প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এলপিজির দাম নির্ধারণে ফর্মূলা প্রণয়ন করা উচিত বিইআরসির

নিজস্ব প্রতিবেদক : জ্বালানি খাত বিশেষজ্ঞদের মতে, বিইআরসি যে প্রক্রিয়ায় এলপিজির বিক্রিমূল্য নির্ধারণ করেছে তা বাজারে মানসম্মত পণ্যে, নিরাপত্তা ও প্রতিযোগিতা বিঘ্নিত করবে। ফলে এলপিজির দাম নির্ধারণ বাজারের উপর ছেড়ে দেয়াই যৌক্তিক।

বিইআরসির পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা প্রতিমানে এলপিজির নতুন করে দাম নির্ধারণ করবে না। বরং মাসের শেষ ঐ মাসের সিপির সাথে নির্ধারিত ফরমূলার ভিত্তিতে পরের দামের বিক্রি দাম সমন্বয় করা হবে। আর দাম নির্ধারণে কোনো সমস্যা থাকলে বিইআরসি এবং লোয়াব আলোচনার মাধ্যমে তা নিরণ করার সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে।

অন্যদিকে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে বিইআরসি আদালতে আদেশে দাম নির্ধরাণে করেছে। এলপিজি অপারেটরদের সংগঠন লোয়াবের আদালতে যাওয়া উচিত ছিল। তবে বিইআরসির নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি মনিটরিং এ মাঠ প্রশাসনের সহায়তায় মন্ত্রণালয় কাজ করবে।

এনার্জি এন্ড পাওয়ার আয়োজিত এমটুকে ইপি টকস অন ‘বিইআরসি’স এলপিজি প্রাইসিং অ্যান্ড ইটস সাসটেনেবিলিটি’ শীর্ষক আলোচনায় উপরের মতামত উঠে আসে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইপি সম্পাদক মোল্লাহ আমজাদ হোসেন।

অনুষ্ঠানটির প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সচিব আনিসুর রহমান, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সদস্য মকবুল ই এলাহী চৌধুরী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বসুন্ধরা এলপিজির হেড অব ডিভিশন ইঞ্জিনিয়ার জাকারিয়া জালাল। আলোচনায় অংশ নেন বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ড. ইজাজ হোসেন, বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. এম তামিম, ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও এনার্জিপ্যাকের সিইও হূমায়ুন রশীদ, ইপি কন্ট্রিবিউটর ইঞ্জি খন্দকার আবদুস সালেক, জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বসিরুল হক, ওমেরা গ্যাসের তানজিম চৌধুরী, এলপিজি বাল্ক ট্রেডার্স ইঞ্জি সাইদুল ইসলাম ও এলপিজির মাস্টার ডিস্ট্রিবিউটর কাজী কামাল আহমেদ বাবু।

সিনিয়র সচিব আনিসুর রহমান বলেন, জ্বালানি বিভাগের একটি কমিটি এলপিজি প্রাইসিং ফরমূলা তৈরী নিয়ে কাজ শুরু করেছি। কিন্তু ক্যাবের মামলার কারণে আদালত বিইআরসিকে দাম নির্ধারণের আদেশ দেয়া তা থমকে গেছে। অবশ্য ক্যাবের মামলার সময় লোয়াব আদালতে গেলে রায় অন্যরকমও হতে পারতো। তিনি বলেন, এলপিজি খাতের জন্য একটি ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। কেননা একজন অপারেটর বিভিন্ন অনুমতি জন্য ২৮ প্রতিষ্ঠানের কাছে যাবে তা গ্রহনযোগ্য নয়। তিনি আশা আগামী ৬ মাসের মধ্যে নতুন নীতিমালার আওতায় একক রেগুলেটরি এলপিজি খাতকে সিঙ্গেল পয়েন্ট সার্ভিস দিতে সক্ষম হবে।

