প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রোগীর চাই উচ্চ প্রবাহের অক্সিজেন, নেই ক্যানুলা

নিউজ ডেস্ক: গত মার্চ মাসের শুরু থেকেই করোনার রোগী বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কভিড হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ সংকট শুরু হয়। সর্বশেষ গতকাল সে সংখ্যা শূন্যের কোটায় এসে দাঁড়ায়। এমন অবস্থায় চিকিৎসকরা সাধারণ কভিড বেডে অক্সিজেন এবং হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা দিয়ে চিকিৎসাব্যবস্থা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করে আসছেন। এখন সেই হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলারও সংকট দেখা দিয়েছে।

বিভিন্ন কভিড হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বর্তমানে হাসপাতালে আসা রোগীদের অবস্থা খুবই জটিল। সব রোগীকেই অক্সিজেন দিতে হচ্ছে। এদের মধ্যে ২০ শতাংশের হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা লাগছে এবং ৩০ শতাংশের আইসিইউ লাগছে। কিন্তু রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় সব রোগীকে হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা দিতে পারছেন না চিকিৎসকরা। তারা এমনও বলেছেন, হাসপাতালে আসা রোগীদের সুস্থ করে বাড়ি পাঠাতে হলে হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা ও এর জন্য সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট দরকার।

এ ব্যাপারে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাজুমল হক বলেন, ‘এই মুহূর্তে হাই-ফ্লো অক্সিজেন ভীষণ দরকার। যত বেশি হাই-ফ্লো অক্সিজেন থাকবে ও এগুলো চালাতে যত বেশি দক্ষ লোকবল থাকবে তত বেশি চিকিৎসাসেবা দেওয়া যাবে। হাই-ফ্লোগুলো ২৪ ঘণ্টা চালু রাখতে হচ্ছে। যদি এটা ঠিকমতো থাকে, তাহলে আমরা সন্তোষজনক সংখ্যক মানুষকে সুস্থ করে বাসায় ফেরত পাঠাতে পারব।’

এ পরিচালক আরও বলেন, ‘হাসপাতাল বাড়ানো উচিত। যে পরিমাণ রোগী আসছে, হাসপাতাল ও বেড না বাড়ালে এত রোগী রাখবে কোথায়? এসব রোগী তো বাসায় রাখা যাবে না। কারণ তাদের সিলিন্ডার অক্সিজেনে হচ্ছে না, সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাগছে।’

পরিস্থিতি সামাল দিতে ঢাকায় কভিড হাসপাতাল চালু করা হচ্ছে এবং হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. ফরিদ হোসেন মিয়া। তিনি বলেন, ‘বেশি উদ্বিগ্ন ঢাকা মহানগরীকে নিয়ে। এখানে যে হারে রোগী বাড়ছে, তাদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। খুঁজছি কোথায় হাসপাতাল করা যায়। এভাবে আক্রান্ত হতে থাকলে এত রোগীর জায়গায় দেওয়া যাবে না। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে রাজধানীতে তিনটি কভিড হাসপাতাল চালু করার প্রস্তুতি চলছে। এটা করা গেলে বেশ সাপোর্ট দিতে পারব। তবে এখনো ফিল্ড হাসপাতাল তৈরির ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনা জানা নেই।’

রাজধানীতে চালু হচ্ছে তিন কভিড হাসপাতাল : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. ফরিদ হোসেন মিয়া জানান, মহাখালী বাসস্ট্যান্ডের কাছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মার্কেটে করোনা হাসপাতাল করা হচ্ছে। চালু হতে সাত দিনের মতো সময় লাগবে। ১ হাজার ২০০ বেড হবে। ১০০ বেডের আইসিইউ ও এইচইউডি থাকবে।

এ কর্মকর্তা বলেন, ‘ঢাকার বাইরে সংক্রমণ এত বেশি নয়। বেশি রোগী ঢাকা মহানগরীতে। বেশি চিন্তা এখানকার রোগীদের নিয়ে। প্রথমে ১৫০ বেডের মহানগর জেনারেল হাসপাতাল ও ১০০ বেডের লালকুঠি হাসপাতাল চালু করা হবে। এ দুই হাসপাতালে পাঁচটা করে ১০টা আইসিইউ ও অক্সিজেন থাকবে। এ দুই হাসপাতালও সাত দিনের মধ্যে চালু করা হবে। পরে প্রয়োজন হলে রেলওয়ে হাসপাতাল চালু করা হবে।’

