প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] ঢাকায় একটি আইসিইউ বেজের জন্য ৫০ টি হাসপাতালে খোঁজ নিয়েছেন রোগীর পরিবার

শাহীন খন্দকার : [২] রোগীর স্বজনদের অভিযোগ করোনাভাইরাস মহামারির ২য় ঢেউয়ে রাজধানীর সরকারী-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি এবং সুচিকিৎসা পেতে এক প্রকার হাহাকার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে সংক্রমণ এবং মৃত্যু বেড়ে যাওয়ায় আক্রান্তদের সেবাদানের ক্ষেত্রে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরাও।

[৩] স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, সাধারণত রোগী সুস্থ্য হলে অথবা মৃত্যু বরণ করলেই কোনো একটি আইসিইউ বেড খালি হয়, এছাড়া খালি নেই আইসিইউ তাই রোগী বাড়তে থাকায় আইসিইইউ সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে ।

[৪] যদিও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১৫ই এপ্রিলের বুলেটিনের তথ্যে বলা হয়েছে সারাদেশে সর্বমোট ৮২৫টি আইসিইউ সজ্জার মধ্যে ৬৫২টিতে রোগী ভর্তি আছে এবং খালি আছে ১৭৩টি আইসিইউ বেড। কিন্তু আক্রান্তদের স্বজনরা অনেকেই বলছেন, ঢাকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কোনো রোগীর জন্য প্রয়োজন হলেই একটা আইসিইউ সয্যা পাওয়া যে কারো জন্যই কঠিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমানে।

[৫] সাধারণ মানুষ বা মধ্যবিত্ত, যারা সরকারি হাসপাতালের আইসিইউ বেড খোঁজেন তাদের জন্য এ সংকট আরো প্রকট বলেই ধারণা পাওয়া যাচ্ছে। সব যায়গা ভিআইপি আর ভিভিআইপিরা দখল করে আছে হাসপাতাল ঘুরে এমন চিত্র উঠে এসেছে। এদিকে রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় স্বাস্থ্যকর্মীদেরও সেবা দিতে বেগ পেতে হচ্ছে। বিএসএমইউতে নারায়ণগঞ্জের আরাফাত জানালেন, তিনি তার ভাইয়ের জন্য গত তিনদিন ধরে ধরন্না দিয়েও একটি আইসিইউ সজ্জা জোগাড় করতে সরকারি বেসরকারি প্রায় ৩০টি হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হয়েছে।

[৬] পরিবার, বন্ধু-বান্ধবের সহযোগিতায় প্রায় সাত ঘণ্টার চেষ্টায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আইসিইউ শয্যার ব্যবস্থা করতে পেরেছেন। তিনি বলেন, বলেন, সাধারণ মানুষের জন্য এ এক বিরাট সংকট।বাংলাদেশে এখন সংক্রমণ হার ২০ শতাংশের ওপরে। প্রতিদিন ৫ হাজারের বেশি রোগি সনাক্ত হচ্ছে। অনেকের জন্যই হাসপাতালে হাই ফ্লো অক্সিজেন সুবিধা প্রয়োজন হচ্ছে কিন্তু পাওয়া সহজ নয়। ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের একজন সেবিকা রুমানা খাতুন বলেন “আমি যে

[৭] কেবিনে ডিউটি করতেছি সেখানে ৩০টা বেড আছে। ৩০টা বেডেই হচ্ছে কন্টিনিউ রোগী থাকতেছে। এখন হচ্ছে কমতেছে না রোগী তিনি আরো বলেন “এই বাড়তি রোগীর কারণে আমাদের নার্সদেরও বেশ চাপের মধ্য পড়তে হয়েছে। এটাও বাস্তবতা যে বেড খালি না থাকায় অনেক সময় নতুন রোগী আসলে ফিরিয়েও দেয়া হচ্ছে”।এরই মধ্যে বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণে মৃত্যু দশ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। শুধু এপ্রিল মাসের পনের দিনেই এক হাজারের বেশি রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

[৮] দক্ষিণ আফ্রিকা, যুক্তরাজ্যসহ ভাইরাসের নতুন কয়েকটি ভ্যারিয়ান্ট ছড়িয়ে পড়ায় অনেক বেশি রোগী হাসপাতালে অক্সিজেন এমনকি আইসিইউ সুবিধার প্রয়োজন পড়ছে বলেও জানা যাচ্ছে। কোভিড ডেডিকেডেট একটি সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স বলেন “এখনকার অবস্থায় যেটা হচ্ছে। রোগীর অক্সিজেন স্যাচুরেশন লেভেল ভাল আছে, কথা বলছে এরকম অবস্থায় হঠাৎ করে রোগী বলছে যে আমার শ্বাসকষ্ট হচ্ছে”। সুত্র বিবিসি বাংলা

[৯] এমনক্ষেত্রে শ্বাসকষ্টের ট্রিটমেন্ট শুরু করার সুযোগও অনেক সময়ও অনেক রোগী দিচ্ছেন না। অল্প সময়ের মধ্যে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেখা যাচ্ছে মারাও যাচ্ছে” বলেন তিনি। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার কঠোর বিধিনিষেধ দিলেও প্রথম সপ্তাহে একেবারেই ঢিলেঢালাভাবে সেটি পালিত হয়েছে।

[১০ ২য় দফায় সর্বাত্মক লকডাউনের শুরুতে কঠোরতা দেখা যাচ্ছে তবে পরিস্থিতি যে কতটা ভয়াবহ সেটি সাধারণ মানুষ এখনো অনুধাবন করতে পারছেন না। স্বাস্থ্যকর্মী মুক্তা বলছিলেন “আসলে এটা খুবই দুঃখজনক যে সাধারণ মানুষ বুঝতেই পারছেন না যে পরিস্থিতি কতটা ভয়ানক। যখন একজন রোগী নিয়ে হাসপাতালে যান তখন সেই ব্যক্তিটাই বুঝেন যে, হাসপাতালের একটা সিট পাওয়ার জন্য, একটা অক্সিজেনের সিলিন্ডারের জন্য, একটা আইসিইউ বেডের জন্য কী পরিমাণ হাহাকার চলছে”।

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত