প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

এক মাসে চার গুন বেড়েছে লেবুর দাম!

ডেস্ক রিপোর্ট: রমজানের আগেই বাজারগুলোতে ঊর্ধ্বমুখী নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম। প্রতিদিনই জিনিসপত্রের দাম যেনো বেড়েই চলছে। উৎপাদন সংকট কিংবা সরবরাহের না থাকার অজুহাত দেখিয়েই একদিনের ব্যবধানেই দাম বাড়ছে মুহূর্তেই। এই সংকটের নতুন করে নাম লিখিয়েছে লেবু।

নেত্রকোনার দুর্গাপুরের বাজারগুলোতে ১ কেজি চালের থেকেও এক হালি লেবুর দাম বেশি। বড় আকারের এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০/৬৫ টাকায় আর ছোট গুলো ৫০/৫৫ টাকা দরে। যেখানে ১ কেজি চিকন চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৪/৫৬ টাকায়। এক মাস আগেও যে লেবু বিক্রি হয়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা হালি দরে সেই লেবুর অস্বাভাবিক দামে কাছেই ভীরতে পারছেন না ক্রেতারা। তবে দোকানিরা বলছে গত কিছুদিন আগেও লেবু বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকা দরে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কিছুটা কমে এখন ৫০/৬০ টাকায় উঠানামা করছে লেবু।

এদিকে পৌর শহরের মাছুয়া বাজারে লেবুর দেখা মিললেও শিবগঞ্জ, উৎরাই বাজারসহ উপজেলার অন্যান্য বাজারে তেমন একটা লেবুর দেখা মিলছে না। হঠাৎ বাজারে কয়েক হালি আসলেও ভাগ্যে জুটেছে গুটি কয়েকজনের। মূলত স্থানীয়ভাবে লেবুর আবাদ না হওয়ায় আমদানি করার লেবুতেই মিটছে স্থানীয় চাহিদা । পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকে শুকনো এই মৌসুমে সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে লেবুর।

তাছাড়া আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে দেখা দিচ্ছে জ্বর, সর্দি, গলা ব্যথাসহ নানা রকম রোগ। তাই চিকিৎসকরাও প্রতিনিয়ত খাদ্যাভ্যাসের ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার যেমন লেবু রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন। তাই অনেকেরই লেবুর প্রতি বেড়েছে চাহিদা।

মিলন হোসেন নামের এক ক্রেতা জানান, বাজারে এখনও শীতকালীন শাক সবজি থাকলেও কিছু কিছু সবজির দাম দিনকে দিন বেড়েই যাচ্ছে । মধ্যবিত্তরা অল্প অল্প করে কিনে খেতে পারলেও নিম্নবিত্তদের অনেক সবজি খাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে। এরমধ্যে লেবু একটি। এক-দেড় মাস ধরে লেবুর দাম অনেক বেশি। আগে যেখানে ৩/৪ হালি করে কিনতাম এখন দামের কারণে এক হালি কিংবা এরও কম কিনছি। এছাড়া তেল, ডাল, চিনির দামও দিনদিন বেড়েই যাচ্ছে।

সবজি বিক্রেতা পরিতোষ পাল জানান, স্থানীয়ভাবে লেবুর চাষ না হওয়ায় আমরা বাইরে থেকে লেবু এনে এখানকার চাহিদা মিটাই। কিন্তু এখন বাইরের লেবুগুলোও ঢাকা-ময়মনসিংহ চলে যাচ্ছে যার ফলে বেশি দাম দিয়ে আমরা লেবু পাচ্ছি না। তবে আশা করি কিছুদিনের মধ্যেই লেবুর বাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে চলে আসবে।

ইউএনও রাজিব উল আহসান জানান, দ্রব্যমূল্যের বাজার নিয়ন্ত্রণে আমাদের নিয়মিত বাজার মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে। এছাড়াও সামনে পবিত্র রমজান। আমরা রমজানকে সামনে রেখেই দ্রব্যমূল্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের বাজার নিয়মিতই মনিটরিংয়ের জন্য মোবাইল কোর্ট থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। যাতে করে সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবেই বাজারগুলো থেকে কেনাকাটা করতে পারে।

সূত্র: ডেইলি বাংলাদেশ

সর্বাধিক পঠিত