আইসিইউ নিয়ে লুকোচুরি : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গতকালের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের কভিড হাসপাতালগুলোতে মোট আইসিইউ সংখ্যা ৫৯৬টি। গতকাল এসব আইসিইউতে রোগী ভর্তি ছিল ৩৮৩ জন। বাকি ২১৩টি আইসিইউ বেড খালি ছিল। এর মধ্যে ঢাকা মহানগরীর কভিড হাসপাতালগুলোর ৩০৬টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ২৫৬ এবং চট্টগ্রাম মহানগরীতে ৫১টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ২৫ জন। দেশের অন্যান্য স্থানের বাকি ২৩৯টি আইসিইউতে এদিন রোগী ভর্তি ছিল ১০২ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গতকাল ঢাকা মহানগরীতে ৫০টি আইসিইউ বেড খালি ছিল। কিন্তু খোঁজ নিয়ে কোনো হাসপাতালেই আইসিইউ বেড খালি পাওয়ার তথ্য মেলেনি। এসব হাসপাতাল থেকে ‘বেডপূর্ণ’ বলে জানানো হয়েছে। খালি বেডের ব্যাপারে জানা গেছে, এগুলোর কোনোটি নষ্ট, কোনোটিতে আইসিইউ চালানোর মতো লোকবল নেই।

দুই সপ্তাহে আইসিইউ রোগী বেড়েছে ১৩ শতাংশ : শতকরা হিসাবে গতকাল সারা দেশে প্রায় ৬৪ শতাংশ, ঢাকায় ৮৪, চট্টগ্রামে ৪৯ এবং দেশের অন্যান্য স্থানে ৪৩ শতাংশ আইসিইউতে রোগী ভর্তি ছিল। অথচ দুই সপ্তাহ আগে গত ১৯ মার্চ সারা দেশে ৫১, ঢাকায় ৭৩, চট্টগ্রামে ৪৭ ও দেশের অন্যান্য স্থানে মাত্র ২৫ শতাংশ আইসিইউতে রোগী ভর্তি ছিল। হিসাব করে দেখা গেছে, গত দুই সপ্তাহে সারা দেশে আইসিইউতে রোগী বেড়েছে ৩৪ শতাংশ। এছাড়া ঢাকায় বেড়েছে ২৫, চট্টগ্রামে ১৯ এবং দেশের অন্যান্য স্থানে ৭৩ শতাংশ রোগী।

গত বছরের তুলনায় এবার আইসিইউ রোগী বেড়েছে : গত বছরের তুলনায় এবার আইসিইউ রোগী বেড়েছে। গত জুলাইয়ে যখন দেশে করোনার সংক্রমণ সর্বোচ্চ মাত্রায় ছিল, তখনও আইসিইউতে এর চেয়ে কম রোগী ভর্তি ছিল। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ৯ জুলাই সারা দেশের ৩৯৪টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ১৯১ জন। একই সময় ঢাকা মহানগরীতে ১৪২টি আইসিইউর মধ্যে রোগী ভর্তি ছিল ৮৬ এবং চট্টগ্রামে ৩৯টির মধ্যে ২০ জন। আর দেশের অন্যান্য স্থানের ২১৩টি আইসিইউতে রোগী ভর্তি ছিল ৮৫ জন। শতকরা হিসাবে ওই সময় সারা দেশে ৪৮, ঢাকায় ৬১, চট্টগ্রামে ৫১ এবং দেশের অন্যান্য স্থানে ৪০ শতাংশ আইসিইউতে রোগী ভর্তি ছিল।

সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্টের হিসাবে গরমিল : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত প্রায় আট মাসে দেশের কভিড হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা তেমন না বাড়লেও হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা ও অক্সিজেন কনসেনট্রেটর সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়েছে। গত বছর ৯ জুলাই দেশে অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা ছিল ১১ হাজার ৭৬৩টি, হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা ছিল ১৩৬টি এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ছিল ৯৯টি। গতকাল নাগাদ অক্সিজেন সিলিন্ডারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ৫৩৩টি, হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা ৯৯৮ এবং অক্সিজেন কনসেনট্রেটর ৮৭৭টি।

তবে এসব তথ্যের সঙ্গে বাস্তবে মিল নেই। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. ফরিদ হোসেন মিয়া বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে ৩৪০টি হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা মজুদ আছে। সেগুলো আমরা দিয়ে দেব। এগুলোর জন্য সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট লাগবে। আর সারা দেশে হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা আছে ৮০০-এর বেশি। অন্যদিকে সারা দেশে ১২০টি সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। এর মধ্যে ৩০টি এখনো চালু হয়নি। বাকি ৯০টি প্ল্যান্টের মধ্যেও সব চালু হয়নি।’

এ কর্মকর্তা বলেন, ‘কভিড হাসপাতালের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট আছে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মার্কেটের করোনা হাসপাতাল, মহানগর জেনারেল হাসপাতাল ও লালকুঠি হাসপাতালেও সেন্ট্রাল অক্সিজেন বসানোর কাজ চলছে। সাত দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। এছাড়া সব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন আছে।’

সবারই অক্সিজেন লাগছে : মুগদা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডা. অসীম কুমার নাথ বলেন, ‘পরিস্থিতি অনেক বেশি খারাপ। এখন যারা ভর্তি হচ্ছে সবারই অক্সিজেন লাগছে।’ আমরা নিজেরাও অক্সিজেনের প্রয়োজন ছাড়া রোগীদের ভর্তি হতে নিরুৎসাহিত করছি।’ তিনি জানান, এ হাসপাতালে রোগী ভর্তি থাকে ৩৩০ জন। তাদের মধ্যে ৩০ জনকেই হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা দিতে হয়। অর্থাৎ মোট রোগীর ১০ শতাংশের হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা লাগছে। এখানে ১৯টি আইসিইউ আছে। ৯ মার্চ থেকে প্রতিদিনই ভরা থাকছে।

এ কর্মকর্তা বলেন, ‘চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় যতই পরিবর্তন আনেন, তা দিয়েও হবে না। হাসপাতালের বেড বাড়িয়ে সমাধান করা যাবে না। দুই বছরের অভিজ্ঞতায় দেখেছি, খেটে খাওয়া মানুষ আক্রান্ত হলেও তাদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার হার অনেক কম। হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত শ্রেণির মানুষ। এদেরই জটিল অবস্থা হচ্ছে। তাই যাদের দুই সপ্তাহ কাজ না করে ঘরে বসে খাওয়ার সামর্থ্য আছে, তারা দয়া করে ঘরে থাকলেও রোগটা নিয়ন্ত্রণে আসে। হাসপাতালে এরকম চাপও হতো না। সংক্রমণের গতিটা একটু নিয়ন্ত্রণে এলে হাসপাতালগুলো শ্বাস নেওয়ার সুযোগ পাবে। এখন তো আমরা শ্বাস নেওয়ার সুযোগও পাচ্ছি না।’

চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়াতে হবে : মুগদা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডা. অসীম কুমার নাথ বলেন, ‘চিকিৎসায় আমাদের যে সামর্থ্য, সেটার পুরোটাই ব্যবহার করছি। আরও চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। সেটা না হলে বর্তমানে যে সক্ষমতা আছে, সেটা দিয়ে সবার সেবা দেওয়া সম্ভব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে মুগদা জেনারেল হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা হাসপাতাল, কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতাল, গ্যাস্ট্রোলিভার, সরকারি কর্মচারি সব হাসপাতালে সক্ষমতার পুরোটা ব্যবহার করছে। রোগীর চাপ সামাল দিতে এসব হাসপাতালের সক্ষমতা আর বাড়ানো সম্ভব নয়। ডেডিকেটেড হাসপাতাল শেষ। এমনকি ঢাকার বাইরে বিভাগীয় সরকারি হাসপাতালগুলোর অবস্থা ঢাকার মতো না হলেও রোগীর চাপ প্রায় কাছাকাছি। চিকিৎসা ব্যবস্থার সম্প্রসারণ করতে হবে।’

২০ শতাংশের হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা লাগছে : শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. খলিলুর রহমান বলেন, ‘গত বছরের তুলনায় আইসিইউ, অক্সিজেন ও হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার চাহিদা বেড়েছে। মোট রোগীর ২০ শতাংশের মতো হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা লাগছে। কিন্তু বাকি সবার অর্থাৎ ৮০ শতাংশ রোগীর অক্সিজেন লাগছে। যত রোগী আসছে, সবারই অক্সিজেন দিচ্ছি। প্রায় সব রোগীই শ্বাসকষ্ট নিয়ে আসছে। প্রথমে তাদের অক্সিজেন সাপোর্ট দিই। যখন দেখি স্যাচুরেশন ৯০-৯৫ শতাংশ হয়, তখন আর অক্সিজেন দিই না।’

এ কর্মকর্তা জানান, এ হাসপাতালে ২১টার মতো হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা আছে। করোনা রোগীদের জন্য বেড ১৫০টি। সব বেডেই রোগী।

হাসপাতালের পরিচালক বলেন, ‘সংক্রমণ হার বেশি। পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে তাতে গোটা হাসপাতাল করোনার জন্য খুলে দিলেও কাজ হবে না। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বিদ্যমান চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় কাজ হবে না। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য দরকার স্বাস্থ্যবিধি মানা। মাস্ক পরা। সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা। লক্ষণহীন রোগী অনেক। অনেকে উপসর্গ গোপন করে। অথচ এসব রোগী ঘোরাঘুরি করলে রোগটা আরও ছড়িয়ে পড়বে। কারও পজিটিভ হলে তার সঙ্গে সঙ্গেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। তা না হলে জটিল অবস্থায় হাসপাতালে এলে তখন আর কিছু করার থাকে না।’

হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলার সংকট : ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. নাজমুল হক বলেন, ‘এখন সাধারণ অবস্থায় কেউ আসে না। অক্সিজেন স্যাচুরেশন কমে গেলে আসে। আমরা প্রথমেই অক্সিজেন দিই। ওয়ার্ডে ৭০০ রোগী আছে। তাদের মধ্যে ২০০-৩০০ রোগীকে সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইন থেকে ১৫ লিটার অক্সিজেন দিলেই ভালো থাকে। তারা ভালো হয়ে চলে যায়। বাকি ১২০-১৫০ রোগীকে অক্সিজেনের সঙ্গে হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা দিতে হয়। ১০টি ওয়ার্ডে ৩০-৩৫টি হাই-ফ্লো রাখতে পেরেছি। প্রতিটি ওয়ার্ডে তিন-চারটি করে ক্যানুলা। প্রত্যেক ওয়ার্ডে ৬০ জন করে রোগী থাকে। এ ৬০ রোগীর মধ্যে ৩০ জনের সাধারণ অক্সিজেনেই চলে, বাকি ১৫-২০ রোগীর হাই-ফ্লো অক্সিজেন দরকার হয়। আমরা দিতে পারছি না। যা আছে, সেটা দিয়ে হচ্ছে না। কারণ সব ক্রিটিক্যাল রোগী আসছে। ১৫ দিন আগেও একটা ওয়ার্ডে তিন-চারজনের হাই-ফ্লো অক্সিজেন লাগত। এখন ওয়ার্ডে সাধারণ রোগী নেই। সবই খারাপ রোগী। অবস্থা এভাবে চলতে থাকলে আর কয়েক দিন পর ৭০০ রোগীর সবার হাই-ফ্লো অক্সিজেন লাগবে।’

এ পরিচালক বলেন, ‘যখন হাই-ফ্লো দিয়েও হয় না, তখন তাদের এইচডিইউ (হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট) বেডে নিয়ে যাই। সেখানে ৪০টি বেড আছে। সেখানে হাই-ফ্লোর পাশাপাশি আরও কিছু সুযোগ-সুবিধা রেখেছি। সেখানেও স্যাচুরেশন কমে ৬০ হয়ে গেলে, তখন তাকে আইসিইউতে নেওয়ার চেষ্টা করি। সেখানে ২০টি বেড আছে।’

এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘এখানে ওয়ার্ডে রোগী বেশি মারা যাচ্ছে না। এখানে যারা খুব খারাপ অবস্থায় ৪০-৫০ শতাংশ স্যাচুরেশন নিয়ে আসছে, ফুসফুসের অবস্থা খুব খারাপ, তার জন্য এইচডিইউ বেড খালি করতে কিছু রোগী মারা যাচ্ছে। এ সংখ্যা খুবই কম। এইচডিইউতে মৃত্যুও খুবই কম। সারাদিন দুয়েকজন মারা যাচ্ছে। তারা মারা যাচ্ছে আইসিইউতে নিতে পারছি না বা রোগী অন্য কোথাও যেতেও পারছে না। এমন রোগী দুয়েকজন মারা যাচ্ছে। সর্বোচ্চ ১০০ লিটার অক্সিজেন দিচ্ছি। কিন্তু তারপরও তার স্যাচুরেশন ৫০-এর ওপর উঠে না। তার ফুসফুসই কাজ করে না। অক্সিজেন ধরার মতো ন্যূনতম সামর্থ্যও নেই। এসব রোগীর আইসিইউতে নিয়ে গেলে দুই-পাঁচ দিন বাঁচিয়ে রাখতে পারি।’

আইসিইউ লাগছে ৩০ শতাংশের : বেসরকারি হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতাল করোনার শুরু থেকেই রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছে। এ হাসপাতালের প্রিভেন্টিভ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, ‘এবার করোনা সংক্রমণের তীব্রতা আগের চেয়ে বেশি। অধিকাংশ রোগীর অক্সিজেন লাগছে। আর আগে প্রতি ১০ জনে একজনের আইসিইউ লাগত, এখন লাগছে তিনজনের। এবার বয়স্কদের সঙ্গে তরুণরাও আক্রান্ত হচ্ছে। কেউ কেউ মনে করেছেন করোনা আর আসবে না। তাই কভিড আইসিইউর সংখ্যাও কমিয়ে ফেলা হয়েছে। আর করোনাকে আমরা সবাই মিলে অবহেলা করেছি।’ – দেশ রূপান্তর

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত