প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এনবিআরের প্রতিবেদন: ৮ মাসে রাজস্বে প্রবৃদ্ধি ৫.১৭% ঘাটতি ৪৩ হাজার কোটি টাকা

অর্থনৈতিক ডেস্ক: করোনার প্রথম ধাক্কা সামলে গতি ফিরে পেয়েছিল অর্থনীতি। গত কয়েক মাস ধরে আমদানি-রফতানি বেড়েছে, স্থানীয় উৎপাদন ও সরবরাহেও গতি আসে। ফলে রাজস্ব আদায়ও বেড়েছে। রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি থাকলেও বেড়েছে আহরণ ও প্রবৃদ্ধি। চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে গত অর্থবছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আহরণ করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ১৮ শতাংশ। আর অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) গত অর্থবছরের তুলনায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকারও বেশি আহরণ হয়েছে। প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ১৭ শতাংশ।

গতকাল প্রকাশিত এনবিআরের সর্বশেষ প্রতিবেদন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে করোনার প্রকোপ বৃদ্ধির কারণে আজ থেকে দ্বিতীয়বারের মতো এক সপ্তাহের লকডাউন ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময় শিল্প-কারখানা খোলা থাকলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। এক সপ্তাহ পর পরিস্থিতি বুঝে লকডাউনের সময় বাড়ানো হবে কিনা, সে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এমন অবস্থায় লকডাউন কিংবা করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে আবারো শ্লথগতি দেখা দিতে পারে। এতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে রাজস্ব আদায়ে কাঙ্ক্ষিত গতি কমিয়ে দেবে। ফলে আগামীতে বড় ধরনের রাজস্ব ঘাটতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ প্রসঙ্গে এনবিআরের কর্মকর্তারা বলেন, গত অর্থবছরের তুলনায় চলতি অর্থবছরের আট মাস ভালো ছিল না। তবে মাঝের কয়েকটি মাস ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য তুলনামূলক অনেকটা ভালো ছিল। এছাড়া করোনার মধ্যেও রাজস্ব বাড়ার জন্য বেশকিছু নীতিগত সিদ্ধান্ত যেমন ট্যাক্সরেট কমানোসহ কর্মকর্তারা যথেষ্ট পরিমাণে পরিশ্রম করেন। এক্ষেত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকেও তদারকিও ভালো ছিল। তাই রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলেও মোটামুটি ভালো প্রবৃদ্ধি ছিল। কিন্তু আবারো লকডাউন ঘোষণা করায় আগামীতে রাজস্ব আহরণে বড় ঘাটতির শঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ বলেন, এনবিআরের রাজস্ব মূলত আয়কর, মূল্য সংযোজন কর এবং আমদানি শুল্কের ওপর নির্ভর করে। এ বছর আয়কর খাতে রাজস্ব আহরণ বেশ ভালো। কারণ গত অর্থবছরের আয়ের ওপর এ বছর আয়কর নিতে হচ্ছে। গত অর্থবছরে প্রায় নয় মাস করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছিল না। তাই মানুষের আয় ভালো হয়েছিল। কিন্তু এবার তো বছরজুড়েই করোনা, তাই স্বাভাবিকভাবেই মানুষের আয় কম হয়েছে। এ আয়কর কমার প্রভাবটা পড়বে আগামী অর্থবছরে।

তিনি আরো বলেন, করোনার কারণে সবকিছুতে স্থবিরতায় নতুন বিনিয়োগ তেমন নেই, উৎপাদনও কম। সব মিলিয়ে আমদানি কম হওয়ায় শুল্ক কম পাওয়া গেছে। করোনার কারণে মানুষের কেনার ক্ষমতা কমে গেছে, পাশাপাশি ভ্যাট আদায়ে এনবিআর দোকানে দোকানে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) স্থাপন করতে পারেনি। এতে ভ্যাট আদায়ও কম হচ্ছে। এসব কারণে রাজস্ব আদায়ে তেমন গতি আসছে না। আবার নতুন করে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। এতে চলতি অর্থবছর তো বটেই, আগামী অর্থবছরেও রাজস্ব আহরণে ঘাটতি বাড়বে।

এনবিআরের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় পর্যায়ে মূল্য সংযোজন কর (মূসক) বা ভ্যাট থেকে ৫ হাজার ৩১২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার রাজস্ব আহরণ হয়েছে, যা গত অর্থবছরের ফেব্রুয়ারির চেয়ে ১২ দশমিক ৭৫ শতাংশ বেশি। গত ফেব্রুয়ারিতে এ খাতে রাজস্ব আহরণ হয়েছিল ৪ হাজার ৭১১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। তবে গত আট মাসে এ খাতে আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে রাজস্ব আহরণ কিছুটা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮ হাজার ৭৩৪ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

এছাড়া আমদানি পর্যায়ে মূসক বা ভ্যাট থেকে গত ফেব্রুয়ারিতে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৩ হাজার ৫০ কোটি ২ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় ১০ দশমিক ৫১ শতাংশ বেশি। আর আট মাসে এ খাতে রাজস্ব আহরণ হয় ২২ হাজার ৭০৯ কোটি ৩২ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি।

আয়কর খাত থেকে গত ফেব্রুয়ারিতে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৫ হাজার ৮৮১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। যা গত অর্থবছরের ফেব্রুয়ারির তুলনায় প্রায় ৬ শতাংশ বেশি। আর আট মাসে এ খাতে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৪৬ হাজার ৬৯৬ কোটি ৬৯ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ দশমিক ৪৪ শতাংশ বেশি।

এছাড়া চলতি অর্থবছরের আট মাসে আমদানি শুল্ক খাত থেকে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ১৮ হাজার ৩১৮ কোটি ৪৮ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশ বেশি। আমদানি পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক থেকে আট মাসে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৫ হাজার ২০৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২ দশমিক ৭৫ শতাংশ কম। স্থানীয় পর্যায়ে সম্পূরক শুল্ক থেকে আট মাসে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ১৮ হাজার ৬৫১ কোটি ২২ লাখ টাকা, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ বেশি।

এছাড়াও গত আট মাসে আবগারি শুল্ক থেকে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ২ হাজার ১৪০ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ভ্রমণ কর থেকে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ১৮৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। পাশাপাশি টার্নওভার ট্যাক্স থেকে রাজস্ব আহরণ হয়েছে ৬৫ লাখ টাকা। – বণিক বার্তা

সর্বাধিক পঠিত