শিরোনাম
◈ আমন মৌসুমে সাড়ে ৮ লাখ টন ধান-চাল কিনবে সরকার, ধানের দাম ৩৫ টাকা কেজি ◈ দুর্নীতির কারণে কার্যকারিতা হারিয়েছে অনেক সমবায় সমিতি, স্বচ্ছতা নিশ্চিতের তাগিদ রাষ্ট্রপতির ◈ সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক ◈ উৎপাদন এলাকায় কম, ঢাকায় কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে শীতের সবজি ◈ লিও‌নেল মে‌সি আবারও গোল্ডেন বুট জিতলেন ◈ এমবাপ্পের টানা সপ্তম ম্যাচে গোল, ভ্যালেন্সিয়াকে উড়িয়ে দিলো রিয়াল মা‌দ্রিদ ◈ ফরেস্টের কাছে হেরে হ্যাটট্রিক হারের লজ্জায় ম‌্যান‌চেস্টার সিটি ◈ বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্ক জোরদারে তিন দিনের সফরে ঢাকায় আসছেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য ডাচেস সোফি ◈ সৌদি আরবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা, ধ্বংস করল আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ◈ বন্দি বিনিময় চুক্তিতে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে: আইনমন্ত্রী

প্রকাশিত : ৩০ মার্চ, ২০২১, ০৬:৩২ বিকাল
আপডেট : ৩০ মার্চ, ২০২১, ০৬:৩২ বিকাল

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

[১] নতুন জাতের চায়ে, নতুন সম্ভাবনার হাতছানি

স্বপন দেব : [২] এদেশের চা প্রেমিরা ‘ব্ল্যাক টি’ ও ‘গ্রিণ টি’র স্বাদ পেয়েছেন। এবার তাদের জন্য আরোও দুটি স্বাদের চা উৎপাদন হচ্ছে। এ চা স্বাস্থ্যের জন্যও বেশ উপকারি।

[৩] সিলেটের হবিগঞ্জ জেলার বৃন্দাবন বাগানের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ এবার চা প্রেমিদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন ভিন্ন রঙ ও স্বাদের চায়ের আরও দুটি জাতের সাথে।

[৪] দীর্ঘদিনের গবেষণাকে কাজে লাগিয়ে এবার বাগান কর্তৃপক্ষ উৎপাদন করছে ‘হোয়াইট’ ও ‘ইয়েলো টি’। নতুন এই দুটি জাত চা শিল্পকে নতুন সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। ‘ব্ল্যাক’ ও ‘গ্রিণ টি’র কয়েকগুণ বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছে নতুন জাতের এ দুটি চায়ে।

[৫] চা বাগানের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া শুরুতে বাণিজ্যিকভাবে এই চা উৎপাদন সম্ভব হবে না। তবে সফলভাবে এ চা উৎপাদন করা গেলে দেশে ও বিদেশে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। আর রফতানির মাধ্যমে আয় করা যাবে বৈদেশিক মূদ্রা।

[৬] চা বাগান সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশের অভ্যন্তরে দিন দিন চায়ের চাহিদা বাড়ছে। একই সাথে মানুষ ‘ব্ল্যাক টি’র পাশাপাশি ভিন্ন স্বাদের চায়ের দিকে ঝুঁকছে চা প্রেমিরা।

[৭] ভোক্তাদের চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে হবিগঞ্জের বৃন্দাবন বাগানে এবছর উৎপাদন করা হয় ‘ইয়েলো টি’ বা ‘হলুদ চা’। বাংলাদেশে এ চা খুব বেশি পরিচিত না হলেও বিদেশে রয়েছে এর ব্যাপক চাহিদা।

[৮] হবিগঞ্জের বৃন্দাবন চা বাগানে উৎপাদিন ‘ইয়েলো টি’ গত ১৫ মার্চ চট্টগ্রাম চা নিলাম কেন্দ্রে অকশনে তুলে পূর্ববাংলা ব্রোকার্স। পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদিত চায়ের পুরো লটটি প্রতি কেজি ৮ হাজার ৩শ’ টাকা দামে কিনে নেয় শ্রীমঙ্গলের গুপ্ত টি হাউজ।

[৯] পরে ১৮ মার্চ শ্রীমঙ্গল নিলাম কেন্দ্রে একই বাগানে উৎপাদিত ‘ইয়েলো টি’ বিক্রি হয় ১২ হাজার ২শ’ টাকা কেজি দরে। দেশের ১৬০ বছরের চায়ের ইতিহাসে এটাই চায়ের সর্বোচ্চ দাম বলছেন শ্রীমঙ্গল টি ব্রোকার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হেলাল আহম্মদ।

[১০] ২০১৮ সালে শ্রীমঙ্গল নিলাম কেন্দ্রের প্রথম নিলামে ইস্পানির বিশেষ মানের চা বিক্রি হয়েছিল ১১ হাজার টাকা কেজি দরে।
বৃন্দাবন চা বাগানের ব্যবস্থাপক নাসির উদ্দিন খান জানান, চা প্রেমিরা সবসময় ভিন্ন স্বাদ চান। স্বাস্থ্য সচেতনরা ব্ল্যাক টি’র পরিবর্তে ‘গ্রিণ টি’, ‘ইয়োলো টি’ ও ‘হোয়াইট টি’ বেশি পছন্দ করেন। ভোক্তাদের চাহিদার কথা চিন্তা করে পরীক্ষামূলকভাবে বাণিজ্যিকভাবে ‘ইয়েলো টি’ উৎপাদন করা হয়েছে। বাজারে এরকম চায়ের চাহিদাও রয়েছে।

[১১] তিনি আরও জানান, বিশে^র মধ্যে কোরিয়া ও চীনে ‘ইয়েলো টি’ উৎপাদিত হয়। তৃতীয় দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশেষ জাতের এই চা উৎপাদন করেছে। বৃন্দাবন চা বাগান দেশের মধ্যে প্রথম এই চা উৎপাদন করেছে। বিশে^ চায়ের বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে নতুন স্বাদ ও গন্ধের চা উৎপাদনের বিকল্প নেই। এই চিন্তা থেকেই এ চা উৎপাদন করা হয়েছে। বাগানে উৎপাদিত ‘ইয়েলো টি’ আমেরিকাসহ উন্নত বিশে^র দেশগুলোতে রফতানির পরিকল্পনার কথাও জানান নাসির উদ্দিন খান।

[১২] ইয়েলো ক্যানসার প্রতিরোধক এবং হার্টের রোগ দূর করতে ভালো ভূমিকা রাখে বলেও মতামত দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। হার্টে ব্লক থাকলে এই চা নিয়মিত পানের ফলে সেই ব্লক ছুটে যায় বলেও বিশেষজ্ঞরা অভিমত দিয়েছেন।

[১৩] এদিকে, ‘ইয়েলো টি’র মতো সারাদেশে সাড়া ফেলেছে ‘হোয়াইট টি’। বিশেষ জাতের এই চাও উৎপাদিত হচ্ছে হবিগঞ্জের বৃন্দাবন চা বাগান। গত ৩ ফেব্রুয়ারি শ্রীমঙ্গল নিলাম কেন্দ্রে সিলভার নিডেল গ্রেডের ‘হোয়াইট টি’ নিলামে প্রতি কেজি বিক্রি হয়েছে ৫ হাজার ১০ টাকা দরে।

[১৪] বাংলাদেশ চা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ‘হোয়াইট টি’ ক্যামেলিয়া সাইনেসিস থেকে উৎপন্ন হয়। চীনে প্রথম এই চা চাষ করা হয়েছিল। অতি সম্প্রতি এটি পূর্ব নেপাল, তাইওয়ান, উত্তর থাইল্যান্ড, গল (দক্ষিণ শ্রীলংকা) এবং ভারতে উৎপাদন করা হচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশেও এর উৎপাদন শুরু হয়েছে।

[১৫] সাদা চা ক্যামেলিয়া সাইনেসিস নামক গাছের কুঁড়ি এবং পাতা থেকে তৈরি করা হয়। পাতা এবং গাছের কুঁড়িকে সূর্যের তাপে বিবর্ণ করা এবং শুকানো হয়। সাধারণ চা বা ব্লাক-টি’র চেয়ে গ্রিণ-টি’র মধ্যে চারগুণ মানবদেহের উপকারী ‘অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট’ থাকে। আর হোয়াইট-টিতে গ্রিন-টি’র চেয়েও তিনগুণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে।

[১৬] ‘ইয়েলো’ ও ‘হোয়াইট’ টি’র চাহিদা ও বাজার মূল্য বেশি হলেও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া দেশের বড় বাগানগুলোতে এটি উৎপাদন সম্ভব নয় বলে মনে করেন বাগান সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন উন্নত জাতের এই চা উৎপাদনে খরচ বেশি। প্রক্রিয়াজাত করতে হয় ম্যানুয়েলি। তাই শুরুতে এ চা উৎপাদনে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা খুব বেশি প্রয়োজন। সম্পাদনা: জেরিন আহমেদ

  • সর্বশেষ