয়াত’ নামের একটি ইন্ডিয়ান রেস্টুরেন্টে আশ্রয় নিলাম। একজনকে লাগেজ পাহারায় বসিয়ে হোটেলের জন্য ছুটলাম। বিচ রোড আর সেকেন্ড রোডের মাঝামাছি একটি গলিতে ‘এইচ হাউস’ নামের গেস্ট হাউসে দু‘টি রুম পেলাম। আমি একাই একটি রুম নিলাম অপর দু’বন্ধু মিলে নিলো একটি রুম। প্রতিরুমের ভাড়া মাত্র ৫০০ বাথ। বাংলাদেশী টাকায় যা ১২শ’ টাকারও কম। এই গেস্ট হাউসের মালিক একজন নারী। তিনি দুই মেয়ে নিয়ে থাকেন এখানে। রয়েছে পোষা বিড়াল ও একটি বামনআকৃতির ছোট্ট কুকুর। সামনে একটু বসার জায়গাও রয়েছে। দু’পাশে রয়েছে ম্যাসেজ পার্লার। সামনেই কয়েকটি বার ও রেষ্টুরেন্ট।

পাতায়া বিচ থেকে মাত্র ৬০ মিটার দূরত্বে এই গেস্ট হাউস ২০০ বাথে শর্ট টাইমের জন্যও রুম ভাড়া দেয়। ইচ্ছে ছিল, পরেরদিন রুম পরিবর্তন করবো। কিন্তু কাছেই বাঙালি রেষ্টুরেন্ট, হাটা দূরত্বে ওয়াকিং স্ট্রিট ও ম্যাগডোনালস ছাড়াও গেস্ট হাউসের মালিক নারীর আন্তরিকতা ও তাদের বাচ্চাদের ব্যবহারে মুগ্ধ হলাম আমরা। ফলে তিনদিনই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। চেরি ওয়েচা নামের তার মেয়েটি ব্যাংকক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। সাংক্রান উৎসবের জন্য পাতায়া এসেছেন। পোষাক পাল্টিয়ে সামনের লনে বসতে বসতেই কথা হয় চেরির সঙ্গে। জানালেন সংক্রান উৎসবের আদ্যোপান্ত। চেরি বলছিলেন, সংক্রান মূলত: থাই নববর্ষকে স্বাগত জানানোর উৎসব। এটি থাইল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। ওয়াটার ফেস্টিভ্যাল নামেও এর পরিচিতি রয়েছে। থাই অধিবাসীরা এই উৎসবকে সৌভাগ্য বয়ে আনার উৎসবও বলে মনে করে থাকেন। থাইল্যান্ডের অধিবাসীদের সঙ্গে সারা পৃথিবী থেকে আসা পর্যটকরা এই আনন্দ উৎসবে অংশ নিয়ে থাকেন। সরকারিভাবে ১৩ থেকে ১৫ এপ্রিল এই তিন দিন উৎসব উদ্যাপন হলেও পর্যটন এলাকাগুলোতে ১০ দিনব্যাপী চলে এ উৎসব। এ সময় রঙিন থাইল্যান্ড আরও বর্ণিল, আনন্দ ও বিনোদনময় হয়ে ওঠে। মহামারী করোনার গত দু’বছর এ উৎসব না হলেও এর আগে থেকেই এ উৎসবকে সংক্ষিপ্ত করার একটা তাগিদ দেয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। পরিবেশবাদীরা এতো বেশি পরিমান পানির অপচয় বন্ধের জন্য আন্দোলন করে আসছেন।

থাইল্যান্ডের এই উৎসবের সঙ্গে আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর বৈসাবী, সাংগ্রাই বা বিজু উৎসবের সঙ্গে অনেকটা মিল রয়েছে। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার প্রধাণ ৩টি আদিবাসী সমাজের বর্ষবরণ উৎসবের নাম মিলিয়ে বৈসাবী রাখা হয়েছে। এটি তাদের প্রধাণ সামাজিক অনুষ্ঠানগুলোর একটি। এ উৎসবটি ত্রিপুরাদের কাছে বৈসুব, বৈসু বা বাইসু, মারমাদের কাছে সাংগ্রাই এবং চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাদের কাছে বিজু নামে পরিচিত। বৈসাবী নামকরনও করা হয়েছে এই তিনটি উৎসবের প্রথম অক্ষর গুলো নিয়ে। বৈ শব্দটি ত্রিপুরাদের বৈসু থেকে, সা শব্দটি মারমাদের সাংগ্রাই থেকে এবং বি শব্দটি চাকমাদের বিজু থেকে। এই তিন শব্দের সম্মিলিত রূপ হলো ‘বৈসাবি’। চাকমা ও তঞ্চঙ্গ্যাগণ এ উৎসবটি ৩দিন ধরে পালন করেন। এ তিন দিন হল চৈত্রের শেষ ২দিন ও বৈশাখের প্রথম দিন। এর মাঝে চৈত্রের শেষ দিনটি এই উৎসবের মূল আকর্ষণ। বর্ষশুরুতে পানি উৎসবটি প্রতিটি এলাকাতেই কমবেশি জনপ্রিয়। এ উৎসবে আদিবাসীরা সবাই সবার দিকে পানি ছুঁড়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন যেন গত বছরের সকল দুঃখ, পাপ ধুয়ে যায়। আমাদের পার্বত্য অঞ্চল থেকে পূর্বের দেশগুলো মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, লাওস, কম্বোডিয়া আর চীনের দাই জাতিগোষ্ঠীরাও এই উৎসব পালন করে। তবে একেক দেশে এর একেক নাম হলেও উদ্দেশ্য একই।

ফিরে যাই চেরি ওয়েচার কথায়। জানালেন, সংক্রানের মূল উৎসব শুরু হয় থাইল্যান্ডের প্রাচীন রাজধানী আয়ুত্থায়া শহরে। সেখানে হাতির কুচকাওয়াজ, ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রা আর জলকেলি করে তারা দিনটি উদ্যাপন করে। হাতির দেশ হিসেবে বিখ্যাত থাইল্যান্ডের আয়ুত্থায়ায় এখন সাজ সাজ রব। এখানকার হাতির আশ্রমগুলোর মাহুতরা ব্যস্ত সময় পার করছেন তাঁদের প্রিয় হাতিকে গোসল করিয়ে বিভিন্ন রঙে সাজাতে। পূজা-অর্চনা, স্নানপ্রক্রিয়া ও আশীর্বাদ অনুষ্ঠানের পর দিনটির প্রধান আকর্ষণ পানিখেলা, পানিযুদ্ধ বা জলকেলি উৎসব। এ এক আশ্চর্য আনন্দ উৎসব। এই পানি উৎসবে নানান রঙে সজ্জিত হাতি মানুষের গায়ে পানি ছিটায়। মানুষও হাতির দিকে পানি ছোড়ে। পানির এই আনন্দ উৎসবে যোগ দেন হাজারো পর্যটক। শুধু মানুষের জন্য নয়, উৎসব প্রাঙ্গণে হাতির জন্যও থাকে নানা রকমের ফলমূল। এসব পেয়ে হাতিগুলোও মনের আনন্দে ফল খেতে থাকে। তবে প্রাণী প্রেমিদের প্রতিবাদের কারনে উৎসব থেকে হাতিকে বাদ দেয়া হয়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে।

সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতে হাটতে হাটতে চলে গেলাম পাতায়া বিচে। সেখানে গিয়ে দীর্ঘ একটা সময় কাটালাম। অপর দু’বন্ধু গেলো খাবারের খোঁজে। দিল্লী থেকে আসা পাঁচ বন্ধুর একটি দলের সঙ্গে পরিচয় হলো। ওরাই নিয়ে গেলো ওয়াকিং স্ট্রিটে। সেখানে ভারতীয় টনি বারে ডুকলাম। দীর্ঘ একটা সময় কাটিয়ে রুমে ফিরলাম রাত দ্বিপ্রহরে। পরের দিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই চেরির সঙ্গে দেখা। নাস্তা সেরে পাশেই থাকা স্টারবাক কফি হাউস থেকে কফি নিয়ে বসলাম ব্যালকনিতে। চেরি সুপ্রভাত জানিয়ে ১০০ বাথ চাইলো। এভাবে টাকা চাওয়ায় আমি বিস্মিত হলাম। আমি কারণ জিজ্ঞেস করতে বললো, বড়ো একটি বরফ খন্ড কিনবে। আমাকেও বললো, রুম থেকে পোষাক পাল্টে এসে তাদের সঙ্গে খেলায় যোগ দিতে। আমি থ্রি কোয়ার্টার একটি প্যান্ট আর সাদা একটি গেঞ্জি পড়ে নিচে নামতেই আরো ৩শ’ বাথ চাইলো। ইতিমধ্যেই ও আমার জন্য একটি ওয়াটার গান এবং মোবাইল রাখার জন্য প্লাস্টিকের একটি ব্যাগ আর চোখকে সুরক্ষা দিতে একধরনের পানিচশমা নিয়ে এলো। এগুলোর সম্মিলিত মূল্য তিনশ‘ বাথের বেশি হলেও চেরি ৩০০ বাথই নিলো। আমি অবশিষ্ট টাকা দিতে চাইলে হেসেই না করে দিলো। বললো, রেডি হও খেলার জন্য।

পুরোপুরি একটা যুদ্ধের প্রস্তুতির মতোই আমরা প্রস্তুত হলাম। মনে অপার আনন্দ। ইতিমধ্যে বিয়ার, রাম্বুটান, বামন সাইজের এক ধরনের কলা আনারস আরও নাম না জানা কিছু ফল এনে রাখলো আমাদের জন্য। আমাদের গেস্ট হাউসের সামনে ইতিমধ্যে বড়ো একটি ড্রামে পানি ভর্তি করা হলো। তাতেই বড়ো এক খন্ড বরফ ভেজানো হলো। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা পিকআপ ভর্তি করে বরফখন্ড বিক্রি করছেন। সঙ্গে ওয়াটারগান, রেইনকোর্ট, পানি চশমা প্রভৃতি। প্রস্তুতি নিয়ে আমরা বসে আছি। আমাদের সামনে থেকে যারাই যাচ্ছেন তাদেরকে ভিজিয়ে দিচ্ছি। আবার পিকআপ ভর্তি পানির সঙ্গে মটরলাগানো পাইপ দিয়ে আমাদেরও ভিজিয়ে দিয়ে গেলো কয়েকটি দল। বেশ কয়েকজন ট্রান্সজেন্ডার (এরা এখানে লেডিবয় হিসেবে পরিচিত) হাতে কর্দমাক্ত লিকুইড গালে লাগিয়ে দিয়ে গেলো। বেশ মজার এক খেলায় দিনটি কাটিয়ে দিলাম। পরের দিন কোহ লার্নে (কোরাল আইল্যান্ড নামে পরিচিত) যাওয়ার সময়ে সঙ্গে নিয়ে গেলাম ওয়াটারগান। দেশে ফেরার সময়ে স্মৃতি হিসেবে নিয়ে এসেছি ওয়াটারগানটি। সেটি দিয়ে এখন আমার ছোট ছেলে মাঝে মধ্যে খেলে।

সংক্রানের এই সময়ে থাইল্যান্ডে বিভিন্ন দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ দর্শক আসে। এই সময়ে থাই ইমিগ্রেশন হিমশিম খায় পর্যটক সামলাতে। রাজধানী ব্যাংকক ছাড়াও পর্যটন এলাকা পাতায়া, ফুকেট, চিয়াংমাইসহ শহরগুলোতে হোটেল, মোটেল, গেস্টহাউসগুলোতে উপচে পড়া ভীর। শুধুমাত্র পাতায়ার সৈকতেই হাজার হাজার পর্যটক রাত কাটিয়ে দেয় খোলা আকাশের নিচে। থাইল্যান্ডের বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, সংক্রানের সকালের আলো যাঁর শরীরে স্পর্শ করে, তিনিই পবিত্র হয়ে যান এবং তাঁর স্থান হয় বুদ্ধের চরণে। এদিনে তাঁরা বুদ্ধমূর্তির মাথায় পানি ঢালেন। সেই সঙ্গে চলে বয়োজ্যেষ্ঠ বৌদ্ধ সন্ন্যাসীদের স্নান অনুষ্ঠান। বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, এই স্নানপ্রক্রিয়ায় ধুয়েমুছে যায় সব দুর্ভাগ্য আর নতুন বছরের জন্য বয়ে আনে সৌভাগ্য। সংক্রানের শরীর শুদ্ধিকরণ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পরেই শুরু হয় উৎসবের দ্বিতীয় ধাপ। এই ধাপে ছেলে-বুড়ো, তরুণ-তরুণী, শিশু-কিশোর সবাই ব্যস্ত হয়ে যায় পানিখেলায়। বয়োজ্যেষ্ঠ বৌদ্ধসন্ন্যাসীদের অনেকেই মনে করেন, ধর্মীয় গুরুত্ব কমে পানিখেলার উৎসবই দিনে দিনে মুখ্য হয়ে উঠেছে থাইবাসীর কাছে। সন্ন্যাসীদের কথা অমূলক নয়, কারণ ছেলে-বুড়ো সবাই অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করে পূজা শেষে পানিখেলা কখন আরম্ভ হবে তার জন্য। যেন প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে যায় একে অপরকে পানি দিয়ে ভিজিয়ে দেওয়ার। এরপর বিকেলের দিকে ওই মন্দিরেই পূজা-অর্চনার ব্যবস্থা করা হয়। সেই মন্দির থেকে পুরোহিত সবার মঙ্গলের জন্য বুদ্ধের কাছে প্রার্থনা করেন এবং আশীর্বাদপুষ্ট ফুল সবাইকে দেওয়া হয়। সেই ফুল বাড়িতে নিয়ে যায় থাইরা। সন্ধ্যায় বুদ্ধের কাছে প্রার্থনা করে নতুন পোশাক পরে, আশীর্বাদের ফুল মাথায় ছুঁইয়ে বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছে আশীর্বাদ নেওয়া সংক্রান উৎসবের একটি অন্যতম অংশ। এ সময় বড়রা বাড়ির ছোটদের বিভিন্ন উপহার দেয়। এ সময়ে শহরবাসীরা নিজ নিজ গ্রামে গিয়ে সাক্রান উৎসবে অংশ নিয়ে থাকেন।

আমাদের পার্বত্য চট্টগ্রাম থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে নিজ নিজ বর্ষবরণের উৎসব অনেকটা একই রকমের হয়ে থাকে। থাইল্যান্ডে আশপাশের দেশ লাওস, কম্বোডিয়া ও মিয়ানমারেও এই উৎসবের প্রচলন রয়েছে। ঐ অঞ্চলে বিশ্বাস করা হয় পানি ছুড়ে আগের বছরের দুর্ভাগ্যকে দূর করা যায়। আগে বেশ কয়েকবার থাইল্যান্ড ভ্রমণে গেলেও সাংক্রান উৎসবে অংশ নিয়েছিলাম ২০১৪ সালে। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় এ উৎসবে না গেলেও পুরো সময়টি এতোটা আনন্দদায়ক ও উপভোগ্য ছিল যা-সারাজীবন মনে রাখার মতো।

লেখক: নগর সম্পাদক, দৈনিক আমাদের অর্থনীতি ও সম্পাদক-পার্লামেন্ট জার্নাল।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত