প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আল্লামা শফীকে হত্যার প্ররোচনা মামলা; মামুনুল হকসহ ৪৩ জনকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন

এম.ইউছুপ রেজা: বাংলাদেশ হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির শাহ আহমদ শফীকে মানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় হেফাজতে ইসলামের বর্তমান আমীর জুনায়েদ বাবুনগরীসহ ৪৩ জনকে আসামি করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। মামলার তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদনটি দাখিল করে।
সোমবার (১২ এপ্রিল) চট্টগ্রামের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তদন্ত প্রতিবেদনটি দাখিল করা হয় বলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার।

তিনি বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন আজ (সোমবার) দাখিল করা হয়েছে। ৪৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।’ জুনায়েদ বাবুনগরীকে আসামি করা হয়েছে কি না? জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, উনি আসামি হিসেবে আছেন।’
আদালত সূত্রে জানাযায়, চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল্লাহ কায়সারের আদালতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার পরিদর্শক মো. মুনির হোসেন তদন্ত প্রতিবেদনটি দাখিল করেন। এতে ৪৩ জনকে আসামি করা হয়েছে। ২২ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। এছাড়া তদন্তের সময় ২১ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তে প্রমাণিত ধারা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে দণ্ডবিধির ১৪৩, ৪৪৮, ৪২৭, ১১৭, ৩২৩, ৩৪১, ৩৪২, ৩০৪, ৫০৬ ও ৩৪।

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব নাছির উদ্দিন মুনিরকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। আলোচিত হেফাজত নেতা কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস এবং হাবিব উল্লাহও আসামির তালিকায় আছেন।
তদন্ত প্রতিবেদন যে ৪৩ জনকে আসামি করা হয়েছে তাদের মধ্যে ৩১ জনের নাম মামলার এজাহারে আছে। তদন্তে সম্পৃক্ততা পেয়ে আসামি করা হয়েছে জুনায়েদ বাবুনগরীসহ আরও ১২ জনকে। গত ১২ জানুয়ারি জুনায়েদ বাবুনগরীকে ওই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল পিবিআই টিম।

উল্লেখ্য-২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির শাহ আহমদ শফী মারা যান। তিনি হাটহাজারীর আল জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম মাদরাসার মহাপরিচালক ছিলেন। মৃত্যুর আগে ওই মাদরাসায় তিনদিন ধরে তাকে অবরুদ্ধ করে ছাত্র বিক্ষোভ হয়। এর মধ্যে শফী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং এক পর্যায়ে শারীরিক অবস্থার গুরুতর অবনতি হয়। পরে হেলিকপ্টারে ঢাকায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর পর শফীর পরিবার এবং হেফাজতে ইসলামের মধ্যে তার অনুসারীরা শফীকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। এজন্য তারা বাবুনগরী ও তার অনুসারীদের দায়ী করেন।

এরপর ১৭ ডিসেম্বর আহমদ শফীর শ্যালক মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন বাদি হয়ে চট্টগ্রামের তৃতীয় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শিপলু কুমার দে’র আদালতে একটি মামলা করেন। মামলায় মামুনুল হকসহ ৩৬ জনকে আসামি করা হয়। আদালত পিবিআইকে মামলা তদন্তের দায়িত্ব দেন।

মামলার আরজিতে অভিযোগ করা হয়, নাছির উদ্দিন মুনির ও মামুনুল হকের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্ররোচনায় মাদরাসায় ভাংচুর করে শাহ আহমদ শফীকে উত্তেজিত করার মাধ্যমে এবং উনাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে না দেওয়ার মাধ্যমে প্রাণে হত্যা করা হয়েছে। মাদরাসা অবৈধভাবে গ্রাস করার জন্য পূর্বপরিকল্পিতভাবে বিশ্ববরেণ্য এই ইসলামী চিন্তাবিদকে হত্যা করেছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত