প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বইমেলায় বিক্রি দিনে ৭৫ টাকা! স্টলের খরচও ওঠেনি অনেক প্রকাশকের

নিউজ ডেস্ক: ১২ এপ্রিল শেষ হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা। করোনা পরিস্থিতিতে এ বছর মেলা হবে কিনা তা নিয়েই ছিল দ্বিধা। অবশেষে ১৮ মার্চ মেলা শুরু হলেও লকডাউন ও করোনা সংক্রমণের কারণে ক্রেতা আসেনি বললেই চলে। প্রতিবছরের মতো দীর্ঘলাইন তো দূরে থাক, লেখকদেরও দেখা যায়নি আড্ডা দিতে। আর তাই প্রকাশকরা বলছেন, অন্যান্য খাতের মতো প্রকাশনা শিল্পকেও টিকিয়ে রাখতে সরকারের সমর্থন জরুরি।

রবিবার বইমেলায় মাঝারি ও ছোট প্রকাশনীর কর্ণধারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেলো, তাদের অনেকের বিক্রি শূন্যের ঘরে ছিল টানা কয়েকদিন। দিনে বড়জোর পাঁচ-ছয়শ’ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। এমন প্রকাশনীও পাওয়া গেছে যাদের এক সপ্তাহে একটি বইও বিক্রি হয়নি। বিশেষ করে ছোটদের জন্য মেলায় এবার আলাদা কোনও ব্যবস্থা না থাকায় শিশু বিষয়ক প্রকাশনীগুলোর বিক্রি ছিল একেবারেই কম।

প্রকাশকরা বলছেন, বেশিরভাগ প্রকাশক লোকসানের মধ্যেই বইমেলায় অংশ নিয়েছেন। লগ্নি করা টাকা তুলতে পারেনি সিংহভাগ প্রকাশনী। এ পরিস্থিতিতে সরাসরি প্রণোদনার কথা না বললেও ছোট প্রকাশনীগুলো তাদের ঋণগ্রস্ত জীবন নিয়ে হতাশার কথা জানালেন।

তারা বলছেন, এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারকেই কোনও না কোনও উদ্যোগ নিতে হবে। সেটা নীতিনির্ধারকরাই আলাপ করে ঠিক করে নিতে পারেন।

কেমন হলো মেলা জানতে চাইলে অনুপম প্রকাশনীর কর্ণধার মিলন কান্তি বলেন, ‘২০২০ সালের মার্চ থেকে সারাদেশ চ্যালেঞ্জের মুখে ছিল। আমরাও এর বাইরে ছিলাম না। তবে ভেবেছিলাম এবারের মেলাটা করতে পারলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবো। সেটা হলো না।’

এখন টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবেন কী করে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই খাতে প্রণোদনার দরকার আছে। তবে দান-খয়রাত আমরা চাই না। শিল্প-সাহিত্য জগতের যে সৃজনশীলতা সেটাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে সরকার সচেষ্ট হলেই হবে। প্রথমে আমরা বলেছিলাম মেলা ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ৭ মার্চ শেষ হোক। সেটা হলো না। পরে বলা হলো ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ। সেটাও হলো না। শেষ পর্যন্ত যা হয়েছে তাতে ফল হলো উল্টো। অনেক দোকানে সাতদিন ধরে বিক্রি হয়নি। কত প্রকাশক ঋণ করে মেলায় এলেন সেই খোঁজ কে রাখে! তারপরও চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলাম। এখন আরও বড় চ্যালেঞ্জে পড়ে গেলাম। কী হবে বলা কঠিন।’

ইকরিমিকরির প্রকাশক মাহবুবুল হক জানালেন, দিনে সর্বোচ্চ ছয়শ’ টাকার বিক্রি হয়েছে। গত পরশু বিক্রি হলো মাত্র ৭৫ টাকার। স্টলের খরচও ওঠেনি অনেক প্রকাশকের। এই ঘাটতি কীভাবে পূরণ হবে জানা নেই।

ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) কর্ণধার মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, প্রকাশকরা যাতে বিপর্যয়ে পড়ে না যান সেজন্য মেলাটা করার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এখন উল্টো আরও বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়তে যাচ্ছেন তারা। এর জন্য শুরুতে সময়সীমা নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছিল সেই কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দোদুল্যমানতা আমাদের প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলেছে। শুরুর দুই সপ্তাহ মোটামুটি চলেছে। লকডাউনের পর সময় কমিয়ে দেওয়া হলো। সেটাই বড় লোকসান ঘটিয়েছে। মেলায় অংশ নিতে যা খরচ হয়েছে সেটাও ওঠেনি অনেকের। অনেকে ঋণ করে এসেছিলেন। আমরা আশা করবো সবার কথা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন নীতিনির্ধারকরা।

বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির নির্বাহী পরিচালক খন্দকার সোহেল মনে করেন, যে প্রকাশকরা সরকারের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে বইমেলায় অংশ নিয়েছে, তাদের প্রত্যেকের কিছু বই সরকারি পাঠাগারগুলোর জন্য কিনে নেওয়ার ব্যবস্থা করা জরুরি। এখন কিছু না করা গেলে আগামীতে আরও দুর্ভোগ পোহাতে হবে প্রকাশকদের। – বাংলা ট্রিবিউন

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত