প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] খানপুরের সেই মন্দিরে শিবপুজাসহ অন্যান্য পুজা-অর্চণা শুরু হয়েছে

আজিজুল ইসলামঃ [২] বাঘারপাড়ার খানপুর গ্রামের সেই শিবমন্দিরে চতুর্দশীর পর প্রতিপদ মঙ্গলবার থেকে চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে শুরু হয়েছে শিব ঠাকুরের পুজা। চলবে বুধবার দ্বিতীয়াতে চৈত্র সংক্রান্তির চড়কপুজা ও বৃহস্পতিবার তৃতীয়ায় ভগবতী পুজার মধ্য দিয়ে ৩ দিন ব্যাপি এ পুজার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

[৩] শিবমন্দিরের এ পুজার অনুষ্ঠানে খানপুর ,হরিশপুর,আড়ুয়াকান্দি, গোবরা ও বয়রার প্রায় ২ শতাধিক মহিলা ভক্ত জড় হয়ে এ শিব ঠাকুরের পুজা দিচ্ছেন বলে ঐ মন্দির কমিটির সেক্রেটারী অশোক কুমার রজক ও উপস্থিত ভক্তগন জানান। মন্দির কমিটির সভাপতি কার্তিক চন্দ্র ঘোষ জানান পুরা বৈশাখ মাস ব্যাপি প্রতি মঙ্গলবার এখানে মঙ্গলচন্ডির পুজা অনুষ্ঠিত হবে। শেষ মঙ্গলবার মঙ্গলচন্ডির ব্রত শেষে জাকজমক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে মা মঙ্গলচন্ডির পুজা অনুষ্ঠিত হবে। এই মঙ্গলচন্ডির পুজা অনুষ্ঠানেও প্রতি মঙ্গলবার প্রায় ৩/৪শ মহিলা ভক্ত জড় হয়ে থাকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

[৪] খানপুরের সেই শিব মন্দির বলার অর্থ হচ্ছে এই, বাঘারপাড়া উপজেলার একমাত্র শিবমন্দির হচ্ছে এই শিবমন্দির।

[৫] রাজা সীতারাম রায়ের তৈরি করা শিবমন্দিরে প্রায় পাঁচশত বছর পুর্বে খাজুরার জমিদার বোস বাবুদের আমলে এই শিব মন্দিরের পুজাঅর্চনা,রক্ষনাবেক্ষন,ভক্তসেবা ও বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পরিচালনার জন্য জমিদারেরা ফরিদপুর কোটালিপাড়া থেকে একজন পুজারীকে নিয়ে এসে তাকে দায়িত্ব বুঝে দেন।

[৬] ঐসময় এই শিব মন্দিরের আওতায় প্রায় ৮ একর দেবোত্তর সম্পত্তিও রেখে যান। কালক্রমে ঐ পুজারীর মৃত্যুর পর তার পুত্র হেমন্ত ভট্টাচার্য্য পুরোহিত হিসাবে দায়িত্ব পালন করতেন। সেইআমলে এখানে বছরের বিভিন্ন পর্বে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি,চৈত্রসংক্রান্তিতে শিবপুজা ও জমজমাট গ্রামীনমেলা ও গানের আসর বসতো। প্রায় ১০০ বছর পুর্বে হেমন্ত ভট্টাচার্য্যরে মৃত্যুর পর তার ৪ পুত্র বাবুলাল ভট্টাচার্য্য,হরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্য,বদ্দিনাথ ভট্টাচার্য্য ও আদ্যনাথ ভট্টাচার্য্য দায়িত্বে থাকেন।

[৭] ৪৭এর আগে ব্রিটিশ আমলে বাবুলাল ভট্টাচার্য্য নড়াইল জমিদারের কাছারীর দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি ভারতে চলে যান। দেশ স্বাধীনের পর পর্যায়ক্রমে বদ্দিনাথ ভট্টাচার্য্য ও আদ্যনাথ ভট্টাচার্য্য তাদের পরিবারের সবাইকে নিয়ে কলিকাতা চলে যান।ঐসময় মন্দিরের কোষ্টি পাথরের শিবলিঙ্গটি চুরি হয়ে যায়। পরবর্তীতে একটি পাথরের শিবলিঙ্গ বসানো হয়েছিল।

[৮] এদেশেই দেহ রেখেছেন হেমন্ত ভট্টাচার্য্যরে মেঝে ছেলে হরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্য।তবে তার বড় ছেলে দুলাল ভট্টাচার্য্য ভারতে গেলেও ছোট ছেলে গোপাল ভট্টাচার্য্য এদেশেই বড় পদে(সচিব/পাটও বস্ত্র মন্ত্রনালয়)চাকরি করার পর অবসরে গিয়ে মাগুরাতে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। উপরোক্ত এসব কথাগুলো বললেন খানপুর গ্রামের মৃত সিতানাথ পালের ছেলে আশির উর্ধে বয়স নরেন্দ্রনাথ পাল(৮২)।

[৯] তিনি আরো বলেন“বিভিন্ন জরিপের সময়ে ঐসব দেবোত্তর সম্পত্তি তারা নিজ নামে রেকর্ড করে নিয়ে ধীরে ধীরে বিক্রি করে ফেলেন। বাড়িতে কিছু জায়গাজমি হরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্যরে তথা তার ছেলে গোপাল ভট্টাচার্য্যরে আছে বলে জানি। তবে শিব মন্দিরের আওতায় ৬ শতক জমি দেয়া আছে বলে শুনেছি’’। কালের আবর্তে মন্দিরটি ধবংসের দ্বার প্রান্তে গেলেও গ্রাম এবং পার্শবর্তী গ্রামের মহিলা ভক্তরা প্রতিবছর বিভিন্ন পর্বে পুজার মধ্যদিয়ে শ্রদ্ধা ভক্তি জানিয়ে আসছেন বলে স্থানীয়রা জানান।

সর্বাধিক পঠিত