প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পিজি টিপস ডায়মন্ডের একটি টি ব্যাগের দাম ১৫ হাজার ডলার!

মেহেদী হাসান: নিজেকে সতেজ, প্রাণবন্ত ও চনমনে করে তোলার জন্য এক কাপ চায়ের জুড়ি নেই। পানির পরেই বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় পানীয় হচ্ছে চা। চা শুধুমাত্র তার ফ্লেভারের কারণে নয়, সেইসাথে বিভিন্ন উপকারি গুণের জন্যও জনপ্রিয়। চা সাধারণত ভারত, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ এবং চীনে চাষ হয়। সারা পৃথিবীতে বিভিন্ন জাতের ও বিভিন্ন দামের চা রয়েছে। রাস্তার পাশের অল্প দামের চা যেমন পাওয়া যায়, তেমনি রয়েছে অনেক দামি চা।

১. পিজি টিপস ডায়মন্ড টি ব্যাগ
বিশ্বের সবচেয়ে দামি চা হচ্ছে পিজি টিপস ডায়মন্ড টি ব্যাগ। ২০০৫ সালে যুক্তরাজ্যের পিজি টিপস কোম্পানি এই টি ব্যাগ প্রথম তৈরি করে। ডায়মন্ডের তৈরি টি ব্যাগের মধ্যে ভারতের দার্জিলিংয়ের বিখ্যাত সিলভার টিপস ইমপেরিয়াল চায়ের দুই গ্রাম চা পাতা ভর্তি করে দেওয়া হয়। এই টি ব্যাগটি ডিজাইন করেছে বুডলেস জুয়েলার্স। প্রতিটি টি ব্যাগ ২৮০টি ছোট ছোট ডায়মন্ড দিয়ে সাজানো। প্রতিটি টি ব্যাগের মূল্য ১৫ হাজার ডলার। ইংল্যান্ডে শিশুদের জন্য তহবিল গঠনের জন্য এক ক্যাম্পেইনে এই টি ব্যাগ বিক্রি করা হয়।

২. ডা হোং পাও টি
ডা হোং পাও টি হচ্ছে বিশেষ ধরনের চা। ডা হোং পাও টি চীনের বিখ্যাত উয়ি পাহাড়ে চাষ করা হয় এবং এই চা উলোঙ প্রজাতির অন্তর্গত। ডা হোং পাও চা তার ঔষুধি গুণের জন্য বিখ্যাত। এই চা দিয়ে চীনের এক অসুস্থ মিং রাজাকে সুস্থ করে তোলা হয়েছিল এবং এরপর রাজা তার চারজন কর্মচারীকে ডা হোং পাও নামক গাছকে রাজকীয় লাল কাপড় দিয়ে ঘিরে দিতে বলেন। সেই থেকে এই চায়ের অপর নাম রেড রোবস টি। ডা হোং পাও চায়ের দাম অনেকটা আকাশচুম্বী। প্রতি কেজি ডা হোং পাও চায়ের দাম ১.২ মিলিয়ন ডলার।

৩. পান্ডা ডাং টি
চীনের সিচুয়ান প্রদেশে পান্ডা ডাং টি চাষ করা হয় এবং প্রতি কেজি পান্ডা ডাং চা ৭০ হাজার ডলারেও বিক্রি হয়।এই চায়ের নাম পান্ডা ডাং টি হওয়ার কারণ হচ্ছে এই চা চাষ করার সময় পান্ডার গোবর থেকে তৈরি করা সার ব্যবহার করা হয়। পান্ডা ডাং টি সর্বপ্রথম চাষ করেন আন ইয়ানসি নামের এক শিল্পী এবং তিনি তার নিজ নামে পান্ডা ডাং টির পেটেন্ট নিয়েছেন।

৪. ভিনটেজ নার্সিসাস উয়ি উলোঙ টি
উলোঙ প্রজাতির এই চা চীনের উয়ি পাহাড়ে চাষ করা হয় এবং এটার নামকরণ করা হয়েছে গ্রিক দেবি নার্সিসাসের নাম অনুসারে। এই চায়ের ৬০ ভাগ জারিত করা হয় এবং এটা যত বেশি পুরনো হয় স্বাদও ততো বৃদ্ধি পায়। পুরনো নার্সিসাস উলোঙ টিতে যাতে কোনো ময়লা আবর্জনা না থাকে, সেটা নিশ্চিত করা জন্য দুই বছর পরপর একবার করে পোড়ানো হয়। ভিনটেজ নার্সিসাস উয়ি উলোং চার স্বাদ বৃদ্ধি করার জন্য এটার সাথে বিভিন্ন ধরনের ফ্লেভার যুক্ত করা হয় যেমন; বিভিন্ন কাঠের ফ্লেভার, ফুলের ফ্লেভার এবং চকলেটের ফ্লেভার। এই চা পৃথিবীর অন্যতম দামি চা এবং প্রতি কেজি নার্সিসাস উয়ি উলোঙ চায়ের দাম ৬৫০০ ডলার।

৫. ইয়োলো গোল্ড টি বাডস
ইয়োলো গোল্ড টি বাডসের চায়ের পাতা ২৪ ক্যারট সোনা দিয়ে কোটিং করা থাকে। সেই কারণে এই চায়ের দাম এত বেশি। এছাড়া এই চা অত্যন্ত দুর্লভ প্রজাতির চা। বছরের মাত্র একদিন একটিমাত্র জায়গায় এই চা চাষ করা হয়। চায়ের পাতা যখন মেলে ধরে তখনই সোনা দিয়ে রং করা হয় এবং এটা স্বাস্থ্যের পক্ষে উপকারি। এই বিশেষ চা সিঙ্গাপুরে পাওয়া যায় এবং প্রতিকেজি চায়ের দাম তিন হাজার ডলার।

৬. টিগুয়ানিয়েন
চীনে উৎপাদিত এই উলোঙ প্রজাতির চায়ের নামকরণ করা হয়েছে করুণার দেবি গুয়ানিয়েনের নাম থেকে। তবে এই চা সম্পর্কে বেশ কয়েকটি গল্প প্রচলিত আছে। তার মধ্যে দুইটি গল্প খুবই জনপ্রিয়। একটি গল্পে প্রচলিত আছে, উই নামের এক গরীব চাষীকে গুয়ানিয়েনের প্রতি প্রচুর ভক্তিস্বরূপ দেবি স্বয়ং তাকে একটি চা গাছ উপহার দেন। সেই চা গাছ বড় করে চাষ করার পর সেই চাষীসহ পুরো গ্রামের সবার ভাগ্যের পরিবর্তন হয়। আবার কেউ কেউ বলেন, ওয়াং নামের এক পণ্ডিত গুয়ানিয়েন পাথরের নিচে এই চা খুঁজে পান। তারপর তিনি সেটা সম্রাট কিয়ানলংকে দেন। পরবর্তীতে এই চায়ের নাম দেওয়া হয় গুয়ানিয়েন। ভালো মানের এক কেজি টিগুয়ানিয়েনের দাম তিন হাজার ডলার।

৭. সিলভার টিপস ইমপেরিয়াল চা
সিলভার টিপস ইমপেরিয়াল চা উৎপন্ন হয় ভারতে চায়ের জন্য বিখ্যাত দার্জিলিংয়ের মাকাইবাড়ি টি এস্টেটে। সারা পৃথিবীর মধ্যে সর্বপ্রথম মাকাইবাড়ি টি এস্টেটে চা বাগান করা হয়। বর্তমানে এই চা বাগানের মালিক লক্ষ্মী টি।সিলভার টিপস ইমপেরিয়াল চা সাধারণত প্রতি কেজি ৪০০ ডলারে বিক্রি হয় এবং প্রায় প্রতি বছরই এই চা বিশ্বের দামি চাগুলোর মধ্যে থাকে। কিন্তু ২০১৪ সালে সিলভার টিপস ইমপেরিয়াল চা স্বাভাবিক মূল্যকে ছাড়িয়ে প্রতি কেজি ১৮৫০ ডলারে বিক্রি হয়। এই চা সাধারণত জাপান, যুক্তরাজ্য এবং যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করা হয়।

৮. পো পো পু-এরহ চা
পো পো পু-এরহ চা উৎপন্ন হয় চীনের ইউনান প্রদেশে। এই চা মূলত চা পাতার স্তুপে সৃষ্ট একধরনের পোঁকার মল যেটা খুবই যত্ন সহকারে সংগ্রহ করা হয়।শুনতে অদ্ভুত লাগলেও কালো রঙের এই চা খেতে বেশ সুস্বাদু এবং চায়ের মধ্যে থাকা ঔষুধি গুণের কারণে এক কেজি পো পো পু এরহ চা এক হাজার ডলার পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে।

৯. গিওকুরো চা
সেঞ্চা নামক একধরনের গ্রিন টি’র প্রজাতি হচ্ছে গিওকুরো। নামের মতোই এই চা সুন্দর রঙের সৃষ্টি করে। জাপানের উজি জেলায় গিওকুরো চায়ের চাষ করা হয়। অন্যান্য চায়ের চেয়ে গিওকুরো আলাদাভাবে চাষ করা হয়। এটি ছাদ তৈরি করে তার মধ্যে চাষ করা হয় এবং ২-৩ সপ্তাহ সময় পর পাতা সংগ্রহ করা যায়। গিওকুরো চায়ের প্রতি কেজি বিক্রি করা হয় ৬৫০ ডলারে।
১০. তিয়েনচি ফুলের চা
চীনে উৎপাদিত তিয়েনচি ফুলের চা শুধুমাত্র চীনেই জনপ্রিয় নয়, সেই সাথে সারা পৃথিবীতে জনপ্রিয়। তিয়েনচি ফুলের চা বিভিন্ন ঔষুধি গুণের জন্য পৃথিবীর অন্যতম স্বাস্থ্যকর চা হিসেবে পরিচিত। অ্যালার্জি, অনিদ্রাসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় তিয়েনচি ফুলের চা ব্যবহার করা হয়। ব্রোকলির মতো দেখতে তিয়েনচি ফুলের চা প্রতি কেজি বিক্রি করা হয় ১৭০ ডলারে। সম্পাদনা : রাশিদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত