প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শওগাত আলী সাগর: মানুষ ঘরে থাকলেই আইসিইউ ও হাসপাতালের ওপর চাপ কমে যায়

শওগাত আলী সাগর: পৃথিবীর কোনো দেশেই হাজার হাজার আইসিইউ থাকে না। সেটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, টরন্টো, মন্ট্রিয়ল, নিউইয়র্ক, ওয়াশিংটন যেখানেই হোক না। সবদেশেই হাসপাতালে শয্যা সংখ্যার একটা সীমা থাকে। অসংখ্য মানুষের একসাথে হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হলে, আইসিইউর প্রয়োজন হলে, অক্সিজেনের দরকার হলে পৃথিবীর উন্নত দেশগুলোও  তার ব্যবস্থা করতে পারে না।

আমেরিকার মতো মহাপরাক্রমশালী দেশেও কোবিডে যে হাজার হাজার মানুষ মরে গেছে, তার কারণও কিন্তু  ছিলো একটাই। একসাথে এতো মানুষ অসুস্থ হয়েছে, তাদের হাসপাতালে জায়গা দেয়া সম্ভব হয়নি, আইসিইউ দেয়া সম্ভব হয়নি। তার মানে কিন্তু এই না, আমেরিকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা খারাপ, সরকার সেখানে অবহেলা করেছে। পুরো দেশ অসুস্থ না হলে কারোই এতো বেশি সংখ্যক আইসিউর দরকার হয় না। আমেরিকারও  দরকার ছিলো না।

কানাডার অন্টারিওতেও এখন একই অবস্থা, হাসপাতালে সিট নাই, আইসিইউতে জায়গা নেই। রোগীদের নানাস্থানে স্থানান্তরিত করে চিকিৎসা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্যেই কোভিড মহামারীর শুরু থেকে দেশে দেশে নাগরিকদের ঘরে থাকতে বলা হয়েছে, হচ্ছে, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বলা হয়েছে। লকডাউনের প্রয়োজনীয়তাও এসেছে এই ধারণা থেকেই। বিজ্ঞান বলছে, মানুষ যতো নানা জায়গায় ঘোরাফিরা করবে, ভাইরাসের সংক্রমণ ততো বিস্তৃত হবে। সেই কারণেই মানুষকে ঘরে থাকতে বলা হয়। যাতে কম মানুষ সংক্রমিত হয়, কম মানুষ হাসপাতালে যায়, কম মানুষের জন্য আইসিইউর প্রয়োজন হয়। মানুষ ঘরে থাকলেই আইসিইউ ও হাসপাতালের ওপর চাপ কমে যায়। কারণ তখন কম মানুষ অসুস্থ হয়।

`হাসপাতালে সিট নেই কেন, আইসিইউ নেই কেন’, এই প্রশ্ন আমরা যতোবার তুলি তার চেয়ে সহস্রবার বেশি মানুষ যাতে ঘরের বাইরে না যায়, মানুষ যাতে ঘরে থাকে  সেই কথা বলা উচিত। মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে হাসপাতালের যে আসন সংখ্যা আছে, যে আইসিইউ আছে তা দিয়েই সবকিছু সামলানো যায়। কেউ কোভিডে আক্রান্ত হলে, তার অক্সিজেনের দরকার হলে, হাসপাতালে ভর্তি হতে হলে সেই খরচ তো সরকার দেয় না। যিনি সংক্রমণের শিকার হন, তিনিই সেই খরচ বহন করেন। সেই খরচটা বাঁচানোর জন্য হলেও মানুষের কিছু দিন ঘরে থাকা দরকার। লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত