প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] দিনে হুমকি, রাতে তাণ্ডব!

আরিফুল ইসলাম: [২] ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার পাকশিমুল গ্রামে একটি খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ঘরবাড়িতে হামলা, ভাংচুর ও লুটতরাজের ঘটনায় অশান্ত হয়ে উঠেছে পুরো গ্রাম। গ্রামের অন্তত ৭০ থেকে ৮০টি ঘরের মূল্যবান মালামাল লুটতরাজ করা হয়েছে। এসব ঘরের অন্যান্য মালামাল ভাংচুর করা হয়েছে। লুটেরা দের অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে পূরুষ শূন্য এসব ঘরবাড়ির নারী ও শিশুরা অন্য গ্রামে গিয়ে যার যার নিকটাত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে।

[৩] সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্বের জেরে গত ৭ এপ্রিল পাকশিমুল গ্রামের প্রবাসী হান্নান মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন (২০) নামে এক যুবক প্রতিপক্ষের লোকদের হামলা ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন। এ ঘটনায় নিহত দেলোয়ারের মা নাজমা বেগম বাদী হয়ে পাকশিমুল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামসহ ৩৮জনের বিরুদ্ধে সরাইল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

[৪] মামলার আসামি হওয়ায় এবং এ খুনের মামলায় আসামি হতে পারেন; এমন আতঙ্কে এসব ঘরবাড়ির সকল পুরুষ ঘটনার রাতেই বাড়িঘর ও পরিবার ছেড়ে পালিয়ে অন্যত্র চলে যান। এ সুযোগে একদল সন্ত্রাসী তিনটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে প্রত্যেক দিন রাতে পুরুষ শূন্য ঘরবাড়িতে লুটতরাজ চালাতে থাকে। এসব তথ্য দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মানবেতর জীবনযাপন ও আতঙ্ক অবস্থায় থাকা কয়েকজন অসহায় নারী।

[৫] নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী এই বৃদ্ধ নারীরা জানান, ঘটনার পর থেকে প্রতিদিন রাতে দলে দলে সন্ত্রাস প্রকৃতির লোকেরা এসে ঘরের মালামাল লুটতরাজ করতে থাকে। তারা প্রথমে এসে প্রত্যেক ঘরের নারীদের মোবাইল ফোন ও পরনের স্বর্ণালঙ্কার লুটে নেয়। পরদিন রাতে ঘরে ঘরে তল্লাশি চালিয়ে নগদ টাকা ও আলমারিতে রাখা স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে। পরে ঘরবাড়িতে ঢুকে দামি মালামাল ফ্রিজ, কাঠের উন্নত ফার্নিচারসহ আসবাবপত্র জোরপূর্বক লুট করে নিয়ে যায়। প্রতিটি ঘরের অন্যান্য মালামাল ভাংচুর করে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়। এসময় ঘরের বউঝি’র ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালায় এসব সন্ত্রাসীরা। পরে তাদের অত্যাচারে ঘরবাড়ির বৌ ও মেয়েদের দূরে আত্মীয় স্বজনের বাড়িতে পাঠাতে আমরা বাধ্য হই।

[৬] তারা আরও জানান, দিনে এলাকায় পুলিশ ও সাংবাদিক এলে ওই সন্ত্রাসীরা দলে দলে এসে আমাদের কড়া ভাষায় জানিয়ে দিয়ে যায়, ‘কেউ মুখ খুললেই রাতের বেলা পরিণতি হবে ভয়াবহ। এমন কাম তারা আমাদের করবে, যা সারাজীবনেও ভুলা যাবেনা।’ এই ভয়ে প্রতিবেশীদের বাড়ির আঙ্গিনায় বসে নির্ঘুম রাত কাটিয়ে ঘরবাড়ি পাহারা দেই। আর দিনের বেলায় ঘরের ধ্বংস নীলার মধ্যেই ঘুমিয়ে সময় পার করছি। এসব লুটতরাজের ঘটনায় কয়েকদিন আগে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন আমাদের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা। কিন্তু এ বিষয়ে পুলিশ কি করেছে তা আমাদের জানা নেই। এমন দাবি এই অসহায় ভুক্তভোগী নারীদের।

[৭] খুনের পর এসব লুটতরাজ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এ মামলার বাদী ও নিহত দেলোয়ার হোসেনের মা নাজমা বেগম বলেন, আসামি পক্ষের ঘরবাড়ির মালামাল ভ্যান গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার কিছু কিছু ঘটনা আমি লোকমুখে শুনতে পেরেছি। তবে এসব মালামাল তারা নিজেরাই নিচ্ছে না অন্যরা লুটে নিয়ে যাচ্ছে, তা আমি নিশ্চিত করে জানতে পারিনি। কারণ আমি একমাত্র পুত্র সন্তান হারিয়ে শোকে কাতর।

[৮] বুধবার (২১ এপ্রিল) রাতে এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সরাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিন বলেন, এ মামলায় চারজন আসামি জেল হাজতে রয়েছে। ওখানে লুটতরাজের কোনো ঘটনা কেউ আমাকে জানায়নি। আসামি পক্ষের দু’একজনের জমির ধান কেটে নিতে আমি নিজে উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেছি।

[৯] এসআই জসিম উদ্দিন আরও বলেন, কয়েকদিন আগে ঘরবাড়ি ভাংচুর ও মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে একটি অভিযোগ তারা দিয়েছে; এটি আমার কাছেই আছে। যেহেতু সেখানে একটি খুনের অভিযোগ রয়েছে; তাই ভাংচুর ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার এই অভিযোগ সেভাবে দেখা হয়নি।

[১০] এ বিষয়ে সরাইল সার্কেল-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান বলেন, এমন কিছু বিষয় আমাদের কানেও আসছে। আমাদের পুলিশ সেখানকার বিষয়গুলোর দিকে খেয়াল রাখছে সবসময়ই। তবে এবার বিষয়গুলো আরও গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে। প্রমাণ পেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। সম্পাদনা: হ্যাপি

সর্বাধিক পঠিত