প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] দেবিদ্বারে বাঙ্গি’র বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে হাসি

শাহিদুল ইসলাম: [২] গ্রীষ্মকালীন ফল বাঙ্গি। প্রচণ্ড গরমে বাঙ্গি প্রাণে এনে দেয় স্বস্তি। গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশের প্রায় সব এলাকায় বাঙ্গি জন্মে। শরীর ঠাণ্ডা রাখতে তরমুজের পর বাঙ্গি দ্বিতীয় তালিকায় রয়েছে। বাঙ্গিগাছ দেখতে অনেকটা শসা গাছের মতো, লতানো।

[৩] দেবিদ্বার উপজেলার গুনাইঘর (দঃ) ইউনিয়নের শাকতলা এবং ধামতী উত্তর পাড়া মাঠ জুরে গত ৪০ বছর ধরে এবং দেবিদ্বারের আনাচে-কানাচে প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে বাঙ্গি চাষ করছেন প্রায় শতাধীক কৃষক। স্থানীয় বাঙ্গি চাষিরা জানায়, কম পুঁজিতে বেশী মুনাফা ও প্রচুর ফলন হওয়ার কারণে প্রতি বছর তারা বাঙ্গির চাষ করে আসছে।

[৪] এ দুটি গ্রাম এখন মৌসুমী ফল বাঙ্গির জন্য বিখ্যাত অঞ্চলে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া ধামতী ও আশপাশের এলাকার কৃষি জমি বাঙ্গির চাষের জন্য খুবই উপযোগী। তাই জীবন জীবিকার জন্য প্রধান ফসল হিসেবে এখানে ৪০ বছর ধরে বাঙ্গি চাষ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন অনেক কৃষক।

[৫] অনেকে কাঁচা বাঙ্গি সবজি হিসেবে রান্না করে খেয়ে থাকে। ফল পাকলে হলুদ রঙ ধারণ করে। বাঙ্গি মূলত পাকা ফলের সুমিষ্ট সৌরভের কারণে বিখ্যাত। একটু বেশি পেকে গেলে বাঙ্গি ফেটে যায়। তাই অধিকাংশ বাঙ্গিকে ফাটা দেখতে পাওয়া যায়। ফলের ওজন এক থেকে চার কেজি পর্যন্ত হতে পারে। এটি চাষের খরচ তুলনামূলক কম, আয় বেশি। তাই চাষিরা বাঙ্গি চাষে বেশ আগ্রহী।

[৬] কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা পরামর্শ দিতেও আসেন না,আর এই এলাকার (উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ) কে তাকেও আমরা চিনিনা। আমরা সরকারের কাছ থেকে কোন প্রকার সহযোগিতাই পাইনা। আমাদের বাঙ্গি আশে পাশের উপজেলার বাজার গুলোতে প্রচুর সুনাম রয়েছে। আমাদের এলাকার কৃষকরা খুবই পরিশ্রমী যার কারণে এত ভালো ফল উৎপাদন করা সম্ভব হয়। এখানে প্রধানত দুই জাতের বাঙ্গি করি।

[৭] বেলে ও এঁটেল বাঙ্গি। বেলে বাঙ্গির শাঁস নরম। খোসা খুব পাতলা, শাঁস খেতে বালি বালি লাগে। তেমন মিষ্টি নয়। অন্যদিকে এঁটেল বাঙ্গির শাঁস কচকচে, একটু শক্ত ও তুলনামূলক বেশি মিষ্টি। এবার ও গতবার ভালো দামে বাঙ্গি বিক্রি হয়েছে । বাঙ্গি চাষের জন্য শুষ্ক ও উষ্ণ জলবায়ু সবচেয়ে উপযোগী। উর্বর বেলে দোআঁশ ও পলি মাটি বাঙ্গি চাষের জন্য সর্বোত্তম।

[৮] ৬০ বছর বয়সী কৃষক আঃ সালাম বলেন, ‘এবার তিন বিঘা জমিতে বাঙ্গির চাষ করেছি। সবমিলিয়ে প্রায় চল্লিশ হাজার টাকা মতো খরচ হয়েছে। এখন পর্যন্ত এক লক্ষ বিশ হাজার টাকার বাঙ্গি বিক্রি করেছি। আরো প্রায় ৮/১০ হাজার টাকার বাঙ্গি এখনো মাঠে রয়েছে।

[৯] অপর কৃষক ধামতী উত্তর পাড়া শরিফ বলেন, ‘আমাদের বাঙ্গি বীজ নিজেরাই সংগ্রহ করে রাখি পরবর্তী বছরের জন্য। গতবছর বৃষ্টি ও শীল পড়াতে বাঙ্গি চাষে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল। তবে চলতি বছরে বাঙ্গির উৎপাদন থেকে প্রচুর লাভ হয়েছে।

[১০] আব্দুল কাইয়ূম (উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ) কৃষকরা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের অভিযোগ পুরেরাপুরি সঠিক নয়। এই ফসলটির জন্য সরকারী কোন প্রনোদনা বা সহায়তা নেই,তবে কোন কৃষক পরামর্শ চাইলে আমরা তা দিয়ে থাকি।

[১১] দেবিদ্বার উপজেলরা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সইদুজ্জামান জিহাদ বলেন, এতো পরিমানে বাঙ্গী চাষ এর আগে দেবিদ্বারে দেখা যায়নি এবং এবার যেহেতু ফলন ভাল আর কৃষকরা লাভের মুখ দেখছেন সেহেতু আগামীতে এর চাষের ব্যপ্তি স্বাভাবিক ভাবেই বাড়বে। তাই আমরা আগামী বছর বাঙ্গী চাষে সর্বোচ্চ পরামর্শ,সরকারী প্রণোদনা এবং সর্বপ্রকার খোজ খবর নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। সম্পাদনা: সাদেক আলী

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত