প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] পাবনায় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের বাড়িতে হামলা ভাংচুর: আটক ২

আবুল কালাম আজাদ : [২] আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পাবনা পৌর এলাকার ১৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহিন শেখের বাড়িতে হামলা ভাংচুরসহ লুটপাট চালিয়ে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা।

[৩] বুধবার দিবাগত মধ্যরাতে পাবনা হেমায়েতপুর বুদেরহাট পশ্চিমপাড়া মহল্লায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করে মহিদুল ইসলাম ও সায়েম শেখ নামের দুইজনকে আটক করেছে। ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সেখানে অতিরিক্তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

[৪] স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গেল পৌরসভার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধের সুত্রপাত হয়। ওই নির্বাচনে ১৫ নং ওয়ার্ডে শাহিন শেখ কাউন্সিলর হিসেবে বিজয়ী হওয়ার পর সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সমর্থন না দেয়ায় তার উপর ক্ষিপ্ত হয় প্রতিপক্ষের লোকজন। এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী আজাদ হোসেন, শফি, সুমন, সায়েম শেখ, হিরক শেখ গংরা একত্রিত হয়ে মাদক ব্যবসাসহ সকল ধরনরে অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত বলে জানান তারা।

[৫] গত ৩০ মার্চ এই সন্ত্রাসীরা ওয়ার্ড কাউন্সিল শাহিন শেখের ছোট ভাই জেলা ছাত্রলীগের পাঠাগার সম্পাদক শাকিল শেখকে সন্ত্রাসীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। এই ঘটনায় শাকিল শেখ দীর্ঘদিন রাজশাহী ও ঢাকায় চিকিৎসা শেষে বুধবার বাড়িতে আসেন। ওই ঘটনায় পাবনা সদর থানায় উভয় পক্ষ আলাদা দু’টি অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শেষে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন অভিযোগ দু’টি নথিভুক্ত করে।

[৬] কিন্তু সেই হামলা ও মামলা ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সন্ত্রাসীরা আবারো পরিকল্পিতভাবে বুধবার রাত ১১ টার দিকে ওয়ার্ড কাউন্সিলর শাহিন শেখের বসতবাড়ির উপরে হামলা চালায়। এসময় তারা ধারালো অস্ত্রদিয়ে শাহিন শেখের বসতঘরের টিনের বেড়া গেট ও ঘরের মধ্যে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। হামলাকারী সন্ত্রাসীরা প্রতিবেশি শাহিন শেখের সমর্থকের বাড়িতেও হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও মারপিট করে।

[৭] কাউন্সিলর শাহিন শেখের ছোট ভাই আহত শাকিল শেখের অভিযোগ, ওই সময় হামলাকারীরা তার ভাই কাউন্সিলর শাহিন শেখকে না পেয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের উপর নির্যাতন চালায় এবং শাহিনকে হত্যার হুমকি প্রদান করে ও বাড়িতে লুটপাট চালায়। এরপর পুলিশ আসার খবর পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

[৮] শাহীন শেখের পিতা আহাম্মদ শেখ জানান, এই হামলার ঘটনার পরে তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। তারা আবারো যেকোনো সময় হামলা করতে পারে। এমনকি কাউন্সিলর শাহিনের ক্ষতি করতে পারে।

[৯] ঘটনার বিষয়ে কাউন্সিলর শাহিন শেখ বলেন, আমি খুব বিপদের মধ্যে আছি। একের পর এক আমার উপরে হামলা হচ্ছে। প্রকাশ্যে এই সন্ত্রাসীরা আমাকে হত্যার হুমকি প্রদান করছে। দুই সপ্তাহ আগে আমার ছোট ভাইকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আহত করে। এবার আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার বাড়ির উপরে হামলা চালিয়েছে। মাদকসহ তাদের খারাপ কাজের সমর্থন না দেয়ার কারনে তারা আমার উপরে ক্ষিপ্ত হয়েছে। আমি প্রশাসনের কাছে সহযোগিতা চাইছি। আমার ও আমার পরিবারের জানের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে প্রশাসন।

[১০] এ বিষয়ে অতিরিক্তি পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রোকনুজ্জামান সরকার বলেন, এলাকায় মাদক, বালু, ক্লিনিক ও হাটবাজারের দখল নিয়ে আসলে ঝামেলার সূত্রপাত হয়েছে। রমজানের প্রথমদিনে রাতে শাহিন কাউন্সিলরের প্রতিপক্ষ গ্রপের সন্ত্রাসীরা তার বাড়িতে হামলা চালায়। ঘটনা শোনার সাথে সাথে সেখানে আমরা গিয়ে পরিস্তিতি নিয়ন্ত্রনে আনি। এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত সকলকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে। এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত দুইজনকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

[১১] এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আজাদ হোসেন ও সায়েম শেখের সাথে কথা বলার জন্য ফোন দেয়া হলে তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। এ কারণে তাদের বক্তব্য জানা যায়নি।

 

 

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত