প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে হেফাজতের বিচার দাবি শেখ সেলিমের

মনিরুল ইসলাম: [২] ভারতের প্রধানমন্ত্রী আসতে যারা বিরোধীতা করেছে তারা ইয়াহিয়া, টিক্কা ও নিয়াজীর বংশধর।বিশেষ ট্রাইব্যুনাল’ করে সহিংসতায় জড়িত হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের বিচারের দাবি উঠেছে জাতীয় সংসদে। শনিবার (৩ এপ্রিল) আওয়ামী লীগের সিনিয়র সংসদ সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম সংসদে এ দাবি তোলেন।

[৩] অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত ইসলামবিরোধী। নামে হেফাজতে ইসলাম হলেও তারা ইসলামবিরোধী, জঙ্গি, স্বাধীনতাবিরোধী। এরা দেশের শত্রু, রাষ্ট্রের শত্রু। এদের কোনো ছাড় দেয়া যাবে না। এদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে। দরকার হলে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল করে অবিলম্বে তাদের বিচার করতে হবে।

[৪] এসময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য ২০১৩ সালের ৫ মে এর ঘটনায় হেফাজত ইসলামের জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের’ বিরুদ্ধে যে মামলা হয়েছিল, তার দ্রুত তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

[৫] শেখ সেলিম বলেন, কোনো বিএনপি-জামায়াত অপশক্তি যেন বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করতে না পারে আল্লাহর কাছে সেই দোয়া করি। জন্মশতবার্ষিকী আর সুবর্ণজয়ন্তীর জন্য অনেক কিছু আমরা সহ্য করে গেছি। আর কোনো কিছু সহ্য করা হবে না। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে আরও কঠোর হতে হবে। আপনার পেছনে ১৪ কোটি মানুষ আছে। এই অপশক্তিকে ছাড় দেয়া যাবে না।

[৬] তিনি বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম, মানবতার ধর্ম। ইসলাম ধ্বংস করে না। ইসলাম সৃষ্টি করে। হেফাজতের নামে যারা জঙ্গি-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। বিএনপি-জামায়াত যাদের সহযোগী হিসেবে যারা ইসলাম ধর্মকে ব্যবহার করে। ইসলামের হেফাজত কোনো সন্ত্রাসী-জঙ্গিরা করতে পারে না। ইসলাম হেফাজত করবে আল্লাহ।’

[৭] যারা বাংলাদেশকে স্বীকার করে না তাদের বাংলাদেশে থাকার কোনো অধিকার নেই উল্লেখ করে শেখ সেলিম আরও বলেন, ‘যারা বিশ্ববাসীর কাছে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। দেশের অর্জন ও স্বাধীনতার গৌরবকে নস্যাৎ করার চেষ্টা করছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দরকার হলে ট্রাইব্যুনাল করে অবিলম্বে তাদের বিচার করতে হবে। হেফাজতের জঙ্গিরা যেসব মাদরাসা থেকে রাস্তায় বের হয়ে মানুষ হত্যা করে। মানুষের বাড়িঘর ও স্থাপনায় আক্রমণ করে ও পুড়িয়ে দেয়। সেইসব মাদরাসাও বন্ধ করে দিতে হবে। ইসলাম কখনও সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিতে পারে না।

[৮] তিনি আরও বলেন, ‘সরকার বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে ১০ দিনের যে অনুষ্ঠান করেছে, তাতে ২৭টি দেশের প্রধান ও ১২টি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধান ভিডিওবার্তা পাঠিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এই অনুষ্ঠান ও ভিতিরবার্তায় বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি পেয়েছে।’

[৯] একাত্তরের পরাজিত শক্তি, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারেনি; সেই শক্তি আমাদের সুন্দর অনুষ্ঠানকে কলঙ্কিত করতে চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সহিংসতা ঘটিয়েছে অভিযোগ তুলে শেখ সেলিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও ২৬ মার্চ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে বিএনপি-জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধী হেফাজতে ইসলাম হাটহাজারীতে তাণ্ডব চালায়। তারা থানা আক্রমণ করে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নেয়। তারা ১০ জন পুলিশকে বোমা মেরে আহত করে। পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। বিভিন্ন স্থাপনায় আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। ভূমি অফিস ও বিভিন্ন স্থাপনাও পুড়িয়ে দেয়।’

[১০] আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি যাদের বিন্দুমাত্র বিশ্বাস রয়েছে, তারা কোনোদিন এই জঘণ্য কাজ করতে পারে না। তাদের এই বাংলাদেশে থাকারও কোনো অধিকার নেই। তারা ২৭ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশন ও রেললাইনে আগুন দেয়। ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ সঙ্গীত একাডেমি, এসপি অফিস ও থানায় আগুন দেয়। বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল পর্যন্ত তারা ভাঙচুর করে এবং আগুন দেয়ার চেষ্টা করে। তারা জেলার প্রেস ক্লাবে আগুন দেয়। প্রেস ক্লাব সভাপতি রিয়াজউদ্দিন জামিলসহ ১১ জন সাংবাদিককে কুপিয়ে মারত্মকভাবে আহত করে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাদত হোসেন শোভনের বাড়িতে আগুন দেয় এবং পবিত্র কোরআন শরীফ পুড়িয়ে ফেলেছে।

[১১] এছাড়া সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, যাত্রাবাড়ী, বায়তুল মোকাররম, বসুন্ধরা এবং ৩০০ ফিট রাস্তার বিভিন্ন স্থানের স্থাপনায় আগুন দেয় ও গাড়ি ভাঙচুর করে বলে উল্লেখ করেন শেখ সেলিম।

[১২] ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্ত্বরে হেফাজতের সমাবেশের প্রসঙ্গে টেনে শেখ সেলিম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে থেকে বিভিন্ন স্থানে বিনাকারণে কী তাণ্ডব তারা করেছিল। সেদিন খালেদা জিয়া বিএনপিকে হেফাজতের পাশে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তারা বায়তুল মোকাররমে মসজিদে আক্রমণ করে। কোরআন শরীফ পুড়িয়ে দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংক ও আওয়ামী লীগ অফিসে আক্রমণ করে। এদের কোনো ছাড় দেয়া যেতে পারে না।

[১৩] সংসদে সাম্প্রতিক সহিংস ঘটনার একটি ছবি দেখিয়ে শেখ সেলিম বলেন, ‘এই জঙ্গিরা তলোয়ার নিয়ে ঘোড়ার ওপর উঠে পেছনে শত শত জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্র দিয়ে সাধারণ মানুষকে হত্যা এবং সরকারি স্থাপনা ধ্বংস করার জন্য তাণ্ডব চালিয়েছে। ছবি দেখে মনে হচ্ছে প্রাচীনকালের মতো কোনো যুদ্ধ।

[১৪] শেখ সেলিম বলেন, তাদের (হেফাজত নেতাকর্মী) মনে রাখতে হবে- বাংলাদেশ তালেবান রাষ্ট্র নয়। এটা পাকিস্তান নয়। সন্ত্রাসী-জঙ্গিদের বাংলার মাটিতে কোনো স্থান নেই। সরকারকে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। স্বাধীন দেশে এভাবে চলতে পারে না।

[১৫] বিএনপির স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর কর্মসূচি বন্ধ করার প্রসঙ্গে সেলিম বলেন, ‘কারা এ ধরনের কর্মসূচি বন্ধ করে? যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, তারা স্বাধীনতার কর্মসূচি বন্ধ করতে পারে না। বিএনপি-জামাত-হেফাজত এরা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। বিএনপি ২৬ মার্চ স্মৃতিসৌধেও যাইনি। কারণ তারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না।

[১৬] বিএনপির সংসদ সদস্যদের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘বিএনপির নেতারা এখানে আছেন। তাদের বাপ-দাদার হিসাব নেয়া হোক। একাত্তরে তারা কোন দলে ছিল।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত