প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

[১] লাভজনক ফসল হওয়ায় আদমদীঘিতে গম চাষে আগ্রহ বাড়ছে

আমিনুল জুয়েল:[২] গম আমাদের দ্বিতীয় খাদ্যশস্য। অন্যান্য খাদ্যের তুলনায় গমের পুষ্টিমান অত্যন্ত বেশি। আর বিভিন্ন খাদ্য তৈরিতে এর রয়েছে বহুবিদ ব্যবহার। গম চাষে পানি কম লাগে, রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম এবং পরিবেশবান্ধব হওয়ায় শীতকালীন অন্যান্য ফসলের তুলনায় গম আবাদ সুবিধাজনক।

[৩] অল্প শ্রম আর স্বল্প ব্যয়ে অধিক ফলন হওয়ায় বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার কৃষকরা গম চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে গম চাষ হয়েছে। আবদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৮০ মেট্রিক টন।

[৪] এই উপজেলায় বিশেষকরে বারি-২৯, বারি-৩০ এবং বারি-৩৩ জাতের গম চাষ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি গম আবাদ হয়েছে সান্তাহার ও ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নে। এছাড়াও অন্যান্য ইউনিয়নে শখের বশে অনেকেই গম চাষ করেছেন।

[৫] কৃষকরা জানান, ধানের চেয়ে গম চাষে খরচ কম এবং এ ফসল উৎপাদন করতে শ্রমও কম লাগে। এছাড়াও, পানি সেচ, বালাইনাশক খুবই অল্প পরিমাণে দিতে হয়। প্রতি বিঘা জমিতে গম চাষে খরচ হয় প্রায় পাঁচ থেকে সাড়ে ছয় হাজার টাকা। ফলন ভালো হলে এক বিঘা জমিতে ১২ থেকে ১৫ মণ গম ঘরে উঠে।

[৬] প্রান্নাথপুর গ্রামের গমচাষী জিল্লুর রহমান বলেন, এক সময় এই এলাকায় কম পরিমাণ জমিতে গম চাষ হতো। এখন অনেকেই লাভের আশায় গম চাষ করছেন। ধান চাষে বার বার লোকসান হওয়ায় অনেক কৃষকই এখন উন্নত জাতের গম চাষ করছেন।

[৭] এতে করে নিজেদের চাহিদা পূরণ করে বাকিটা বাজারে বিক্রি করে অধিক লাভবান হওয়া যায়। আশা করছি, চলতি মৌসুমে গমের বাম্পার ভালো ফলন পাবো।

[৮] কৃষি অফিসের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকতা কাঞ্চন জানান, চলতি বছরে সান্তাহার ইউনিয়নে রেকর্ড পরিমাণ জমিতে গম চাষ হয়েছে। এরমধ্যে-তারাপুর, রক্তদহ বিল, ছাতনী-ঢেঁকড়া, হেলালিয়া, পানলা, প্রান্নাথপুর ও ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কৃষকরা বেশি গম চাষ করেন। গম কাটার পর ওসব জমিতে আবার পাটের আবাদ করা হবে।

[৯]  এব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মিঠু চন্দ্র অধিকারী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশেই গম প্রধান খাদ্য। গম অধিক পুষ্টিকর ও শক্তিশালী খাদ্যপণ্য। এই উপজেলায় গমের চাষ কম হয়েছে।

[১০]  তবে লাভজনক ফসল হওয়ায় অনেকেই গম চাষ করছেন। এই এলাকায় আগের তুলনায় এখন বেশি পরিমাণ জমিতে গম চাষ হচ্ছে। ভবিষ্যতে গমের চাষ এই উপজেলায় বৃদ্ধি পাবে বলেও আশ্বাস দেন এই কৃষি কর্মকর্তা।সম্পাদনা:অনন্যা আফরিন

 

সর্বাধিক পঠিত