প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমার একটি স্বপ্ন

সাইদুল ইসলাম: আশির দশকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ৯০ এর গণঅভ্যুত্থান এবং এর পর থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যে দু’টি নাম ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে তার একটি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অন্যটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তাঁরা তাঁদের নিজ নিজ দল ও দেশের ক্রান্তিলগ্নে যেভাবে এগিয়ে এসে এখনঅব্দি দল ও দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে চলেছেন তা নিঃসন্দেহে সাহসিকতার এবং প্রশংসার দাবীদার। অবশ্য শুধু প্রশংসা করলেও কম হয়, অনেক বেশি কৃতজ্ঞ আমরা তাঁদের প্রতি।

নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই দুই নেত্রী পালাক্রমে এ দেশ ও দলের হাল শক্ত হাতে ধরে রেখেছেন। পৃথিবীর রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন দৃষ্টান্ত বিরল। যে কোন বিবেচনায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজ নিজ বলয়ে তুমুল জনপ্রিয় এ দু’জন রাজনীতিবিদ।

বলা চলে তাঁদের দু’জনকে ঘিরেই টিকে আছে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। কিন্তু এ দুই নেত্রীর সমর্থকরা রাজনৈতিক বিভাজনে বিভাজিত হয়ে নিজ নেত্রীর প্রতিপক্ষ নেত্রী সম্পর্কে খুব কমই প্রশংসা করে থাকেন। বরং নিজ দল ও নেত্রীর প্রতিপক্ষ সম্পর্কে তাদের সমালোচনার যেন শেষ নেই। মাঝে মাঝে সমালোচনার তীর্যক বাক্য শিষ্টাচারের নূন্যতম মাত্রা পর্যন্ত অতিক্রম করে।

কোনো গুণী মানুষ মারা যাওয়ার পর আমরা যতটা তার ভালো কাজের মূল্যায়ন অথবা প্রশংসা করিনা কেন, জীবিত থাকাবস্থায় কিন্ত তাঁর প্রাপ্য সম্মানটুকুও দিতে চাই না বা দেইও না অনেক ক্ষেত্রে। বিশেষ করে রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গের বেলায় এই প্রবনতা প্রকট। যার কারনে ঐ ব্যক্তি দেখে যেতে পারেন না নিজের সম্পর্কে তাঁর সমালোচকদের বা প্রতিপক্ষের ধারণা কেমন!

এই উপলব্ধি থেকে বছর দুয়েক আগে আমার মনে একটি স্বপ্ন জাগে যে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবদ্দশায় তাঁদের সম্পর্কে প্রধান প্রতিপক্ষ দলের ১০১ শীর্ষস্থানীয় নেতার ইতিবাচক বা প্রশংসনীয় মন্তব্য শোনা। স্বপ্ন একারণেই বলছি, কারণ বাংলাদেশের বর্তমান বৈরী রাজনৈতিক পরিবেশে এমন চিন্তা অনেকটা অলীক স্বপ্নের মত। তবুও আমি এমন স্বপ্ন দেখতে ভালোবাসি। কারণ এই স্বপ্নটি দেশ ও জাতিকে বিভাজিত রাজনীতিকে থেকে ফিরিয়ে জাতীয় স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে।

স্বপ্নটি এমন যে, আওয়ামীলীগের শীর্ষ ১০১ জন নেতা তাঁদের দৃষ্টিকোন থেকে বেগম খালেদা জিয়ার ইতিবাচক কাজ বা দিক তুলে ধরবেন। একইভাবে বিএনপির ১০১ জন শীর্ষ নেতা সকল সমালোচনার উর্ধ্বে ওঠে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পর্কে প্রসংসনীয় কথা বলবেন। এতে করে উপমহাদেশের এই দু’জন বর্নাঢ্য রাজনীতিবিদ তাঁরা তাঁদের জীবদ্দশায় শুনে যেতে পারতেন, তাঁদের সম্পর্কে তাঁদের প্রধান প্রতিপক্ষের নানা নেতিবাচকতার ভীড়ে ইতিবাচক মূল্যায়ন। ১০১ সংখ্যাটি আমি একারণেই জুড়ে দিলাম যে, নেতৃদ্বয় সম্পর্কে ১০১টি ভালো কথা শুনতে চাই।

মানুষ মরণশীল বিধায় শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়া আমাদের মাঝে আজীবন বেঁচে থাকার কথা নয়। উনাদের প্রস্থানে নিশ্চয়ই বাংলাদেশ ও দল দুটোর অপূরনীয় ক্ষতি হবে। যেদিন তাঁরা চিরসত্য মৃত্যুকে আলিঙ্গন করবেন, সেদিন রাজনৈতিক শিষ্টাচারের জায়গা থেকে নিশ্চয়ই দল দুটো শোক প্রস্থাব সহ নেতৃবৃন্দরা নেতৃদ্বয় সম্পর্কে নানা ইতিবাচক কথা তো বলবেনই। তাহলে উনারা জীবিত থাকাবস্থায় বলতে দ্বিধা কোথায়? কেন পারবেন না সমালোচনার পাশাপাশি ভালো কাজের প্রশংসা করতে? সমালোচনা তো অনেক হলো, এবার কি পারিনা ভালো কাজগুলোর মূল্যায়ন করে শেষ জীবনে উনাদের ধন্য করতে?

বছর দুয়েক থেকে আমি এই স্বপ্নটি দেখছি। করোনা মহামারি আসার আগে একবার উদ্যোগও নিয়েছিলাম একমাসের জন্য দেশে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সম্পর্কে শীর্ষ দু’দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপির ২০২ জন নেতার ইতিবাচক সাক্ষাৎকার নেব। করোনার কারণে আমার এই উদ্যোগ পিছিয়েছে। আমি জানিনা উনাদের জীবদ্দশায় আমার এই স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা? তবে দেশের প্রয়োজনে এই স্বপ্ন পূরণ হওয়া খুবই দরকার। আমি মনে করি আমার এই স্বপ্ন যদি বাস্তবে রুপ নেয়, তবে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে, জাতি হিংসা বিভেদ ভূলে গিয়ে দেশে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত