শিরোনাম
◈ সেঞ্চু‌রি না পে‌য়ে হতাশ শান্ত ও মুশফিক, আফগা‌নিস্তা‌নের বিরু‌দ্ধে চালকের আসনে বাংলাদেশ ◈ বিএনপিতে অপকর্মে জড়ালে ছাড় নয়, চাঁদাবাজি-দখলদারির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: এমপিদের কড়া বার্তা প্রধানমন্ত্রীর ◈ নাটোর রেলস্টেশন থেকে জার্মান পর্যটকের চুরি হওয়া ল্যাপটপটি উদ্ধার (ভিডিও) ◈ নানা পাটেকরের কীভাবে মৃত্যু হয়েছিল? ময়নাতদন্তে যা জানা গেল ◈ রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের হামলা, যাত্রী টার্মিনালে আগুন; ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত ফ্লাইট স্থগিত ◈ গরুর মাংসের কেজি ২৫০ টাকা করতে জীবিত গরু ও হালাল মাংস আমদানির দাবি ◈ সরকারিভাবে এখন থেকে পালিত হবে ৯২টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস ◈ ব্যবসার জন্য স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি যৌতুক নয়, হাইকোর্টে খালাস পেলেন দণ্ডপ্রাপ্ত স্বামী ◈ কন্যাশিশুর শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ◈ মেগা প্রকল্প নয়, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভিত্তি হোক পারস্পরিক মর্যাদা ও জনস্বার্থ: রিয়াজ হামিদুল্লাহ

প্রকাশিত : ৩০ মার্চ, ২০২১, ১০:১৪ দুপুর
আপডেট : ৩০ মার্চ, ২০২১, ১০:১৫ দুপুর

প্রতিবেদক : নিউজ ডেস্ক

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হচ্ছেটা কি?

ড. শোয়েব সাঈদ, এটি ভীষণ বিব্রতকর যে আমার এই জন্মশহরটি বারবারই নেতিবাচক সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে। গত কয়েকদিনে এই শহরটি যেভাবে জ্বলে-পুরে লণ্ডভণ্ড হল তা নজিরবিহীন। পৌরভবন, সরকারি অফিস, উপাসানালয় কিছুই বাদ যায়নি। সাময়িক তথ্য সংকোচনের পর আস্তে আস্তে অনেক তথ্য সামনে আসছে।

ফখরে বাঙ্গাল মাওলানা তাজুল ইসলাম, সুর সম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, ভাষা সৈনিক এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে জীবনদানকারী ধীরেন্দ্র নাথ দত্তের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এই পরিণতি তো আমরা চাইনি।

এই শহরে বেঁড়ে উঠা মানুষগুলোর নিশ্চয় জানা আছে স্পর্শকাতরতার পকেটগুলো। জন্ম থেকে বেঁড়ে উঠার শহরটির প্রতি মায়া থাকলে সংযত হয়ে যেমন শহরটি রক্ষা করা যায় আবার তেমনি বদ মতলবে জায়গামত উস্কানি দিয়ে সব কিছু তছনছ করা যায়।

হুব্বুল ওয়াতান মিনাল ঈমান। মক্কা ছেড়ে মদিনায় যাবার সময় রসুলুল্লাহ (সঃ) বারবার জন্ম শহর মক্কার দিকে তাকাচ্ছিলেন। মক্কা বিজয়ের পর শহরটিকে শান্তিপূর্ণ রাখার সব চেষ্টাই করেছিলেন। মানুষ মাত্রই নিজ এলাকার প্রতি প্রবল মমতার একটি অনুভূতি সক্রিয় থাকে। উচ্চশিক্ষার জন্যে প্রথম যখন শহরটি ছেড়ে যাই, ঢাকাগামী ট্রেনে বসে সেই দিনের অনুভূতি আজও মনে আছে। নিজের শহরটিকে এভাবে আঘাত করে ধার্মিক হওয়া যায় না।

মোদিবিরোধী বিক্ষোভে কেন এত জ্বলে উঠলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া? কিছু পত্রিকায় এই প্রশ্নটি এসেছে। বাংলাদেশের এত জেলা বাদ দিয়ে কেন জ্বলতে হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে এটি আমারও প্রশ্ন?

ধর্মীয় উস্কানী/ধর্মান্ধতা, রাজনৈতিক মতলববাজি কিংবা আগরতলার সীমান্তের কাছ থেকে সুদূর পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের জটিল হিসেবনিকেশের ঊর্ধ্বে সত্যটি হচ্ছে “আমরা বিব্রত”।

অসাম্প্রদায়িক চেতনার শান্তিপূর্ণ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার চিরায়ত ঐতিহ্যের কাছে আমরা ফিরে যেতে চাই। ইনাফ ইস ইনাফ।

এই শহরের প্রভাবশালী মানুষগুলো জাতীয় পর্যায়ে বা শহরকেন্দ্রিক যে অবস্থায় থাকুক না কেন, কিছু একটা করার সময় এসেছে। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ঘটনা ঘটার পর শুধু তদন্ত কমিটির রিপোর্টে প্রশাসনিক ব্যর্থতা বের করার চাইতে বেশী প্রয়োজন মূল কারণটি এড্রেস করা অর্থাৎ রাজনৈতিক, ধর্মীয় আর সামাজিক ক্ষতগুলোকে চিহ্নিত করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা। ক্ষতগুলো ম্যালিগন্যান্ট হবার আগেই আমাদের বাঁচতে হবে, ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে বাঁচাতে হবে।

ঐতিহ্যগতভাবে সংকটকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রাজনৈতিক আর ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের কমান্ডের অর্থাৎ জনতাকে শান্ত রাখবার সক্ষমতার দীর্ঘ ইতিহাস আছে। নেতৃত্বের সেই ঐতিহ্যটি কি হারিয়ে যাচ্ছে?

নির্মম সত্যটা হচ্ছে এই সমস্ত ঘটনায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হন তাঁরা চিরকালের মত ক্ষতি গহ্বরেই থেকে যান, বের হতে পারেন না। আর যারা লাভবান হন, ধর্ম আর রাজনীতিকে মাড়িয়ে লাভের আশায় আরেকটি অঘটনের জন্যে মুখিয়ে থাকেন।

  • সর্বশেষ