প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শরীরের অবাঞ্ছিত লোম থেকে বাঁচতে চান

আতাউর অপু: শরীরের অবাঞ্ছিত লোম নিয়ে দ্বিধায় ভোগে অনেকেই। এটা থেকে হীনম্মন্যতা তৈরি হয় কারো কারো মধ্যে। কিছু বিষয় মেনে চললে অবাঞ্ছিত লোম থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়।

অবাঞ্ছিত লোম কী?

মেয়েদের মুখমণ্ডল, বুক, পিঠ কিংবা পেটে খুব পাতলা, চিকন ও ছোট লোম থাকে, যা খুব একটা চোখে পড়ে না। ছেলেদের বেলায় এটা উল্টো। মূলত ছেলে ও মেয়েদের শরীরে হরমোনের তারতম্যের জন্য এমনটা হয়ে থাকে। যদি মেয়েদের মুখমণ্ডল কিংবা বুক ও পিঠে ছেলেদের মতো ঘন, কালো, মোটা লোম দেখা যায়, সেগুলোকেই অবাঞ্ছিত লোম বলি আমরা। মেডিক্যালের ভাষায় এটাকে হারসুটিজম বলা হয়।

কারণ

নানা কারণে অবাঞ্ছিত লোম দেখা দিতে পারে। যেমন—

►   পারিবারিকভাবে কোনো কোনো পরিবারের মেয়েদের লোম গজানোর প্রবণতা একটু বেশি দেখা যায়।

►   গোত্র বা জাতিভেদে কোনো কোনো অঞ্চলের মেয়েদের মুখে লোমের আধিক্য দেখা যায়। যেমন—মধ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েদের মধ্যে এমন দেখা যায়।

►   শরীরে এনড্রোজেন বা পুরুষ হরমোন বেড়ে গেলে। যা স্বাভাবিক অবস্থায় মেয়েদের শরীরে খুব অল্প পরিমাণে থাকে। বেশ কিছু কারণে মেয়েদের শরীরে এনড্রোজেনের পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কারণ হচ্ছে পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোম। ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে অবাঞ্ছিত লোমের জন্য এই রোগ দায়ী। এর ফলে লোম বৃদ্ধি ছাড়াও অনিয়মিত মাসিক সমস্যা, স্থূলতা, ব্রণ, মাথার চুল পড়া, ঘাড় কালো হওয়া, গর্ভধারণে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

►   আবার কনজেনিটাল অ্যাড্রেনাল হাইপারপ্লাসিয়া নামক অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির একটি রোগের কারণে এনড্রোজেন হরমোন বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া ডিম্বাশয় বা অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির টিউমারের কারণেও এই হরমোন বেড়ে যায়। ফলে লোম বৃদ্ধি ছাড়াও আরো নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

►   অন্যান্য হরমোনজনিত সমস্যা, যেমন—থাইরয়েডের সমস্যা, কুসিংস সিনড্রোম, ইনসুলিন রেজিস্ট্রেনস সিনড্রোম, এক্রোমেগালিতেও অবাঞ্ছিত লোম বৃদ্ধির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

►   কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণেও অবাঞ্ছিত লোম দেখা দিতে পারে, যেমন—স্টেরয়েড, ডেনাজল, মিনক্সিডিল, ফেনোথায়াজিন, মেটোক্লোপ্রমাইড, প্রজেস্টেরন ইত্যাদি।

►   অনির্ণীত কারণ, অনেক সময় অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেও অবাঞ্ছিত লোমের পেছনে সঠিক কোনো কারণ খুঁজে পাওয়া যায় না।

►   কখনো কখনো স্থূলকায় মেয়েদের অবাঞ্ছিত লোম দেখা যায়।

যা করবেন

►   অতিরিক্ত ওজন নিয়ন্ত্রণ করুন। নিয়মিত হাঁটা, ব্যায়ামের অভ্যাস গড়ে তুলুন।

►   ফাস্ট ফুড, অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার, যেসব শর্করাজাতীয় খাবার দ্রুত রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, যেমন—সাদা ভাত, চিনিযুক্ত খাবার পরিহার করুন।

►   যেসব ওষুধের কারণে শরীরে এনড্রোজেনের পরিমাণ বাড়তে পারে সম্ভব হলে তা পরিহার করা। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন না করা।

►   ডায়াবেটিস কিংবা অন্যান্য হরমোন সমস্যা নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া।

চিকিৎসা

অবাঞ্ছিত লোম যেহেতু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এনড্রোজেন হরমোনের আধিক্যের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত, তাই প্রথমে হরমোন বৃদ্ধির পেছনের কারণ জানা জরুরি। এরপর সে অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া আরো অনেক পদ্ধতিতে অতিরিক্ত লোমের চিকিৎসা করা হয়। যেমন—ইলেকট্রোলাইসিস, লেজার হেয়ার রিডাকশন। এফলুরিথিন নামক ক্রিম ব্যবহার করা যেতে পারে। কিছু ঘরোয়া পদ্ধতি, যেমন—সেভিং, ওয়াশিংয়ের মাধ্যমেও সাময়িকভাবে লোম দূর করা যায়। তবে সবচেয়ে কার্যকর চিকিৎসা পদ্ধতি লেজার হেয়ার রিডাকশন। এটা আমাদের দেশে অনেক জনপ্রিয়।

সর্বাধিক পঠিত