সিনিয়র সচিব বলেন, বড় অপোরেটরদের ছোট অপারেটরকে খেয়ে ফেলানোর একটি প্রবণতা আছে। তার কারণে স্টোরেজ ক্ষমতা ৩০০০ টনের বদলে ৫০০০ টন করা হয়েছে। তা গ্রহনযোগ্য নয়। তিনি বিইআরসিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দাম নির্ধারণের শুনানীকালে সকল পক্ষকে রাখা হলেও এলপিজির ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলারদের কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। এটা জরুরি ছিল। কেননা মাঠ পর্যায়ে দাম কার্যকর করতে তাদেও ভূমিকা গুরুত্বপূর্ন। তারপর দাম নির্ধারণ কওে বিইআরসি যে আদেশ জারি করেছে তা পালনে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে জ্বালানি বিভাগের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হবে।

বিইআরসি সদস্য মকবুল ই এলাহী চৌধুরী ভোক্তা এবং অপারেটর সকলের স্বার্থ বিচেনায় নিয়েই এলপিজির সর্বোচ্চ বিক্রি মূল্য ৯৭৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে মার্চের সিপি (সৌদী আরেমকো কন্ট্রাক্ট প্রাইস) অনুসরণ করে। এলপিজির দাম, পরিবহন খরচ, অপারেটর, ডিস্ট্রিবিউটর, ডিলার সহলের দাম, স্থানীয় পরিবহন খরচ সব বিবেচনা করেই দাম চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরের মাসগুলো থেকে কেবল সিপির সাথে দামের সমন্বয় করা হবে। লোয়াবের পক্ষ থেকে দাম রিভিউ করার জন্য যে আনুরোধ করা হয়েছে কমিশন তা অবশ্যই বিবেচনায় নেবে।

ইঞ্জিনিয়ার জাকারিয়া জালাল বলেন, ৩২ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগে গড়ে ওঠা দেশের এলপিজি শিল্পের সাথে ৩০ লাখ মানুষ পত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে। কিন্তু ছোট বাজারে বিপুল অপারেটর থাকার কারণে সাবসিডি দিয়ে বাজার ধরা চেষ্টা অব্যাহত আছে। তাতে ২৫০০ টাকায় আমদানী করা কিংবা ১৮০০ টাকা ব্যয়ে তৈরী করা প্রতিটি সিলিন্ডার বাজাওে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায়। গ্যাসের বিক্রি দাম নির্ধারণ করাটি একটি ভালো উদ্যোগ।

প্রফেসর এম তামিম বলেন, রেগুলেটর বাজারে একটি পণ্যের দাম নির্ধারণের ফরমূলা করে দিতে পারে। তারা সেটা অনুসরণ করা হচ্ছে কিনা তাও মনিটরিং করতে পারে। কিন্তু পণ্যের বিক্রিমূল্য নির্ধারণ করে দিলে তা হবে অপারেটরদের হাতপা বেধে পানিতে ফেলে দেয়ার শামিল। এটা বাজারে মানসম্মত পন্য নিরাপদভাবে সরবরাহ করার পরিবেশ বিঘ্নিত করবে। বিষয়টি বিভিউ করা উচিত।

প্রফেসর ইজাজ হোসেন বলেন, অপারেটর নয়, বরং ডিস্ট্রিবিউটর ও রিটেলারদের দাম নিয়ে খেলার সুযোগ আছে। ফলে প্রতিমাসের দাম সমন্বয় কওে তার ব্যবস্থাপনা খুব কঠিন হবে। ডিলারের কাছে আগের মাসের বেশি দামে পণ্য মজুদ থাকলে তা নিয়ে সংকট দেখা দেবে। বরং বিইআরসির উচিত এলপিজির জন্য প্রাইস ক্যাপিং করে দেয়া। ভালো মানের পণ্যের জন্য প্রতি সিলন্ডাওে ১০০ টাকা বেশি দিতে হলে ভোক্তা আপত্তি করবে বলে আমি মনে করি না।

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত