প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খান আসাদ: সুযোগ পেলে কওমি মাদ্রাসার সবাই কি মামুনুল হবে?

খান আসাদ: হেফাজতের মামুনুলের গল্প ব্যক্তিগত, কিন্তু একইসঙ্গে একটি ইসলামী ধর্মীয় শিক্ষাব্যবস্থা বোঝার কেসস্টাডি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ। মামুনুলের ইসলামিক ম্যাস্কুলিনিটি, বাংলার ডাকাতের হেজিমোনিক ম্যাস্কুলিনিটি থেকে আলাদা। বাংলার ডাকাত, কালি পুজো দিয়ে, বড় রামদা হাতে জোতদারের বাড়িতে গিয়ে বলতো, ‘মা আপনার গয়না খুলে দিন’। এই ম্যাস্কুলিনিটি পুরুষ শ্রেষ্ঠত্বের আবার একইসঙ্গে ‘দুর্বল মায়ের জাতিকে অসম্মান না করার। মামুনুলের ম্যাস্কুলিনিটি বা পৌরুষবোধ ও নৈতিকতা গড়ে ওঠেছে, মাদ্রাসা শিক্ষার সামাজিকায়নে। মামুনুলের কাছে পিতার তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রীও যৌনবস্তু, ভোগের সামগ্রী হতে বাধা হয়নি। কেন? মামুনুলের মনোজগৎ দেখতে হবে, সেখানে কী বৈধ ও অবৈধ। মামুনুল যে মাদ্রাসা ও ধর্মশিক্ষায় শিক্ষিত, যে ‘ইসলামী’ দ্বীনি এলেমে পুরুষ হয়ে ওঠেছে, সেই শিক্ষাব্যবস্থাটিকেও প্রশ্ন করা দরকার।

মামুনুল একটি শিক্ষাব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করছে, যেই শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে ইসলামের আলোয় ‘আলোকিত’ মানুষ, নৈতিকভাবে উন্নত মানুষ তৈরি হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। কওমি মাদ্রাসায় যে ইসলামী শিক্ষা ও সামাজিকায়ন, তা কী ধরনের পৌরুষ তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। নারীর প্রতি কী দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করছে? এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার কী সম্পর্ক? সুযোগ পেলে কওমি মাদ্রাসার সবাই কি মামুনুল হবে? মামুনুল কি ব্যতিক্রম? অনেক প্রশ্ন করা উচিত। বাংলাদেশে বাসেও ধর্ষণ হয়, মামুনুলের মতো আরও মানুষ আছে বাংলাদেশে, সবই ঠিক আছে, এগুলো বলে মামুনুল চরিত্রটিকে গুরুত্বহীন করা যায় না। যে দাবি করা হয়, ‘ইসলামী শিক্ষা দেবে নৈতিক জ্ঞান’, মামুনুলের অভিজ্ঞতা কী তা বলে? ব্যক্তি মামুনুল ভালো কী মন্দ, প্রশ্নের চেয়েও যে ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থায় মামুনুলের পৌরুষ বা ম্যাস্কুলিনিটি গড়ে ওঠে, সেই ব্যবস্থার দিকে নজর দিন। ফেসবুক থেকে

সর্বাধিক পঠিত